জাতীয় সংসদ নির্বাচন সকলের গ্রহনযোগ্য করার সলিউশনের ফর্মুলাটি গ্রহণ করা যায় কি না?

মোসলেম উদ্দিন রনি

২৫ নভেম্বর ২০২৩, ১২:৩৬ পিএম


জাতীয় সংসদ নির্বাচন সকলের গ্রহনযোগ্য করার সলিউশনের ফর্মুলাটি গ্রহণ করা যায় কি না?

সরওয়ার মোরশেদ মোড়ল।

 

এই লক্ষে সর্ব সাধারণের ও নিবন্ধিত সকল দল, মত নির্বিশেষে সবার উদ্দেশ্যে এই পরবর্তীর সকল জাতীয় সংসদ নির্বাচন সকলের গ্রহনযোগ্য করার সলিউশনের ফর্মুলাটি বিনয়ের সহিত উপস্থাপন করতে চাই। এবং আমার সম্পূর্ণ একক চিন্তা চেতনা থেকে দেশবাসীর মধ্যে প্রায় দেড় দশক ধরে রাজনৈতিক অশান্তির মাঝেই শান্তির স্থীতিশীল রক্ষার স্বার্থেই সলিউশনের ফর্মুলাটি খোলা প্রচার পত্র হিসাবে উন্মুক্ত করা হইল। 
 

ডিজিটাল যুগের দিনে এখন থেকে সাংবিধানিক এর ভিতরে কথা দিয়ে কথা রাখা বা না রাখার প্রশ্নই উঠবে না। সাংবিধানিক উপায়ে যে কোন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থেকেই স্থায়ী ভাবে কেয়ার টেকার বাদেই প্রচলিত আইনের মধ্যে প্রয়োজনে সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করেই  নতুন একটি ফর্মূলা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের নিবন্ধিত সকল দলকে নিয়েই আগামীর যে কোন জাতীয় নির্বাচন করতে পারবেন! 
 

আমার রাজনৈতিক সলিউশনের ফর্মুলাটি আজ হোক বা আগামী ১০০ বছর পর হোক এর কাছাকাছি যেতেই হবে বলে আমি মনে করি। তাই নিচের এই ফর্মূলাটি যাচাই-বাছাই করে সরকার মহান সংসদে এর আদলে একটা আইন তৈরী করিতে পারেন। ফলে এই দেশে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ সহ বহু মায়ের কান্না, ও বহু পরিবার  প্রতিবন্ধিসহ এতিম হওয়ার করুন দৃশ্য আর যেন সরাসরি দেখতে না হয় ।
 

১নং ধারা) সাংবিধানিকভাবেই বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির প্রধান মন্ত্রী  নির্বাচন কালীন সময়েও ক্ষমতায় থাকিবেন। কিন্তু রুটিন মাফিক ওয়ার্কের কোন কাজ গুলি করিতে পারিবেন না। এমনকি কোন ফাইলেও স্বাক্ষর করিবেন না এবং কোন মুভমেন্ট থাকিবে না। নির্বাচন কালীন সময়ে এই দায়িত্ব গুলি সরকার সহ সকল নিবন্ধিত দলের সম্বনিত তৈরীর একটি অস্থায়ী যৌথ সরকারের প্রধান অথবা, একটি অস্থায়ী সংযুক্ত সরকারের প্রধান পালন করিবেন। অপরদিকে মন্ত্রী,এমপিগণেরা সংসদে ও মন্ত্রণালয়ে কোন মতামত দিবেন না এবং কোন স্বাক্ষরও করিবেন না। সবাই সবার পদে (ওএসডি) দপ্তরহীন থাকবেন। নির্বাচন কালীন সময়ে মন্ত্রণালয়ের পুরো দায়িত্ব পালন করিবেন সচিব মহোদয় গনেরা । এই ০৩ মাস সকল নির্বাচিত প্রতিনিধির লাল টেলিফোন সহ কোন অফিসিয়াল কার্যক্রম চালাইবেন না। এতে সকল নিবন্ধিত দলের সমালোচনা করা বন্ধ হয়ে যাবে এবং লেবেল প্লেইং ঠিক হয়ে আসবে। এখন আসুন একটি অস্থায়ী যৌথ সরকারের প্রধান অথবা, একটি অস্থায়ী সংযুক্ত সরকারের প্রধান, বর্তমান সরকার সাংবিধানিক এর ভিতরে কিভাবে তৈরী করবেন? 
 

২নং (ধারা) ক) সদ্য বিদায়ী সাবেক প্রধান বিচারপতির ০২ জন থেকে যে কোন এক জনকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব তৈরী করতে হবে।
 

(খ) এবং সিইসিকেই জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান/আহবায়ক করে নির্বাচনের কাজ শুরু করিতে হবে। কোন ক্রমেই প্রধান মন্ত্রী/রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হতে পারবেন না।
 

গ) রাষ্ট্রপতি ও প্রধান মন্ত্রীর পদটি যেহেতু নির্বাচনের মাধ্যমের নির্বাচিত পদ,কিন্তু সিইসি পদটি সরকার থেকে নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ার কারনেই এখন থেকে সরকার আর একক ভাবে বা আইন দিয়েও নিয়োগ নয় বরং দেশের সকল নিবন্ধিত দলের সংলাপের ভিত্তিতেই পুনুরায় বর্তমান সরকারকেই সিইসি পদে নিয়োগ দিতে হবে। এবং নতুন এই সিইসিকেই বর্তমান প্রচলিত সরকারই পরবর্তীর তৈরী আইনের মাধ্যমে একটি অস্থায়ী যৌথ সরকারের প্রধান হিসাবে নিয়োগ অথবা,একটি অস্থায়ী সংযুক্ত সরকারের প্রধান হিসাবে আগামী নির্বাচন কালীন ০৩ মাসের জন্য নিয়োগ দিবেন । এই সরকারের নাম করণ করা যাবে- একটি অস্থায়ী যৌথ সরকারের প্রধান অথবা, একটি অস্থায়ী সংযুক্ত সরকারের প্রধান (HPJG) অথবা, (IJGH) অর্থাৎ সিইসিই বর্তমান সরকারের নির্বাচন কালীন অস্থায়ী ভাবে HEAD OF THE PROVISIONAL JOINT GOVERNMENT অথবা, INTERIM JOINT GOVERNMENT  HEAD হিসাবে নির্বাচন কালীন সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করিবেন। শুধুমাত্র নির্বাচন কালীন সময়ের এই অস্থায়ী সংযুক্ত সরকার প্রধানের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তিনি রাষ্ট্রের রুটিন মাফিক কাজ গুলোতে স্বাক্ষর করিবেন। এবং জাতীয় নির্বাচনের সরকারি ফলাফল চুরান্ত ভাবে ঘোষনার পরই এই পদটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং তিনি পুনুরায় পূর্বের সিইসি পদে আসীন হবেন। এ লক্ষে সরকারকে এই আইন তৈরীর কাজে আংশিক সংযোজন,সংশোধনের নিমিত্তে যাচাই-বাচাই করে দেখতে পারেন। কারন হিসাবে নির্বাচনে সকল নিবন্ধিত দলের  ভোটে অংশ গ্রহন করার একটা সচ্ছতার সুযোগ পাওয়ার অধিকার সরকারকেই তৈরী করিতে হবে। 
 

অপরদিকে, নিবন্ধিত দল বাদে প্রচলিত আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র জনগনের ভোটের উপর নির্ভরের মাধ্যমেই গণতন্ত্র টেকসই হয় এবং সরকার গঠন বার-বার করা যায়, তবে চমৎকার একটি সলিউশনের ফর্মূলার উপধারাটি ব্যবহার করে প্রাপ্ত সকল নাগরিককেই তার মালিকানা, নাগরিকত্ব,ও ভোটাধিকার প্রয়োগের নকল করিয়ে দেওয়ার প্রবনতা এখন থেকে সম্পূর্ণ দূর করে নিজ-নিজ অধিকারের রক্ষাথের্ই একটি সংশোধিত আইন তৈরী করে প্রত্যেককে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসা পুরো-পুরি সম্ভব!
 

যেহেতু সাংবিধানিক মোতাবেক যে কোন নির্বাচিত সরকারই ক্ষমতায় থেকে স্থায়ী ভাবে কেয়ার টেকার বাদেই প্রচলিত আইনের মধ্যেই নির্বাচন করতে চান,তাই নিচের উপধারা গুলির প্রয়োগ ঘটাতে হবেঃ                 

৩নং উপধারা: (ক) বাংলাদেশ রক্ষা ও পরিচালনার নিমিত্তে তৈরীকৃত সংবিধানটি প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর জাতীয় সংসদের ভোটাধিকারর প্রয়োগের মাধ্যমেই মূলত  দেশ সুরক্ষিত থাকে। অর্থাৎ সংবিধানটির জীবন ৩০০ এমপি বর্তমান থাকাকেই বুঝায়। অপরদিকে জাতীয় সংসদের ভোটের ব্যবস্থা না করলে এই দেশের আইনটি অচল হয়ে যাবে এবং জনগনের নাগরিকত্ব, দেশ ও রাষ্ট্রের মালিকানার অধিকারটি বিনষ্ট হবে। তাই এই দেশে প্রত্যেকে জন্মগত ভাবেই নাগরিক হওয়ার কারনেই ১৮ বছর বয়স পূর্ণ থেকে প্রাপ্ত সকল নাগরিককেই তার মালিকানা, নাগরিকত্ব,ও ভোটাধিকার প্রয়োগে নকল করিয়ে দেওয়ার প্রবনতা এখন থেকে দূর করার অধিকারের রক্ষার্থেই আগামী ২০২৪ইং সন হইতে প্রতি পাঁচ (০৫) বছর পর-পর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ নিজ এলাকায় প্রত্যেক মানুষ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সাথে-সাথেই দেশের একজন নাগরিক তার স্থায়ী মালিকানার ব্যক্তি হিসাবে নিজেকে রক্ষা করবে,নাগরিকত্ব সুরক্ষার ও নিজেকে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকারটি  বার বার যেন হারিরে না যায়,তার জন্যই এথন সুরক্ষা দেওয়ার সার্থ্বেই নির্বাচন কমিশন অধীন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রত্যেক ভোটারকে ভোট প্রদানের পর-পরই নির্বাচন কমিশনের সরকারি তারিখ,সীল মোহর যুক্ত (৩য় কপির) অতিরিক্ত১/২/৩ থেকে যে কোন ০১টি মূল মুড়ি পত্র ফেরৎ প্রদানের মাধ্যমেই নবায়ন পত্র দিবেন। মূলত এটাই হবে নিরপেক্ষ সরকারের ফর্মূলার মূল উপাদান। ফলে সাধারণ জনগনের ভোটাধিকার প্রয়োগের অনিহার ভাব আবশ্যিক ভাবে দুর হয়ে যাবে । এতে গণতন্ত্র সুসংহত হবে ও ভোটাধিকার  কেড়ে নেওয়ার দিন হয়তো শেষ হয়ে যাবে। স্বাভাবিক ভাবেই যার-যার ভোট তিনি ব্যতিত অন্য কেউ ইচ্ছা করলেও অপরের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না । ভোট প্রদান ব্যতিত কেউ কারো ৩য় মূল মুড়ি পত্র চুপ করেও নিতে পারবেন না । কারন মূল প্রমানকটি যার যার সিরিয়ালের আর তাকেই বহন করে বাড়িতে পরবর্তী ০৫ বছর সংরক্ষন রাখতে হবে সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্যই।  
 

ফলে এতে কোন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বা ফিঙ্গার নিয়েও কথা হবে না। এখন থেকে ট্যাক্স কপি/NID এর কপি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রত্যেককে ভোটাধিকার প্রয়োগের পাকা সিরিয়ালের নম্বর যুক্ত শেষ অংশ(৩য়) ফিরতি মূড়িপত্রের রশিদটি সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা পেতে অফিসিয়াল ভাবে সর্ব ক্ষেত্রে ব্যবহার করতেই হবে। ট্যাক্স কপি/NID এর কপি ভোটাধিকার প্রয়োগের পাকা সিরিয়ালের নম্বর যুক্ত শেষ অংশ(৩য়) ফিরতি মূড়িপত্রের রশিদটির পাওয়ার ফলেই দেশ-সরকার, আইন ও জনগণ সবাই আগামী ০৫ বছরের জন্য সুরক্ষিত থাকবেন। এই ভাবে প্রত্যেককে এক-এক পরবর্র্তীর আগামীর ০৫ বছরের জন্য রাষ্ট্রীয় সকল সুবিধা নিতে চাইলে অবশ্যই সংসদ নির্বাচিত সরকার তৈরীতে ভোটাধিকার প্রয়োগের হার ৮৫% এর বেশি হবে। ফলে নির্বাচন কমিশনকেই সকল ভোট কেন্দ্র থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে প্রত্যেক ভোটারকে ভোট প্রদানের পর তার নবায়নের স্বার্থেই পাকা সিরিয়ালের নম্বর যুক্ত একটি শেষ অর্র্ধেক(৩য় কপি) প্রমানক হিসাবে ফিরতি রশিদ প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন। সেটি যার রশিদ তাকেই ভোট প্রদানের পর ফিরতি রশিদটি গ্রহন করিতে হইবে। অন্যথায় অন্য কোন উপায়ে মুড়িপত্রের শেষ রশিদটি পাওয়া যাবে না, ফলে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন সুযোগও থাকবে না। (হাতে অমোছনীয় কালি মেখে ০১দিনের প্রমানের দিন এখন শেষ। আগামীর পুরো ০৫ বছরের জন্য প্রমানক চাই, মূলত ভোট দানের পর প্রাপ্য প্রমানক রশিদটি মূল বিষয়।
 

(খ) প্রকাশ থাকে যে, বাংলাদেশের প্রত্যেক পাসপোর্ট ধারীকেই প্রয়োজনে ০৫/১০ বছর পর-পর পাসপোর্ট বহিটি নবায়ন/হালনাগাদ করতেই হয়। ফলে পাসপোর্ট বহিটি বহাল থাকে এবং তেনারাই কিন্তু পুনুরায় বিদেশ যেতে পারেন।
 

(গ) যদি বিদেশ যেতে পাসপোর্ট বহিটি ০৫ বছর পর-পর নবায়ন/হালনাগাদ করার বিধান আছে। অনুরূপ সেইহেতু এই দেশের প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিককে তার স্থায়ী নাগরিকত্বটি/নিজের মালিকানাটি আইন অনুযায়ী ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই নতুন এক আইন অনুযায়ী হালনাগাদ করিতে হবে। নিজ ব্যক্তির স্থায়ী মালিকানা, নাগরিকত্বটি হালনাগাদ করার সিষ্টেম হবে প্রতি ০৫ বছর পর-পর শুধুমাত্র আসন্ন জাতীয় সংসদের নির্বাচনে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করার ফলেই একটি ফিরতি পাকা নম্বর যুক্ত শেষ অংশের প্রমানক রশিদ পাবেন এবং বাংলাদেশের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যেমন: সরকারি সকল প্রকার ভাতা গ্রহন, বেতন নেওয়া, বিল উঠাতে. একাউন্ট খোলার সময়, পাসপোর্ট করার সময়, এমনকি চাকুরীর জন্য আবেদন করার সময় সহ আরো যাবতীয় পরবর্তী ০৫ বছরের স্থানীয়/জাতীয় পর্যায়ের আরো ৪৮ প্রকারের সুযোগ সুবিধা পেতে চাইলেই এখন থেকে NID এর পাশাপাশি জাতীয় সংসদের নির্বাচনে ভোট প্রদানের হালনাগাদ/নবায়নের প্রমানক(৩য় কপি) রশিদটির ফটোকপি সর্ব জায়গায় সর্ব ক্ষেত্রে সংযুক্তি করিতে হইবে । (নতুবা আগামীর নতুন বছরের সকল সুবিধা স্থগিত হয়ে যাবে, এমনকি সকল ধরনের কর্মচারীর বেতন ভাতা পেতেও সমস্যা হবে)। এই লক্ষে বর্তমান সরকারকে একটি ছোট্ট নতুন আইনে সংশোধন আনতে হবে। 
 

(ঘ) উপযুক্ত কারনের ব্যাখ্যা ছাড়া, আসামীগণ, পাগল, মেডিকেলে রুগি ভর্তিসহ এবং কেবল আসন্ন জাতীয় সংসদের নির্বাচনের কাজে জড়িত ব্যক্তিবর্গ সহ সবাইকে উপযুক্ত কর্মের কারণ দেখিয়ে কি কারনে ভোট প্রদানে ব্যর্থ ছিলেন, তার উপযুক্ত প্রমান পত্র যুক্ত করে স্থানীয় নির্বাচন কমিশন অফিসে আবেদন করে ৩য়/৪র্থ রশিদটি তাকেও পরবর্তীতে সংগ্রহ করিতে হইবে। হয়রানি বন্ধের কারনে এবং যেহেতু দেশের ১৭ কোটি মানুষ সবাই সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা নেন। তাই মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এর বাহিরে যেতে পারবেন না। সাধারণ নাগরিকের পাশাপাশি,সরকারি/বেসরকারি সকল কর্মচারীরাও এই আইনের নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য থাকিবেন। সকল কর্মচারীদের সাধারণ ছুটি থাকা স্বত্বেও রাষ্ট্রের সকল সুবিধা নিবেন, আর ভোটের দিন ভোট দিবেন না, এটা আর হবে না । এখন থেকে জনগন ভোট প্রদান না করেই যেন কোন সংসদ নির্বাচিত সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে না পারেন। তার জন্যই মূলত এটাই এই ফর্মূলার নিয়ামকের মুর্খ্য বিষয় হবে।
 

(ঙ) মনে রাখবেন প্রতি পাঁচ (০৫) বছর পর-পর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি থাকে । তাই সরকারি/বেসরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তা সকলকেই নিজ নিজ এলাকায় যদি ভোটাধিকার প্রয়োগ না করেন, তাহলে রাষ্ট্রের কোন সুযোগ নিতে চাইলেও ভোটাধিকার প্রয়োগ না করার ফলেই একটি ফিরতি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তারিখ, সীল মোহর যুক্ত সিরিয়াল সহ পাকা (৩য়) মূড়ি পত্র রিসিভ/রশিদ না পাওয়ার কারনেই, আপনি হয়ত শুধুই দেশের মালিকানার নবায়ন কার্ড বাদেই বসবাস করতেই থাকবেন। কিন্তু ভোট প্রদানের ফিরতি মূল মূড়ি পত্রটি না থাকার কারনে আপনি কিন্তু পরবর্তীর ০৫ বছর রাষ্ট্রীয় পেনশন সহ কোন সুযোগ সুবিধা নিতে পাবেন না। ফলে আপনি এই দেশে বসবাস করলেও অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।                                                                                   
 

(চ) আসন্ন জাতীয় সংসদের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রমানক ফিরতি মূড়িপত্রের রশিদটি হারিয়ে গেলে এর ফটোকপি দেখিয়ে স্থানীয় নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে পুনুরায় আগামী ০৫ বৎসরের রাষ্ট্রীয় মালিকানার শুধুমাত্র নবায়ন কার্ডটি সকল কর্মকান্ডে ব্যবহারের লক্ষ্যে ফিরতি রশিদের ৪র্থ কপির প্রত্যয়ন অবশ্যই সংগ্রহ করিতে হইবে।
 

(ছ) মনে রাখবেন, আপনার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ মানেই কিন্তু প্রাপ্ত প্রমানক ফিরতি রশিদটিই আপনার আগামী ০৫ বছরের রাষ্ট্রের মালিকানার, নাগরিকত্ব এবং ভোটাধিকার অধিকারের নবায়ন চালু থাকবে। আর ভোটাধিকার প্রয়োগের পর যার-যার ফিরতি প্রাপ্ত প্রমানক রশিদটি সকল ক্ষেত্রে ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগামী ০৫ বছর দেশের সকল সুযোগ সুবিধা পাওয়ার একমাত্র উপায় করা হবে। দেশের সকল অফিসিয়াল ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার থাকলেও জাতীয় নির্বাচনের বেলায় ৩০০ আসনেই সর্বদা নির্বাচন কমিশনের জল ছাপযুক্ত রঙ্গিন ব্যালট পেপার ও সীল মোহর ব্যবহার দ্বারা ভোট প্রদানের ব্যবস্থা আরও কমপক্ষে ২০ বছর বহাল রাখতে হবে। কোন ইভিএম পদ্ধতি চলবে না। কারন এই দেশে এখনও ৬০% এর উপরের সাধারণ জনগণ স্বশিক্ষিত। যেদিন ৮০% মানুষ সুশিক্ষিত হবেন, সেদিন কেবল ইভিএম দ্বারা সব ভোট চালাবেন । এখন ইভিএম এর প্রয়োগ করা কোন ভাবেই কাম্য নয়। কে কিভাবে জনগনের ভোট প্রদানে নকল করান? সাধারণ জনগণ ভোট প্রদানে বিমুখ কেন? এই ফর্মূলা প্রয়োগের ফলে দেখবেন রাত ০৭টা পষর্ন্ত ভোট দেওয়ার জন্য সাধারণ জনগণ বুদে বুধে অপেক্ষা করতে থাকবেন। NID এর পাশাপাশি ভোট প্রদানের ফিরতি মুড়িপত্র গ্রহনের প্রমানকের রশিদটির এতটাই মূল্য হবে যে, এটি পাওয়ার জন্য সঠিব ভাবে প্রত্যেক ভোটার ভোট প্রদানের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠবেন এবং ফিরতি মূল মূড়িপত্রের প্রমানকটি রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহারের আইন থাকার স্বার্থে কেউ কারো ভোট চুরি/ ভোট নকল করতেই দিবেন না।
 

(জ) ছোট্ট ও সহজ এই আইনটি মহান সংসদে বর্তমান সরকার পাশ করলেই দেখবেন বহু নিবন্ধিত দলের মধ্যে আর কোন দলই পাগলের মত কেয়ারটেকার এর মাধ্যমে নির্বাচন করার প্রশ্নই আনবেন না। কে নির্বাচনে আসল বা কোন দল ভোটে অংশ নিল না। কেন ভোট করল না, তা দেথার আর কথাই থাকবে না। ক্ষমতায় থেকেও যে সত্যিকারের ভোট করা যায় এবং যিনি জেতার তিনিই শুধু জিতবেন। গনতন্ত্রে ও মানুষের মনে প্রতি ০৫ বছর অন্তর-অন্তর এই নতুন মাত্রার রং লাগবে যা কেয়ার টেকার নিয়ে আর কোন দিন যুদ্ধই হবে না। দেখবেন, প্রত্যেক কেন্দ্রে-কেন্দ্রে ভোট প্রদানের জন্য তীব্র ভীর লেগেই থাকবে। ভোটের কি মূল্য সেইদিন সবাই টের পাবেন। ভোটে-ভোটে একাকার হয়ে গেছে, সব পক্ষই বুঝবেন গনতন্ত্র ও জনগণ আসলে কি জিনিস? প্রকৃত পক্ষে এই ফর্মূলাটি কারো পক্ষের হয় নাই।  এই ফর্মূলাটি কোন স্বপ্ন নয়, বরং বাস্তব ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নতুন প্রতীক হিসাবে কাজ করবে। জাতীয় নির্বাচনে ভোট করার ব্যয় তখন ২৫% এ চলে আসবে। দেখবেন, যে দলের কর্মকান্ড গুলো ঠিক-ঠাক আছে তেনারাই আপনা-আপনি ক্ষমতায় যাবেন। নিয়ম অনুযায়ী বিরোধী দল নিদ্ধারিত হয়ে যাবেন। এই ফর্মূলাটি শুধুমাত্র জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রযোজ্য হবে। (স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্যএই ফমূলাটি তেমন কাম্য নহে, তবে দলীয় মার্কায় ভোট করা সমীচিন হবে না) ।
 

(ঝ) পাঁচ (০৫) বছর পর-পর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ নিজ এলাকায় যারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন না, তাহলে রাষ্ট্রের কোন সুযোগ নিতে চাইলেও ভোটাধিকার প্রয়োগ না করার ফলে একটি ফিরতি মুড়িপত্রের প্রমানক পাকা রিসিভ/রশিদও পাবেন না। ফলে আপনি এই দেশে বসবাস করেও বিশেষ/সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। এই আইনটি পাশ হলে হ্যামিলিয়নের বাশিঁওয়ালার মত না হলেও রাষ্ট্র থেকে প্রতি বছরের সকল সুবিধা বঞ্চিত না হওয়ার ভয়ের ও আইন করার কারনেই ৮০% এর বেশি বাক্স্রে জনগণের ভোট পড়বে। রাজনৈতিক সলিউশনের ফর্মূলার এই আইন তৈরী হলে এর বলয়ে নির্বাচন সুষ্ঠ ও সঠিক হতে বাধ্য থাকবে।                                                   
 

(ঞ) এতে করে যার যার ভোট তিনি শুধু দিতে পারলেন বলে নিশ্চিত হবেন। এবং প্রত্যেকে জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের ফলে ভোটের বুদ থেকে প্রত্যেকে ভোট প্রদানের ফলে ফিরতি প্রাপ্ত প্রমানক হিসাবের একটি পাকা মূড়িপত্রের রিসিভ/অথবা একটি ভোটার একটি ভোট প্রদানের বিপরীতে একটি নির্বাচন কমিশন থেকে ফিরতি প্রাপ্তি স্লিপ পাবেন। ভোট প্রদানের পর শেষ অংশের ফিরতি পাকা মুড়িপত্র দেখিয়ে আগামী পাঁচ বছর দেশ থেকে তার অধিকারের সকল সুবিধা ভোগ করবেন। ফলে গনতন্ত্রকে সুসংহত করা এবং গনতন্ত্রকেই গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আনার ও রক্ষার চেষ্ঠা চালু থাকবে। এতে করে কোন দল জয়ী হল, আর কে বিরোধী দলে থাকল, তখন আর জনগণের বিবেচ্য বিষয় হিসাবে থাকবে না।  
পরিশেষে, এই রাজনৈতিক সলিউশনের ফর্মূলাটি কারো পক্ষে যাবে না, কেউ ভালো চোখে হয়ত নিবেন না। কারো হয়ত ভালো লাগবে না। কারন, স্বার্থটি এখন আর একার মাঝে থাকবে না। অনেকেই স্বার্থ রক্ষার সুফলটি না দেখার কারনে অহেতুক বলতে পারেন। তবুও এই ফর্মূলাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে দেখুন,যাচাই-বাচাই অন্তে আমার ফর্মূলাটি যদি গ্রহন করা যায় তবে সব সমস্যার সমাধান হবে। । আপনিও এই দেশের নাগরিক হয়ে একটি গণতান্ত্রিক ধারার রাজনৈতিক সলিউশনের সুস্থ ফর্মূলা দিন, এতে দেশের মঙ্গল হবে। যে দলই  আমার এই রাজনৈতিক সলিউশনের ফর্মূলার পূর্ণ/আংশিক ব্যবহার করে নির্বাচিত সরকার হবেন, সেই সরকারের নিকট আমার নিচের ০৪টি শর্ত পূরণে পরিপূর্ণ বিবেচনায় আনতে হবে।
 

আমার নিজের শর্তগুলো নিন্মরুপঃ
শর্তঃ ১) মরণোত্তর কালে তাৎক্ষনিক সকল স্তরের সরকারি/বেসরকারি ভিসি, প্রভিসি,অধ্যক্ষ,উপাধ্যক্ষ, অধ্যাপক, প্রভাষক, ও সকল স্তরের মৃত: শিক্ষকদের জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢেঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নিরস্ত্ররভাবে একটু রাষ্ট্রীয় সালামের সম্মান জানিয়ে দাফন/সমাহিত/দাহ করার ব্যবস্থা সরকারকেই আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষনা দিতে হবে।
২) বাংলাদেশের সকল ৯৮% বেসরকারি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় করণের আওতায় আনা এবং আগামী অর্থবছরে সরকারি করণ করার ঘোষনা দিতেই হবে।
৩) দেশের সরকারি/বেসরকারি সংযুক্ত মাধ্যমিক সহ সকল স্তরের ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব বাড়িয়ে ঢেঁলে সাজাতে হবে, যাতে করে যে কোন নির্বাচিত সরকার আগামীতে দেশের বেকারত্বের হার ৫০% কমিয়ে আনতে তার প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন।
৪) সারা দেশের মাধ্যমিক সহ সকল স্তরের কারিগরি শিক্ষা প্রসারে ব্যাপক প্রচারের কাজটি করার সুযোগ চাই, এবং এই লক্ষ্যে সরকারকে চলমান কাজের জন্য যাতায়ত ব্যবস্থাসহ সার্বিক কিছু ব্যবস্থা প্রয়োজনে সরকার করে দিতে পারেন ।


মোঃ সরওয়ার মোরশেদ মোড়ল।
(কারিগরি শিক্ষক) ডিপ-ইন-ইঞ্জি, এম এ, এম এড.
কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, করিমপুর, কালীগঞ্জ, লালমনিরহাট।
ই-মেইল: [email protected]. মোবাইল- 01714-333587

Ads