টুঙ্গিপাড়ার পুবের বিলে অনাবাদি জমিতে ডালা পদ্ধতিতে সবজি চাষে ব্যপক সাড়া
১২ আগস্ট ২০২৩, ১০:৪২ পিএম
টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পৈত্রিক অনাবাদি ফসলী জমিতে ডালা পদ্ধতিতে মিষ্টি কুমড়া ও লাউসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি উৎপাদন করে টুঙ্গিপাড়াসহ গোটা গোপালগঞ্জবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। এ ধরনের পদ্দতিতে এরআগে এ এলাকায় সবজি চাষ হয়নি। এই প্রথম সম্পুন্ন নতুন পদ্দতিতে সবজি চাষ হওয়ায় এটাকে প্রধানমন্ত্রীর চমক হিসাবে ধরে নিয়েছেন গোপালগঞ্জবাসী।
আজ শনিবার ১২ আগষ্ট ভোরে টুঙ্গিপাড়ার পুবের বিলে গেলে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো, রফিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয় কৃষি বিভাগের সাবিক সহায়তায় নাটোরে বাড়ী আলমগীর হোসেন নামে ২১ বছর বয়সের এক যুবক সম্পুন্ন নতুন পদ্দতিতে এ কাজটি করেছেন।
আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, টুঙ্গিপাড়ার পুবের বিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পৈত্রিক জমিতে কমপক্ষে কোমর পানি। প্রথমে সেই পানির ভিতর ৩ হাত পর পর চারটি করে বাঁশ মাটিতে পুতে নাইলনের মজবুত নেট ও পলিথিন ছিদ্র করে বিশেষ পদ্দতিতে ”ডালা” তৈরী করে বাঁশের খুটির সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এভাবে ৯০টি ডালা তৈরী করা হয়েছে। এরপর, প্রত্যকটি ডালার ভিতরে ভার্মি কম্পোস্ট মাটি আর জৈব সার এক সাথে মিশিয়ে ওই ডালা ভর্তি করা হয়েছে। তারপর সেখানে মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ঝিংগে, ধুন্দল, শসা, চিচিংগা ও উস্তেসহ নানান প্রকার সবজির চারা রোপন করা হয়েছে। এরপর এক মাসের মধ্যেই আমরা ফসল দেখতে পাই এবং ঘরে তুলি।
আলমগীর হোসেন আরো জানায়, প্রতিটি ডালা তৈরী করতে সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ টাকা খথরচ হয়। কম খরচে এবং অল্প সময়ের মধ্যে এসব সবজি উৎপাদন করে যে কোন লোক ঘরে বসেই জীবিকাধারন করতে পারেন। ডালা পদ্ধতিতে সবজি চাষে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার একেবারে নেই বললেই চলে। পানি থাকার কারণে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়। ফলে প্রচুর পরিমাণে সবজি উৎপাদন হয়। আর এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে লাভবান হওয়া সম্ভব বলেও মনে করেন আলমগীর।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার একাংশে রয়েছে পাঁচটি বিল। এগুলো হলো পুবের বিল, জোয়ারিয়া বিল, মধুখালী বিল, হোগলার বিল ও তারাইল বিল। বছরের অধিকাংশ সময় এসব বিলের প্রায় সব জমিতেই পানি থাকায় দীর্ঘ ৫০ বছর অনাবাদি ছিল। সম্প্রতি বালাডাঙ্গা গ্রামের পুবের বিলে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর বংশীয়দের ৮০ বিঘা জমি বাঁশের তৈরি বানা দিয়ে ঘিরে সেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। সেই জমির একটি অংশে ডালা পদ্ধতিতে এ সবজির আবাদ করা হয়েছে।
পরে আরও ডালা বানানোর মাধ্যমে এ সবজি চাষ সম্প্রসারণ করা হবে। এই পদ্ধতিকে সম্প্রসারণ করা গেলে সারা দেশের দীর্ঘমেয়াদি অনাবাদি ও জলাবদ্ধ যে পতিত জমি রয়েছে, তার সদ্ব্যবহার করা যাবে।


























