খাগড়াছড়িতে ভারী বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দুই সড়কে যান চলাচল বন্ধ
২২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
খাগড়াছড়িতে ভারী বৃষ্টিতে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি শহরের বিভিন্ন এলাকা ও দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি ও ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্ধ রয়েছে দীঘিনালা-সাজেক ও দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল।
খাগড়াছড়ি আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আকস্মিক ভারী বৃষ্টির কারণে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপদসীমা অতিক্রম করে।
পানি বেড়ে খাগড়াছড়ি শহরের কাঁচাবাজার, মুসলিমপাড়া, গরুর বাজার, শান্তিনগর ও খাগড়াছড়ি গেটসংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দীঘিনালার মেরুং, কবাখালী ও বেয়োলখালী এলাকার নিচু অঞ্চলও পানিতে তলিয়ে গেছে। দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে।
আকস্মিক বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অনেকে আশপাশের স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে, সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় দীঘিনালা থেকে সাজেক এবং দীঘিনালা থেকে লংগদু উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুই রুটে চলাচলকারী মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, শুক্রবার গভীর রাতে কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণে খাগড়াছড়ি শহর, আশপাশের এলাকা ও দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সকাল থেকেই জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য সকাল থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতায় নারী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সরকারি তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, এটি আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডের কারণে সৃষ্ট সাময়িক পরিস্থিতি। বিকেলের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, দীঘিনালা সড়কের ৮ মাইল ও ৯ মাইল এলাকার মাঝামাঝি পাহাড় ধসে সাময়িকভাবে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহযোগিতায় ধসে পড়া মাটি সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে দীঘিনালা বিদ্যুৎ অফিস তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, উপজেলার সব ফিডার বর্তমানে চালু ও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে লংগদু ৩৩ কেভি লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ওই সংযোগে সাময়িক সমস্যা হচ্ছে। ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যুৎ অফিস আরও জানায়, পাহাড়ি ঢলের কারণে সাবস্টেশন প্রাঙ্গণে পানি বেড়ে প্রায় প্রবেশদ্বারের কাছে চলে এসেছে। পানির গতিবিধি ও সাবস্টেশনের নিরাপত্তা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
























