গ্রিনল্যান্ডের দাম নির্ধরণ করল পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৬ পিএম


গ্রিনল্যান্ডের দাম নির্ধরণ করল পুতিন


রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল বুধবার জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে রাশিয়ার কোনো উদ্বেগ নেই। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ডেনমার্কের নিজেদের মধ্যেই এই বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া উচিত। তবে এ সময় তিনি গ্রিনল্যান্ডের প্রতি ডেনমার্কের ঐতিহাসিক আচরণের সমালোচনা করতে ভুলেননি। তিনি আরও জানান, এ দ্বীপের মূল্য ১০০ কোটি ডলার (১ বিলিয়ন ডলার) হতে পারে।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আগ্রহের ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইউরোপের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, মস্কো তা বেশ উপভোগ করছে। যদিও উত্তর মেরু বা আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার শক্তিশালী উপস্থিতি থাকায় এই ঘটনার প্রভাব রাশিয়ার ওপরও পড়তে পারে।

ট্রাম্পের অবস্থান ও পুতিনের প্রতিক্রিয়া

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে এসেছেন এবং সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ডেনমার্কের এই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি নিয়ে চলা বিরোধ মেটাতে একটি চুক্তির দিকে অগ্রগতি হচ্ছে।

পুতিন এই বিষয়ে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে কথা বলতে গিয়ে জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য ট্রাম্পের এই প্রচেষ্টায় রাশিয়ার কোনো আপত্তি নেই। পুতিন ধারণা করছেন, গ্রিনল্যান্ডের মূল্য সর্বসাকুল্যে প্রায় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার হতে পারে।

পুতিন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের এক সভায় বলেন, ‘‘গ্রিনল্যান্ডে কী ঘটছে তা নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘ডেনমার্ক বরাবরই গ্রিনল্যান্ডকে একটি কলোনি বা উপনিবেশ হিসেবে দেখেছে এবং তাদের প্রতি বেশ কঠোর, এমনকি নিষ্ঠুর আচরণও করেছে। তবে সেটি ভিন্ন বিষয়, এখন আর তা নিয়ে কারো আগ্রহ নেই।’’

এতবড় দ্বীপকে মাত্র ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যমান?

ইউক্রেনকে ডেনমার্কের আর্থিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান রাশিয়াকে ক্ষুব্ধ করেছে। অন্যদিকে, মস্কো গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চায়—ট্রাম্পের এমন ইঙ্গিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিরক্ত হলেও তারা ট্রাম্পের সরাসরি সমালোচনা করছে না। কারণ ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর জন্য মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছেন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মঙ্গলবার বলেন, প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর প্রায় ২০ লাখ বর্গকিলোমিটারের এই বিশাল দ্বীপটি (যেখানে ইতোমধ্যেই মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে) ডেনমার্কের কোনো ‘প্রাকৃতিক অংশ’ নয়।

পুতিন মনে করিয়ে দেন যে, ১৮৬৭ সালে রাশিয়া ৭২ লাখ ডলারে আলাস্কাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করেছিল। ১৯১৭ সালে ডেনমার্ক ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জকে ওয়াশিংটনের কাছে বিক্রি করেছিল।

আলাস্কার সেই দামকে বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি, গ্রিনল্যান্ডের বিশাল আয়তন এবং সোনার দামের পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করে পুতিন বলেন, ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কিনতে ওয়াশিংটনের প্রায় ১০০ কোটি ডলার (১ বিলিয়ন) খরচ হতে পারে। তিনি মনে করেন, এই অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য যুক্তরাষ্ট্রের আছে।

পুতিন পরিশেষে বলেন, ‘‘আমার মনে হয় তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে এটি সমাধান করে ফেলবে।’’

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ক থেকে গ্রিনল্যান্ডকে কিনতে সর্বোচ্চ ৭০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ করতে প্রস্তত এবং গ্রিনল্যান্ডের ৫৭ হাজার বাসিন্দার প্রত্যেককে ১ লাখ ডলার করে দিতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।

সূত্র: রয়টার্স

Ads