দীঘিনালায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনরক্ষাকারী সেবা নিশ্চিতকরণ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা


দীঘিনালায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনরক্ষাকারী সেবা নিশ্চিতকরণ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

 

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সেবা নিশ্চিতকরণে জাবারাং কল্যাণ সমিতি বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দীঘিনালা উপজেলা সেমিনার কক্ষে “অ্যাক্সেস টু অ্যান্ড ইউটিলাইজেশন অব লাইফসেভিং সার্ভিসেস বাই মার্জিনালাইজড কমিউনিটিজ ইন চিটাগং হিল ট্র‍্যাক্টস ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক প্রকল্পের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জাবারাং কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৯টি উপজেলায় একযোগে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সংস্থা হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ। সভাপতিত্ব করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রকল্প পরিচালক বিনোদন ত্রিপুরা।

সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। প্রকল্প পরিচালক বিনোদন ত্রিপুরা পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র নিউট্রিশন অফিসার রিমি চাকমা সংস্থাটির কার্যক্রম ও প্রকল্পে তাদের সহযোগিতার বিষয় তুলে ধরেন। এ ছাড়া ফ্রেন্ডস ইন ভিলেজেস ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ (এফআইভিডিবি)-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী অনিরুদ্ধ কুমার সরকার প্রকল্পে তাদের সংস্থার ভূমিকা ও গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও তানজিল পারভেজ বলেন, মাঠপর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় থাকলে কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহজ হয়। এতে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি কমে এবং জনগণের কল্যাণে সমন্বিতভাবে কাজ করা সম্ভব হয়।

সভায় দীঘিনালা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, উপজেলা পর্যায়ে প্রায় ৫০০ পরিবারের জন্য ল্যাট্রিন সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৬০টি প্রান্তিক পরিবারের মধ্যে ল্যাট্রিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি এ কার্যক্রমে যেন দ্বৈততা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।

দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও ডেন্টাল সার্জন ডা. মাজেদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের নতুন ভবন হস্তান্তর না হওয়ায় তীব্র মারাত্মক অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত ‘স্যাম কর্নার’ এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি।

সভায় বোয়ালখালী এলাকার হেডম্যান ত্রিদিব নারায়ণ পোমাং দুর্গম এলাকায় অল্প সময়ে শিশুদের পুষ্টি যাচাই কার্যক্রম সম্পন্ন করার বিষয়ে জানতে চান।

জবাবে উপজেলা সমন্বয়কারী মিহির কান্তি ত্রিপুরা জানান, দুর্গম এলাকাগুলোতে কমিউনিটি নিউট্রিশন প্রমোটারদের সমন্বয়ে দল গঠন করে শতভাগ স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বাবুছড়া ইউনিয়নের দুর্গম ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং মেরুং ইউনিয়নের চামেনীছড়া, কাঙারাহৈয়ে ও ভিতর বোয়ালখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় দল গঠন করে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের দীঘিনালা উপজেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বল্প সময় ও সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক শিশুর বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুষ্টি যাচাই এবং পুরো জেলায় ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বিনোদন ত্রিপুরা জানান, জিপিএস লোকেশন নির্ধারণের মাধ্যমে মোয়াক (গটঅঈ) স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। গত দুই মাসের বেশি সময়ে ৫ বছরের কম বয়সী ৬ হাজার ৬৬২ শিশুর পুষ্টি স্ক্রিনিং সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এখনো কোনো বাড়ি বা পাড়া এ কার্যক্রমের আওতার বাইরে থাকলে সংশ্লিষ্টদের তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের অর্থ এফআইভিডিবির নির্ধারিত বরাদ্দ থেকে ব্যয় করা হবে, জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রকল্প বরাদ্দ থেকে নয়। জাবারাংয়ের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র ৬০টি প্রান্তিক পরিবারের জন্য ল্যাট্রিন স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

সভায় সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, স্বাস্থ্যকর্মী ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Ads