বিল নিয়ে বিরোধে ঘর ভষ্মীভূত: খোলা আকাশের নিচে ৩১ পরিবার

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১০:১৫ পিএম


বিল নিয়ে বিরোধে ঘর ভষ্মীভূত: খোলা আকাশের নিচে ৩১ পরিবার

বিল নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধে জোসনা সর্বশান্ত।  আগুনে ছাই হয়েছে দুটি ঘর, স্কুল পড়ুয়া দু’মেয়ের বই-স্কুল ড্রেসসহ সর্বস্ব। অন্যের বাড়িতে নিয়েছে আশ্রয়। শুধু জোসনা-ই নয়, এমন অবস্থা আরো ৩০টি পরিবারের। টিনের ঘর, আধাপাকা দালান এমনকি বাড়ির ফলজ গাছও পুড়ে ছাই। পেট্রোলের আগুনে এসব ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় মামলাও নেয়নি পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানালেও নেয়নি কোনো ব্যবস্থা।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার কামালপুর ও হাজীপুরের সর্বশান্ত মানুষেরা এখন খোলা আকাশের নিচে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ, সমাপনী পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা অনিশ্চিত।

উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের বিল হুগলী নিয়ে গত ৩ নভেম্বর বিরোধে জড়ায় দু’পক্ষ। তখন পেট্রোল ঢেলে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বিলের ইজারাদাররা। এর আগের দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা হয়। পরিস্থিতি সামলাতে ছুড়তে হয় ১১০ রাউন্ড রাবার বুলেট, ৫ রাউন্ড টিয়ারসেল, ১ রাউন্ড পিস্তলের গুলি। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বিল নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। সীমানা নির্ধারন না করে ইজারা দেয় প্রশাসন। গত বছর বড়উঠান মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ২৪ একর ৮৮ পয়েন্ট আয়তনের বিল এক লাখ ৫১ হাজার টাকায় ইজারা নেয়। অভিযোগ রয়েছে, ইজারা নিয়ে সমিতি সাত লাখ টাকায় বিক্রি করে বুল্লা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ফুল মিয়া ও বর্তমান ইউপি সদস্য কাউসার আহম্মেদের কাছে। তারা কৃষকদের ব্যক্তিগত জমি থেকে মাছ আহরণ করলে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।  হাজীপুর গ্রামের বদরুল আলম জানান, 'হুগলী বিলে বুল্লার কাউসার মেম্বারের নেতৃত্বে বাধ দিয়ে মাছ ধরা হয়। গত দেড়মাস আগে আদালত থেকে তাদেরকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়। কোর্টের রায়কে অমান্য করে দেয় বাধ দেয়। ২ নভেম্বর অস্ত্র নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পুলিশের ওপর হামলা করে। পরদিন মাছ ধরার সময় হাজীপুর, হাতুরাপাড়,পাইকপাড়া বাগদিয়া ও বুল্লার মানুষের সাথে ঝগড়া হয়।' হরষপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানান, 'বুল্লা, বড়উঠান, বড়ছাল, নয়াহাটি ও মাইঝপাড়ার লোকজন নিরীহ মানুষের ঘরবাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন দেয়। নেতৃত্ব ছিলেন বুল্লার ফুল ইসলাম, বর্তমান ইউপি সদস্য কাউসার আহমেদ, আশু মিয়া, হীরা লাল, নারায়ন দাশ ও আজিজুল।' কামালপুর গ্রামের ফুল মিয়ার পাঁচটি ঘরই পুড়ে গেছে আগুনে।গৃহবধূ জাসমিন আক্তার বলেন,'বিলের ঝগড়ায় অামাদের সব শেষ। আমরা অসহায় অবস্থায় আছি।' স্বামী আরিজ মিয়া মৃত্যুতে টানাপোড়েনে থাকা জোসনার। দুটি ঘরই পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। আগুনে ঘর পুড়েছে ৩১টি পরিবারের শতাধিক ঘর। ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদনেও সাড়া দেয়নি। এখন তারা খোলা আকাশের নিচেই রয়েছেন। 

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল কবির বলেন, 'তারা যে অভিযোগ দিয়েছিলো তাতে অতিরিক্ত লেখা হয়েছে। সেজন্যে মামলা হয়নি। একটু প্রেসারে থাকুক, সব ঠিক হয়ে যাবে, ভবিষৎতের জন্যেও ভালো হবে।' বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহের নিগার জানান, 'প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।' জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান বলেন, 'শিক্ষার্থীদের বই পুড়ে গেছে-সামনে পরীক্ষার কথা শুনে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের গত ১৪ নভেম্বর পাঠানো হয়।তারা ক'জন শিক্ষার্থীদের বই দিয়ে এসেছে। বিল নিয়ে দুটি মামলা চলমান রয়েছে। স্থানীয়রা বসে বিষয়টি সমাধান করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।'
Ads