যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৭ জুন ২০২৬, ১০:৫১ এএম


যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলা

 

রানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এর কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আজ শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি টেলিগ্রাম বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংঘাত আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে আইআরজিসি স্পষ্ট ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছে। বাহিনীটি জানিয়েছে, তাদের ওপর নতুন করে কোনো আগ্রাসন বা হামলার পুনরাবৃত্তি করা হলে, এবার ইরানের পক্ষ থেকে আরও ব্যাপক ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার জের ধরে তারা ইরানের বেশ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ওই বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পেছনে সরাসরি তেহরানের হাত রয়েছে।

অথচ মাত্র গত সপ্তাহেই দীর্ঘদিনের যুদ্ধাবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনা কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে হামলা এবং এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে আবারও গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।

ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এই সংঘাত পুরো বিশ্বের জন্যই উদ্বেগের কারণ। কারণ, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই পরিবাহিত হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফলে এই অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারকে আবারও তীব্র অস্থিরতার দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার দিনের শুরুতেই ওয়াশিংটন থেকে একটি কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’-তে হওয়া আক্রমণকে গত ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারকের একটি ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন।

ঐতিহাসিক ওই সমঝোতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। মূলত এর মাধ্যমেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ এবং তেহরানের পাল্টা হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত হয়।

তবে ভূ-রাজনীতিবিদদের মতে, এই সমঝোতাটি চূড়ান্ত কোনো চুক্তি ছিল না; বরং এটিকে স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে পরবর্তী আলোচনার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

Ads