রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেক তার জৌলুস হারাতে বসেছে

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

২৭ মে ২০১৭, ০৫:১০ পিএম


রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেক তার জৌলুস হারাতে বসেছে

জৌলুস হারাতে বসেছে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেক। নির্বিচারে জুম চাষের কারণে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের মাটি এসে জমেছে লেকে। একই সাথে রাঙ্গামাটির সমস্ত পয়ঃবর্জ্য লেকে পড়ে দূষিত হচ্ছে। ১শ' ২০ ফুট পানির গভীরতার এ লেকে এখন অসংখ্য ডুবো চর সৃষ্টির পাশাপাশি কচুরিপানার কারণে পর্যটকবাহী বোট চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

১৯৫৬ সালে কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বাঁধ দেয়ায় ৫৪ হাজার একর কৃষি জমি এবং ২৯ বর্গমাইল বনভূমি ডুবে সৃষ্টি হয় এ কৃত্রিম লেকের। সময়ের পরিক্রমায় এটি হয়ে ওঠে বিনোদন এবং পর্যটন কেন্দ্র। বড় বড় পাহাড়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লেকের পানিতে ঘুরতে আসতো দেশী-বিদেশী পর্যটকরা। কিন্তু পুরো লেক জুড়ে শত শত ডুবো চর ও কচুরিপানার কারণে এটা এখন প্রায় পর্যটক শূন্য।

বোট চালক এবং ইজারাদাররা বলেন, বোট নিয়ে বের হতে পারিনা। বের হলে কচুরিপানায় পাখা আটকে যায়। বেশ কয়েকবছর ড্রেজিং না হওয়ার কারণে এই অবস্থা। সমস্ত ময়লা আবর্জনা যেয়ে কাপ্তায় লেক ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

সৃষ্টির সময় ১শ ২০ থেকে দেড়শ ফুট গভীর ছিলো এ লেক। এখন তীরবর্তী এলাকাগুলোতে পানি নেই বললেই চলে।

রাঙ্গামাটির বিএফডিসি ম্যানেজার কমান্ডার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, 'কাপ্তাই লেকের পাশে যে পাহাড়গুলো আছে এতে পাহাড়িরা নিয়মিত জুম চাষ করে। এর কারণে এখানে সবসময় কিছুটা আলগা মাটি তৈরি হয়। আর বর্ষাকালে সেই মাটিগুলো নদীতে নেমে আসে।'

ভূ প্রকৃতিগত কারণে এ লেকের ব্যবস্থাপনা নিয়ে রয়েছে নানা জটিলতা। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন লেক খননে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চিঠি দিয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, 'সরকারের সিদ্ধান্ত আছে এখানে ড্রেজিং করা হবে। আগের থেকে অনেক কম পানি থাকলেই এলাকা ডুবে যায়। যে পরিমাণ পানি বিদ্যুতের জন্যে প্রয়োজন তা আমরা ধরে রাখতে পারছি না।'

লুসাই পাহাড় থেকে পানির ধারা নেমে আসলেও এর সাথে সংযুক্ত রয়েছে মাইনী, চেঙ্গী, রাইখিয়ং, কাসলং এবং কর্ণফুলী নদী।

রাঙ্গামাটি কাপ্তাই লেকের কিছু অংশ বর্ষাকালে ২০ থেকে ৩০ ফুট পানিতে তলিয়ে থাকে কিন্তু এখন তৈরি হয়েছে অসংখ্য ডুবোচর। আর এভাবেই সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে ৭২৫ বর্গ কিলো মিটারের এই লেক। কিন্তু এই লেক তদারকির জন্য ৩০টির বেশি সরকারি বেসরকারি সংস্থা রয়েছে। কিন্তু কেউই যথাযথভাবে তদারকি করছে না।

Ads