খননকৃত খালকে আয়বর্ধক খাতে ব্যবহারের নির্দেশ ত্রাণমন্ত্রীর
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশে বিভিন্ন সময়ে খনন ও পুনঃখনন করা খালগুলোকে শুধু পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
শনিবার রাজধানীর কেআইবি সম্মেলন কেন্দ্রে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থে খনন করা খালকে শুধু অবকাঠামো হিসেবে দেখলে হবে না। খালকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কীভাবে বাড়ানো যায়, তা বিবেচনা করতে হবে। খাল খননের পর এর সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে আয়বর্ধক কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে শুধু প্রচলিত ত্রাণ ও সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় পরিবেশ, জনগণের প্রয়োজন এবং বাজারব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
নতুন আয়বর্ধক উদ্যোগের কার্যকারিতা যাচাই করতে চলতি বছর প্রাথমিকভাবে ২৫টি উপজেলায় পরীক্ষামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। এসব কর্মসূচির ফলাফল মূল্যায়নের পর সফল উদ্যোগগুলো দেশের অন্যান্য এলাকায় সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
তিনি বলেন, শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই হবে না; প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের আয় কতটা বাড়ছে, কর্মসংস্থান হচ্ছে কি না এবং তারা কতটা স্বাবলম্বী হচ্ছেন, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের উদাহরণ হিসেবে মাশরুম চাষের কথা উল্লেখ করেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, তুলনামূলক কম পুঁজিতে মাশরুম চাষ শুরু করা সম্ভব এবং এর বাজারও রয়েছে। প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া গেলে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে আয় বাড়াতে পারেন।
স্থানীয় পর্যায়ে ছোট পরিসরে উদ্যোগ শুরু করে ধীরে ধীরে তা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
দুর্যোগপ্রবণ মানুষের আবাসন ও পুনর্বাসন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মানুষকে নিজস্ব সমাজ ও পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে পুনর্বাসনের পরিবর্তে নিজ এলাকায় থেকেই স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু একটি ঘর বা আশ্রয় দেওয়া যথেষ্ট নয়। পুনর্বাসনের সঙ্গে জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান, আয় এবং সামাজিক সংযোগের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রচলিত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের জন্য ১০ কেজি চালের সহায়তা বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এ কারণে চালের পরিমাণ ১০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ২০ কেজি করার একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান তিনি। এ জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
সরকারি সহায়তা সরাসরি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এতে অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ার পাশাপাশি অপচয় ও অনিয়ম কমানো সম্ভব হবে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি সরকারি কর্মসূচিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার ব্যবহার আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।
কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির নাম ও কাঠামো সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তনের বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন তিনি। সম্ভাব্য কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান এবং মহাপরিচালককে সদস্য সচিব করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও পিআইওদের প্রতিনিধি রাখার কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কোনো প্রকল্পের সাফল্য শুধু কত টাকা ব্যয় হয়েছে বা কতটি অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে—তা দিয়ে পরিমাপ করা উচিত নয়। প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান কতটা বেড়েছে এবং স্থানীয় অর্থনীতি কতটা শক্তিশালী হয়েছে, সেসব বিষয়ও মূল্যায়নে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিনি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে নতুন ও উদ্ভাবনী কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশ দেন।
সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, সচিব সাইফুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





























