অনলাইন গণমাধ্যমের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০৫ নভেম্বর ২০১৭, ০৪:৩০ পিএম


অনলাইন গণমাধ্যমের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

সভ্যতার ক্রমবিবর্তনে আমরা আজ ইন্টারনেট সভ্যতার প্রবেশ করেছি। আর এ ইন্টারন্টে মানেই হচ্ছে অনলাইন। সভ্যতার এ গতিধারাকেই ‘ডিজিটাল সাংবাদিকতা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। অনলাইন বা ডিজিটাল সাংবাদিকতার সংজ্ঞা নিয়ে প-িতদের মধ্যে বিতর্ক থাকলেও অনলাইন সাংবাদিকতাকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলা  হয়েছে- ‘ডিজিটাল সাংবাদিকতা যাকে আমরা অনলাইন সাংবাদিকতাও বলি সেটি হচ্ছে সাম্প্রতিক কালের সাংবাদিকতার ধরন যার সম্পাদকীয় বিষয়বস্ত কাগজ বা সম্প্রচার মাধ্যমের বদলে ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হয়।’ অপেক্ষাকৃত কম প্রতিবন্ধকতা, স্বল্পব্যয় ও বহুমুখী কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তির বদৌলতে ডিজিটাল সাংবাদিকতার ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। সাংবাদিকতার এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা অনলাইন গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জনগনের নিকট দ্রুত ও সহজ উপায়ে তথ্য পৌঁছার ক্ষেত্রে অনলাইন গণমাধ্যমই একমাত্র উপায়। একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, বর্তমানে প্রিন্ট মিডিয়া থেকে অনলাইন মিডিয়া বেশী জনপ্রিয়। প্রিন্টমিডিয়া সেখানে পৌঁছাতে পারছেনা অথবা পৌঁছতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন সেখানে অনলাইনে বিশেষ করে মোবাইলে সে সংবাদ মুহুতের্ই পৌঁছে যাচ্ছে।
নব্বই’এর দশক থেকে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও উন্নয়ন কর্মকান্ডে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু হয় । এরপর বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র দূরীকরণ, ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উন্নয়ন তরান্বিত করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয় । ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পিছিয়ে পড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাত খুব কম সময়ে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়।  এক্ষেত্রে অনলাইন গণমাধ্যম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

¡: ই-গভর্নেন্স, ই-কমার্স, ই-এডুকেশন, ই-মেডিসিন, ই-অ্যাগ্রিকালচার ইত্যাদি। অর্থাৎ ডিজিটালপ্র্রযুক্তি বা তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর  প্রশাসনব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাব্যবস্থা, চিকিৎসাব্যবস্থা, কৃষি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। আর এসব সেকশান সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে হলে তথ্যের আদান প্রদানকে সহজতর করতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে দেশের শিক্ষা কাঠামোসহ সকল বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালের আওতায় আনতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনে সরকারি উদ্যোগের এখনই উপযুক্ত সময়। অবশ্য ইতিমধ্যেই সরকার এক্সেস টু ইনফরমেইশন (এটুআই) প্রোগ্রামের মাধ্যমে এ উদ্যোগকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একাজে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের বহুল ব্যবহার জনগণকে আগ্রহী করতে হবে। জনসাধারণের প্রত্যাশার সাথে সরকারের প্রত্যাশার মিলনের ফলে সমৃদ্ধশালি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

১৯৭০ সালে টেলিটেক্সট নামক প্রযুক্তির সহায়তায় ব্রিটেনে ডিজিটাল সাংবাদিকতার সূচনা হয়।  সভ্যতার ক্রমবিবর্তনে আমরা আজ ইন্টারনেট সভ্যতার প্রবেশ করেছি। আর এ ইন্টারন্টে মানেই হচ্ছে অনলাইন। সভ্যতার এ গতিধারাকেই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।  অনলাইন বা ডিজিটাল সাংবাদিকতার সংজ্ঞা নিয়ে প-িতদের মধ্যে বিতর্ক থাকলেও অনলাইন সাংবাদিকতাকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলা  হয়েছে- ‘ডিজিটাল সাংবাদিকতা যাকে আমরা অনলাইন সাংবাদিকতাও বলি সেটি হচ্ছে সাম্প্রতিক কালের সাংবাদিকতার ধরন যার সম্পাদকীয় বিষয়বস্ত কাগজ বা সম্প্রচার মাধ্যমের বদলে ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হয়।’ অপেক্ষাকৃত কম প্রতিবন্ধকতা, স্বল্পব্যয় ও বহুমুখী কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তির বদৌলতে ডিজিটাল সাংবাদিকতার ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে অবাধ তথ্যপ্রবাহের গতিও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।  আর এ ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করেই ২০২১ সালের মধ্যে ভিশন-২০২১  বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বির্নিমাণে সরকার অঙ্গিকারাবদ্ধ।  আর এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা অনলাইন গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জনগনের নিকট দ্রুত ও সহজ উপায়ে তথ্য পৌঁছার ক্ষেত্রে অনলাইন গণমাধ্যমই একমাত্র উপায়। একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, বর্তমানে প্রিন্ট মিডিয়া থেকে অনলাইন মিডিয়া বেশী জনপ্রিয়। প্রিন্টমিডিয়া সেখানে পৌঁছাতে পারছেনা অথবা পৌঁছতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন সেখানে অনলাইনে বিশেষ করে মোবাইলে সে সংবাদ মুহুতের্ই পৌঁছে যাচ্ছে।

অনলাইন গণমাধ্যম-ডিজিটালপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুতগতিতে সরকারের সেবামূলক কার্যক্রম জনগণের মধ্যে পৌঁছে দেয়া সম্ভব। ফলে জনগণ মহুর্তের মধ্যেই বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হতে পারছে  আর অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের মতামতও প্রকাশ করতে পারছে। ফলে জনগনের নিকট সরকারর অঙ্গিকার ও জবাবদিহিতা দু’ই বাস্তবায়িত হচ্ছে। মোবাইল ফোন অথবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য বিনিময় সম্ভব। এই ব্যবস্থায়  পরিবহন ব্যয়ের প্রয়োজন হয় না এবং সময়েরও সাশ্রয় হয়। ফলে ইহা বড় বড় শহরের জানজট নিরশনেও  সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জনগণকে তথ্য প্রদান, তথ্যের স্বচ্ছতা বিধানের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অদক্ষতা নির্ণয় করা সহজ হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, সুশিক্ষিত, সুদক্ষ এবং সমৃদ্ধশালী এক বাংলাদেশ।  তাই কল্পনার এ ‘সোনার বাংলা’ বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সুষ্ঠু বাস্তবায়ন কৌশল ছাড়া গ্রহণ করা আবশ্যক। সরকারের এসব পরিকল্পনা ও কৌশলকে অনলাইন মিডিয়া দ্রুতগতিতে স্বল্প খরচে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার গতিকে ত্বরাণি¦ত করতে সহায়তা করতে পারে।

অনলাইন মিডিয়া পরিবেশ সহায়ক। প্রিন্টমিডিয়ায় ব্যবহারের জন্য যে বিপুল পরিমাণ কাগজের প্রয়োজন হয় অনলাইন মিডিয়ায় তা দরকার হয় না। তাই প্রতি বছর কাগজ উৎপাদনের জন্য সারা পৃথিবীতে যে বিপুল পরিমাণ বৃক্ষ নিধন করা হচ্ছে তা থেকে পৃথিবী রক্ষা পাবে। ফলে পৃথবীর উষ্ণতা কমে আসবে ওজোন স্তরের ক্ষয় হ্রাস পাবে এবং সারা বিশ্বের পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাবে।  

বর্তমানে বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতা একটি আলোচিত বিষয়। এ গণমাধ্যমের স্বীকৃতি স্বরূপ  তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় অনলাইন নীতিমালা মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। প্রেস ইনস্টিটিউট তাদের সাংবাদিকতার ডিপ্লোমা কোর্সেও অনলাইন সাংবাদিকতার বিষয়টি যুক্ত করেছে। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট অনলাইনে কর্মরত সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে সনদ বিতরণ করেছেন। অনলাইন গণমাধ্যমকে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষে আরো কল্যাণধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সাংবাদিকতার মুখ্য বিষয়াদি যা সাম্প্রতিক সময়ের খবর ও ফিচার হিসেবেই প্রকাশিত হতে পারে তা যখন পাঠ্যবিষয়, অডিও, ভিডিও ও ইন্টারএ্যাকটিভিটির সহায়তায় ডিজিটাল প্লাটফরমে বিতরণ করা হয় তাকে ডিজিটাল সাংবাদিকতা বলতে পারি। অপেক্ষাকৃত কম প্রতিবন্ধকতা, স্বল্পব্যয় ও বহুমুখী কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তির বদৌলতে ডিজিটাল সাংবাদিকতার ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে অবাধ তথ্যপ্রবাহের গতিও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ডিজিটাল বা অনলাইন সাংবাদিকতা প্রচলিত সাংবাকিতার চেয়ে ভিন্ন হলেও সাংবাদিকতার মৌলিক বিষয়গুলো কোনো মাধ্যমেই বদলায় না। যেমন সংবাদ প্রকাশে বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা, স্পষ্টতা, প্রাঞ্জল্য এসব সাংবাদিকতার মৌলিক বিষয়গুলো উভয় মাধ্যমেই একই ধরনের থাকে। জনগণের কাছে তার প্রাপ্য তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করাটাই সাংবাদিকতার একটি মূল উদ্দেশ্য। তবে কাগজের পত্রিকা আর টেলিভিশনে সাংবাদিকতার কৌশল যেমন একই রকম থাকে না তেমনি প্রচলিত সাংবাদিকতা বা ডিজিটাল সাংবাদিকতার কৌশলও এক হতে পারে না। এমনকি যেহেতু তথ্য উপাত্ত বা সংবাদ পরিবেশনের বিষয়টি আলাদা এবং যেহেতু এর প্রকাশের মাধ্যমও ভিন্ন তাই সংবাদ তৈরির বিষয়টিও ভিন্ন। অনলাইনে কর্মরত সাংবাদিকরা এই পার্থক্যটুকু বুঝতে পারলেই ডিজিটাল তথা অনলাইন সাংবাদিকতায় সফল হতে পাররে না।

ইহা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, রাষ্ট্রিয় সুযোগ সুবিধাা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনলাইন গণমাধ্যমের অবস্থান শূণ্যের কোঠায়। সঠিক সংবাদ দ্রুত সর্বরাহে জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে কাজ করতে হয় অনলাইন গণমাধ্যম তথা অনলাইন নিউজ পোর্টালে কর্মরত সাংবাদিকদের। অনেক সময় প্রশাসনিক সেক্টর এবং বিভিন্ন স্পটে তথ্য সংগ্রহে নানা জটিলতা দেখা দেয়। গণমাধ্যম যেহেতু রাষ্ট্রের অন্যতম একটি স্তম্ভ সঙ্গত কারনেই এ সমস্যা নিরসনকল্পে সরকারের সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে।

সরকারের সহযোগিতাই অনলাইন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা, স্পষ্টতা, প্রাঞ্জল্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে এ গণমাধ্যমটি একটি প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে রূপান্তরিত হলে  সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে সর্বাঙ্গিন সহযোগিতা প্রদান করে রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের সারথী হতে পারবে অনলাইন গণমাধ্যম এ প্রত্যাশা রইল।

সাধারণ জনগণ বিভিন্ন ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগের সাইটসমূহে সরকারের নীতি, কার্যক্রম সমূহ সম্পর্কে যেমন নিজেদের মন্তব্য ও পরামর্শ দিয়ে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়গুলোকে আলোতে তুলে আনছেন, অনলাইন গণমাধ্যমগুলোতে খবরের সহজ প্রাপ্যতা তেমনি মানুষকে অনলাইন নির্ভর করে তুলছে।  

নব্বই’এর দশক থেকে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও উন্নয়ন কর্মকান্ডে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু হয় । এরপর বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র দূরীকরন, ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উন্নয়ন তরান্বিত করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয় । ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পিছিয়ে পড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাত খুব কম সময়ে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়।  

সম্ভাবনায় ভরপুর একটি জ্ঞান ভিত্তিক পৃথিবী গড়ার পথে দাঁড়িয়ে আমরা উন্নয়নে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারকে লোকপরিসরে কিভাবে আরো বাড়াতে পারি, এক্ষেত্রে গণমাধ্যম কি ভূমিকা পালন করতে পারে, সে ব্যাপারে দেখার চেষ্টা আমাদের কতে হবে। পাশাপাশি এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের যে সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনার জায়গাগুলো আছে, সেগুলো খোঁজার চেষ্টাও  থাকবে সাধ্যমতো।

বর্তমানে অনলাইন গণমাধ্যমগুলো সাধারন জনগনের মধ্যে বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী মাধ্যম। প্রতিদিন সারাবিশ্বে যা কিছু ঘটে সর্বশেষ ঘটমান সংবাদটি তাৎক্ষনিকভাবে এই মাধ্যমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জেনে নিতে পারেন।

উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার গোটা পৃথিবী জুড়েই আজ  মনোযোগ আকর্ষন করেছে। কাঙ্খিত জ্ঞান ও তথ্য ভিত্তিক সমাজের জন্য, প্রতিটি নাগরিককে তথ্য সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যাশায়, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত পৃথিবীর জন্য সাধারন মানুষের হাতে তথ্যপ্রযুক্তি তুলে দিয়ে তাদের ক্ষমতায়ণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা আজ সর্বজনবিদীত ।
প্রতিষ্ঠিত সংবাদ উৎপাদনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান  নিজে যেমন তথ্য সরবরাহ করে জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ বিনির্মানে ভূমিকা রেখে চলছে। পাশাপাশি বর্তমানে মোবাইল, কম্পিউটার ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনললাইন গণমাধ্যমের পাঠক-দর্শক নিজেও ভার্চুয়াল পরিসরে নিজস্ব তথ্য, অভিমত সরবরাহের সুযোগ পাচ্ছেন। ইন্টারনেটের কল্যাণে নিজের অভাব, অভিযোগ, দাবি চারপাশের মানুষকে জানানোর জন্য, ব্যাক্তিগত মিডিয়া যেমন ব্লগ, ওয়েবসাইট নির্মান করে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নেয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে এই নব্য তথ্য ও   যোগাযোগ প্রযুক্তি। কেবল মিডিয়ার  ভোক্তা হিসেবেই এতোদিন যাদের পরিচয় আটকে ছিলো, তাদের এখন চালকের আসনে বসার পরিসর তৈরি হচ্ছে । দীর্ঘকাল ধরে অডিয়েন্সের প্রচলিত যে ধারনা, সেটা পাল্টে যাচ্ছে নতুন তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে ।

তবে অন্যান্য গণমাধ্যম যেমন টেলিভিশন, রেডিও ও দৈনিক পত্রিকার চেয়ে সংবাদ সাধারণ মানুষের দোরগোরায় পৌছে দেয়ার ক্ষেত্রে অনলাইন গণমাধ্যম অনেকটা এগিয়েই বলতে হবে। কারণ যেকোন ঘটনা ঘটার সাথে সাথে টেলিভিশন তাদের দর্শকের কাছে পৌছে দিতে দুই ঘন্টা প্রয়োজন হয়। একই সংবাদ দৈনিক পত্রিকা পরের দিন সকালে তাদের পাঠকের কাছে পৌছে দেয়। কিন্তু অনলাইন পত্রিকাগুলো ঘটনা ঘটার সাথে সাথে অনলাইনের মাধ্যমে এমনকি দশ মিনিটের মধ্যে পৌছেতে পারে।

আধুনিক সভ্যতা ডিজিটাল যন্ত্রপাতির ওপর বহুলাংশে নিভর্রশীল। তাই ডিজিটাল যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়িয়ে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়াই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য। তথ্যপ্রযুক্তির বহুল ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ২০২১ সালে একটি সমৃদ্ধশালি রাষ্ট্রে পরিণত করার দৃঢ় অঙ্গিকার নিয়ে বর্তমান মহাজোট সরকারের ‘ভিশন ২০২১’ বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যার  অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন খাতে সরকারের সেবাসমূহকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া। এজন্য কয়েকটি গুরত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় হলো : ই-গভর্নেন্স, ই-কমার্স, ই-এডুকেশন, ই-মেডিসিন, ই-অ্যাগ্রিকালচার ইত্যাদি। অর্থাৎ ডিজিটালপ্র্রযুক্তি বা তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর  প্রশাসনব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাব্যবস্থা, চিকিৎসাব্যবস্থা, কৃষি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। আর এসব সেকশান সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে হলে তথ্যের আদান প্রদানকে সহজতর করতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে দেশের শিক্ষা কাঠামোসহ সকল বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালের আওতায় আনতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনে সরকারি উদ্যোগের এখনই উপযুক্ত সময়। অবশ্য ইতিমধ্যেই সরকার এক্সেস টু ইনফরমেইশন (এটুআই) প্রোগ্রামের মাধ্যমে এ উদ্যোগকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একাজে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের বহুল ব্যবহার জনগণকে আগ্রহী করতে হবে। জনসাধারণের প্রত্যাশার সাথে সরকারের প্রত্যাশার মিলনের ফলে সমৃদ্ধশালি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

১৯৭০ সালে টেলিটেক্সট নামক প্রযুক্তির সহায়তায় ব্রিটেনে ডিজিটাল সাংবাদিকতার সূচনা হয়।  সভ্যতার ক্রমবিবর্তনে আমরা আজ ইন্টারনেট সভ্যতার প্রবেশ করেছি। আর এ ইন্টারন্টে মানেই হচ্ছে অনলাইন। সভ্যতার এ গতিধারাকেই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।  অনলাইন বা ডিজিটাল সাংবাদিকতার সংজ্ঞা নিয়ে প-িতদের মধ্যে বিতর্ক থাকলেও অনলাইন সাংবাদিকতাকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলা  হয়েছে- ‘ডিজিটাল সাংবাদিকতা যাকে আমরা অনলাইন সাংবাদিকতাও বলি সেটি হচ্ছে সাম্প্রতিক কালের সাংবাদিকতার ধরন যার সম্পাদকীয় বিষয়বস্ত কাগজ বা সম্প্রচার মাধ্যমের বদলে ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হয়।’ অপেক্ষাকৃত কম প্রতিবন্ধকতা, স্বল্পব্যয় ও বহুমুখী কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তির বদৌলতে ডিজিটাল সাংবাদিকতার ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে অবাধ তথ্যপ্রবাহের গতিও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।  আর এ ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করেই ২০২১ সালের মধ্যে ভিশন-২০২১  বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বির্নিমাণে সরকার অঙ্গিকারাবদ্ধ।  আর এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা অনলাইন গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জনগনের নিকট দ্রুত ও সহজ উপায়ে তথ্য পৌঁছার ক্ষেত্রে অনলাইন গণমাধ্যমই একমাত্র উপায়। একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, বর্তমানে প্রিন্ট মিডিয়া থেকে অনলাইন মিডিয়া বেশী জনপ্রিয়। প্রিন্টমিডিয়া সেখানে পৌঁছাতে পারছেনা অথবা পৌঁছতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন সেখানে অনলাইনে বিশেষ করে মোবাইলে সে সংবাদ মুহুতের্ই পৌঁছে যাচ্ছে।

অনলাইন গণমাধ্যম-ডিজিটালপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুতগতিতে সরকারের সেবামূলক কার্যক্রম জনগণের মধ্যে পৌঁছে দেয়া সম্ভব। ফলে জনগণ মহুর্তের মধ্যেই বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হতে পারছে  আর অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের মতামতও প্রকাশ করতে পারছে। ফলে জনগনের নিকট সরকারর অঙ্গিকার ও জবাবদিহিতা দু’ই বাস্তবায়িত হচ্ছে। মোবাইল ফোন অথবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য বিনিময় সম্ভব। এই ব্যবস্থায়  পরিবহন ব্যয়ের প্রয়োজন হয় না এবং সময়েরও সাশ্রয় হয়। ফলে ইহা বড় বড় শহরের জানজট নিরশনেও  সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জনগণকে তথ্য প্রদান, তথ্যের স্বচ্ছতা বিধানের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অদক্ষতা নির্ণয় করা সহজ হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, সুশিক্ষিত, সুদক্ষ এবং সমৃদ্ধশালী এক বাংলাদেশ।  তাই কল্পনার এ ‘সোনার বাংলা’ বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সুষ্ঠু বাস্তবায়ন কৌশল ছাড়া গ্রহণ করা আবশ্যক। সরকারের এসব পরিকল্পনা ও কৌশলকে অনলাইন মিডিয়া দ্রুতগতিতে স্বল্প খরচে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার গতিকে ত্বরাণি¦ত করতে সহায়তা করতে পারে।

অনলাইন মিডিয়া পরিবেশ সহায়ক। প্রিন্টমিডিয়ায় ব্যবহারের জন্য যে বিপুল পরিমাণ কাগজের প্রয়োজন হয় অনলাইন মিডিয়ায় তা দরকার হয় না। তাই প্রতি বছর কাগজ উৎপাদনের জন্য সারা পৃথিবীতে যে বিপুল পরিমাণ বৃক্ষ নিধন করা হচ্ছে তা থেকে পৃথিবী রক্ষা পাবে। ফলে পৃথবীর উষ্ণতা কমে আসবে ওজোন স্তরের ক্ষয় হ্রাস পাবে এবং সারা বিশ্বের পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাবে।  

বর্তমানে বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতা একটি আলোচিত বিষয়। এ গণমাধ্যমের স্বীকৃতি স্বরূপ  তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় অনলাইন নীতিমালা মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। প্রেস ইনস্টিটিউট তাদের সাংবাদিকতার ডিপ্লোমা কোর্সেও অনলাইন সাংবাদিকতার বিষয়টি যুক্ত করেছে। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট অনলাইনে কর্মরত সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে সনদ বিতরণ করেছেন। অনলাইন গণমাধ্যমকে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষে আরো কল্যাণধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সাংবাদিকতার মুখ্য বিষয়াদি যা সাম্প্রতিক সময়ের খবর ও ফিচার হিসেবেই প্রকাশিত হতে পারে তা যখন পাঠ্যবিষয়, অডিও, ভিডিও ও ইন্টারএ্যাকটিভিটির সহায়তায় ডিজিটাল প্লাটফরমে বিতরণ করা হয় তাকে ডিজিটাল সাংবাদিকতা বলতে পারি। অপেক্ষাকৃত কম প্রতিবন্ধকতা, স্বল্পব্যয় ও বহুমুখী কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তির বদৌলতে ডিজিটাল সাংবাদিকতার ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে অবাধ তথ্যপ্রবাহের গতিও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ডিজিটাল বা অনলাইন সাংবাদিকতা প্রচলিত সাংবাকিতার চেয়ে ভিন্ন হলেও সাংবাদিকতার মৌলিক বিষয়গুলো কোনো মাধ্যমেই বদলায় না। যেমন সংবাদ প্রকাশে বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা, স্পষ্টতা, প্রাঞ্জল্য এসব সাংবাদিকতার মৌলিক বিষয়গুলো উভয় মাধ্যমেই একই ধরনের থাকে। জনগণের কাছে তার প্রাপ্য তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করাটাই সাংবাদিকতার একটি মূল উদ্দেশ্য। তবে কাগজের পত্রিকা আর টেলিভিশনে সাংবাদিকতার কৌশল যেমন একই রকম থাকে না তেমনি প্রচলিত সাংবাদিকতা বা ডিজিটাল সাংবাদিকতার কৌশলও এক হতে পারে না। এমনকি যেহেতু তথ্য উপাত্ত বা সংবাদ পরিবেশনের বিষয়টি আলাদা এবং যেহেতু এর প্রকাশের মাধ্যমও ভিন্ন তাই সংবাদ তৈরির বিষয়টিও ভিন্ন। অনলাইনে কর্মরত সাংবাদিকরা এই পার্থক্যটুকু বুঝতে পারলেই ডিজিটাল তথা অনলাইন সাংবাদিকতায় সফল হতে পাররে না।

ইহা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, রাষ্ট্রিয় সুযোগ সুবিধাা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনলাইন গণমাধ্যমের অবস্থান শূণ্যের কোঠায়। সঠিক সংবাদ দ্রুত সর্বরাহে জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে কাজ করতে হয় অনলাইন গণমাধ্যম তথা অনলাইন নিউজ পোর্টালে কর্মরত সাংবাদিকদের। অনেক সময় প্রশাসনিক সেক্টর এবং বিভিন্ন স্পটে তথ্য সংগ্রহে নানা জটিলতা দেখা দেয়। গণমাধ্যম যেহেতু রাষ্ট্রের অন্যতম একটি স্তম্ভ সঙ্গত কারনেই এ সমস্যা নিরসনকল্পে সরকারের সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে।

সরকারের সহযোগিতাই অনলাইন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা, স্পষ্টতা, প্রাঞ্জল্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে এ গণমাধ্যমটি একটি প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে রূপান্তরিত হলে  সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে সর্বাঙ্গিন সহযোগিতা প্রদান করে রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের সারথী হতে পারবে অনলাইন গণমাধ্যম এ প্রত্যাশা রইল।

আধুনিক সভ্যতা ডিজিটাল যন্ত্রপাতির ওপর বহুলাংশে নিভর্রশীল। তাই ডিজিটাল যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়িয়ে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়াই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য। তথ্যপ্রযুক্তির বহুল ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ২০২১ সালে একটি সমৃদ্ধশালি রাষ্ট্রে পরিণত করার দৃঢ় অঙ্গিকার নিয়ে বর্তমান মহাজোট সরকারের ‘ভিশন ২০২১’ বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যার  অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন খাতে সরকারের সেবাসমূহকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া। এজন্য কয়েকটি গুরত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় হলো : ই-গভর্নেন্স, ই-কমার্স, ই-এডুকেশন, ই-মেডিসিন, ই-অ্যাগ্রিকালচার ইত্যাদি। অর্থাৎ ডিজিটালপ্র্রযুক্তি বা তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর  প্রশাসনব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাব্যবস্থা, চিকিৎসাব্যবস্থা, কৃষি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। আর এসব সেকশান সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে হলে তথ্যের আদান প্রদানকে সহজতর করতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে দেশের শিক্ষা কাঠামোসহ সকল বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালের আওতায় আনতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনে সরকারি উদ্যোগের এখনই উপযুক্ত সময়। অবশ্য ইতিমধ্যেই সরকার এক্সেস টু ইনফরমেইশন (এটুআই) প্রোগ্রামের মাধ্যমে এ উদ্যোগকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একাজে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের বহুল ব্যবহার জনগণকে আগ্রহী করতে হবে। জনসাধারণের প্রত্যাশার সাথে সরকারের প্রত্যাশার মিলনের ফলে সমৃদ্ধশালি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

১৯৭০ সালে টেলিটেক্সট নামক প্রযুক্তির সহায়তায় ব্রিটেনে ডিজিটাল সাংবাদিকতার সূচনা হয়।  সভ্যতার ক্রমবিবর্তনে আমরা আজ ইন্টারনেট সভ্যতার প্রবেশ করেছি। আর এ ইন্টারন্টে মানেই হচ্ছে অনলাইন। সভ্যতার এ গতিধারাকেই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।  অনলাইন বা ডিজিটাল সাংবাদিকতার সংজ্ঞা নিয়ে প-িতদের মধ্যে বিতর্ক থাকলেও অনলাইন সাংবাদিকতাকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলা  হয়েছে- ‘ডিজিটাল সাংবাদিকতা যাকে আমরা অনলাইন সাংবাদিকতাও বলি সেটি হচ্ছে সাম্প্রতিক কালের সাংবাদিকতার ধরন যার সম্পাদকীয় বিষয়বস্ত কাগজ বা সম্প্রচার মাধ্যমের বদলে ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হয়।’ অপেক্ষাকৃত কম প্রতিবন্ধকতা, স্বল্পব্যয় ও বহুমুখী কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তির বদৌলতে ডিজিটাল সাংবাদিকতার ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে অবাধ তথ্যপ্রবাহের গতিও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।  আর এ ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করেই ২০২১ সালের মধ্যে ভিশন-২০২১  বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বির্নিমাণে সরকার অঙ্গিকারাবদ্ধ।  আর এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা অনলাইন গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জনগনের নিকট দ্রুত ও সহজ উপায়ে তথ্য পৌঁছার ক্ষেত্রে অনলাইন গণমাধ্যমই একমাত্র উপায়। একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, বর্তমানে প্রিন্ট মিডিয়া থেকে অনলাইন মিডিয়া বেশী জনপ্রিয়। প্রিন্টমিডিয়া সেখানে পৌঁছাতে পারছেনা অথবা পৌঁছতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন সেখানে অনলাইনে বিশেষ করে মোবাইলে সে সংবাদ মুহুতের্ই পৌঁছে যাচ্ছে।

অনলাইন গণমাধ্যম-ডিজিটালপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুতগতিতে সরকারের সেবামূলক কার্যক্রম জনগণের মধ্যে পৌঁছে দেয়া সম্ভব। ফলে জনগণ মহুর্তের মধ্যেই বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হতে পারছে  আর অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের মতামতও প্রকাশ করতে পারছে। ফলে জনগনের নিকট সরকারর অঙ্গিকার ও জবাবদিহিতা দু’ই বাস্তবায়িত হচ্ছে। মোবাইল ফোন অথবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য বিনিময় সম্ভব। এই ব্যবস্থায়  পরিবহন ব্যয়ের প্রয়োজন হয় না এবং সময়েরও সাশ্রয় হয়। ফলে ইহা বড় বড় শহরের জানজট নিরশনেও  সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জনগণকে তথ্য প্রদান, তথ্যের স্বচ্ছতা বিধানের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অদক্ষতা নির্ণয় করা সহজ হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, সুশিক্ষিত, সুদক্ষ এবং সমৃদ্ধশালী এক বাংলাদেশ।  তাই কল্পনার এ ‘সোনার বাংলা’ বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সুষ্ঠু বাস্তবায়ন কৌশল ছাড়া গ্রহণ করা আবশ্যক। সরকারের এসব পরিকল্পনা ও কৌশলকে অনলাইন মিডিয়া দ্রুতগতিতে স্বল্প খরচে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার গতিকে ত্বরাণি¦ত করতে সহায়তা করতে পারে।

অনলাইন মিডিয়া পরিবেশ সহায়ক। প্রিন্টমিডিয়ায় ব্যবহারের জন্য যে বিপুল পরিমাণ কাগজের প্রয়োজন হয় অনলাইন মিডিয়ায় তা দরকার হয় না। তাই প্রতি বছর কাগজ উৎপাদনের জন্য সারা পৃথিবীতে যে বিপুল পরিমাণ বৃক্ষ নিধন করা হচ্ছে তা থেকে পৃথিবী রক্ষা পাবে। ফলে পৃথবীর উষ্ণতা কমে আসবে ওজোন স্তরের ক্ষয় হ্রাস পাবে এবং সারা বিশ্বের পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাবে।  

বর্তমানে বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতা একটি আলোচিত বিষয়। এ গণমাধ্যমের স্বীকৃতি স্বরূপ  তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় অনলাইন নীতিমালা মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। প্রেস ইনস্টিটিউট তাদের সাংবাদিকতার ডিপ্লোমা কোর্সেও অনলাইন সাংবাদিকতার বিষয়টি যুক্ত করেছে। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট অনলাইনে কর্মরত সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে সনদ বিতরণ করেছেন। অনলাইন গণমাধ্যমকে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষে আরো কল্যাণধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সাংবাদিকতার মুখ্য বিষয়াদি যা সাম্প্রতিক সময়ের খবর ও ফিচার হিসেবেই প্রকাশিত হতে পারে তা যখন পাঠ্যবিষয়, অডিও, ভিডিও ও ইন্টারএ্যাকটিভিটির সহায়তায় ডিজিটাল প্লাটফরমে বিতরণ করা হয় তাকে ডিজিটাল সাংবাদিকতা বলতে পারি। অপেক্ষাকৃত কম প্রতিবন্ধকতা, স্বল্পব্যয় ও বহুমুখী কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তির বদৌলতে ডিজিটাল সাংবাদিকতার ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে অবাধ তথ্যপ্রবাহের গতিও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ডিজিটাল বা অনলাইন সাংবাদিকতা প্রচলিত সাংবাকিতার চেয়ে ভিন্ন হলেও সাংবাদিকতার মৌলিক বিষয়গুলো কোনো মাধ্যমেই বদলায় না। যেমন সংবাদ প্রকাশে বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা, স্পষ্টতা, প্রাঞ্জল্য এসব সাংবাদিকতার মৌলিক বিষয়গুলো উভয় মাধ্যমেই একই ধরনের থাকে। জনগণের কাছে তার প্রাপ্য তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করাটাই সাংবাদিকতার একটি মূল উদ্দেশ্য। তবে কাগজের পত্রিকা আর টেলিভিশনে সাংবাদিকতার কৌশল যেমন একই রকম থাকে না তেমনি প্রচলিত সাংবাদিকতা বা ডিজিটাল সাংবাদিকতার কৌশলও এক হতে পারে না। এমনকি যেহেতু তথ্য উপাত্ত বা সংবাদ পরিবেশনের বিষয়টি আলাদা এবং যেহেতু এর প্রকাশের মাধ্যমও ভিন্ন তাই সংবাদ তৈরির বিষয়টিও ভিন্ন। অনলাইনে কর্মরত সাংবাদিকরা এই পার্থক্যটুকু বুঝতে পারলেই ডিজিটাল তথা অনলাইন সাংবাদিকতায় সফল হতে পাররে না।

ইহা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, রাষ্ট্রিয় সুযোগ সুবিধাা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনলাইন গণমাধ্যমের অবস্থান শূণ্যের কোঠায়। সঠিক সংবাদ দ্রুত সর্বরাহে জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে কাজ করতে হয় অনলাইন গণমাধ্যম তথা অনলাইন নিউজ পোর্টালে কর্মরত সাংবাদিকদের। অনেক সময় প্রশাসনিক সেক্টর এবং বিভিন্ন স্পটে তথ্য সংগ্রহে নানা জটিলতা দেখা দেয়। গণমাধ্যম যেহেতু রাষ্ট্রের অন্যতম একটি স্তম্ভ সঙ্গত কারনেই এ সমস্যা নিরসনকল্পে সরকারের সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে।

সরকারের সহযোগিতাই অনলাইন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা, স্পষ্টতা, প্রাঞ্জল্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে এ গণমাধ্যমটি একটি প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে রূপান্তরিত হলে  সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে সর্বাঙ্গিন সহযোগিতা প্রদান করে রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের সারথী হতে পারবে অনলাইন গণমাধ্যম এ প্রত্যাশা রইল।

আধুনিক সভ্যতা ডিজিটাল যন্ত্রপাতির ওপর বহুলাংশে নিভর্রশীল। তাই ডিজিটাল যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়িয়ে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়াই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য। তথ্যপ্রযুক্তির বহুল ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ২০২১ সালে একটি সমৃদ্ধশালি রাষ্ট্রে পরিণত করার দৃঢ় অঙ্গিকার নিয়ে বর্তমান মহাজোট সরকারের ‘ভিশন ২০২১’ বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যার  অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন খাতে সরকারের সেবাসমূহকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া। এজন্য কয়েকটি গুরত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় হলো : ই-গভর্নেন্স, ই-কমার্স, ই-এডুকেশন, ই-মেডিসিন, ই-অ্যাগ্রিকালচার ইত্যাদি। অর্থাৎ ডিজিটালপ্র্রযুক্তি বা তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর  প্রশাসনব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাব্যবস্থা, চিকিৎসাব্যবস্থা, কৃষি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। আর এসব সেকশান সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে হলে তথ্যের আদান প্রদানকে সহজতর করতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে দেশের শিক্ষা কাঠামোসহ সকল বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালের আওতায় আনতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনে সরকারি উদ্যোগের এখনই উপযুক্ত সময়। অবশ্য ইতিমধ্যেই সরকার এক্সেস টু ইনফরমেইশন (এটুআই) প্রোগ্রামের মাধ্যমে এ উদ্যোগকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একাজে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের বহুল ব্যবহার জনগণক

Ads