সাজেকে ইঁদুরের উপদ্রবে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮০ পরিবার পেল খাদ্য ও নগদ সহায়তা
২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে ইঁদুরের উপদ্রবে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮০ পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা ও শর্তহীন নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৯জুলাই) সাজেক ইউনিয়নের ৯ নম্বর ত্রিপুরা পাড়ায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সহায়তা প্রদান করা হয়। মানবিক এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে জাবারাং কল্যাণ সমিতি। এতে সহযোগিতা করে CAFOD, কারিতাস হংকং ও কারিতাস বাংলাদেশ।
আয়োজকদের ভাষ্য, ইঁদুরের আক্রমণে ফসলহানির কারণে খাদ্য সংকটে পড়া পরিবারগুলোর জরুরি চাহিদা পূরণে এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিতাস বাংলাদেশের টিম লিডার শুভ্রা তেরেসা সর্দার, সাজেক থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আলতাফ হোসেন, সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বন বিহারী চাকমা এবং জাবারাং কল্যাণ সমিতির ফোকাল পারসন বিদ্যুৎ জ্যোতি চাকমা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিয়লদাইলুই মৌজার হেডম্যান জৌপৈথাং ত্রিপুরা এবং সঞ্চালনা করেন মচারান ত্রিপুরা।
অনুষ্ঠানে শুভ্রা তেরেসা সর্দার বলেন, ইঁদুরের উপদ্রবে ফসলহানির কারণে এ অঞ্চলের অনেক পরিবার প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে জাবারাং কল্যাণ সমিতি কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বন বিহারী চাকমা বলেন, ইঁদুরের উপদ্রব এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের পুনরাবৃত্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এএসআই আলতাফ হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে জৌপৈথাং ত্রিপুরা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এ সহায়তা সময়োপযোগী। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত হলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাবারাং কল্যাণ সমিতির ফোকাল পারসন বিদ্যুৎ জ্যোতি চাকমা বলেন, শুধু ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বিকল্প ও বহুমুখী কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে গুরুত্ব দিতে হবে। ইঁদুরের আক্রমণের ধরনে পরিবর্তন আসায় কৃষকদের জলবায়ু-সহনশীল ও বৈচিত্র্যময় কৃষি পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সাজেক ইউনিয়নে ইঁদুরের উপদ্রবে ক্ষতিগ্রস্ত মোট ৫৫০ পরিবারের মধ্যে পর্যায়ক্রমে খাদ্য সহায়তা ও শর্তহীন নগদ অর্থ বিতরণ করা হবে।



































