বান্দরবান এ হত্যা–অপহরণে আতঙ্ক
২৫ মে ২০১৯, ০৪:০৯ পিএম
বান্দরবান সদরের দুই ইউনিয়ন রাজবিলা ও কুহালংয়ে মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধানে খুন হয়েছেন তিনজন। অপহৃত হন দুজন। এ নিয়ে দুই ইউনিয়নে পুরুষরা ঘরছাড়া হয়ে যাচ্ছে তাই নারীরা নীরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
সর্বশেষ গত বুধবার কুহালংয়ের উজিমুখ হেডম্যানপাড়ার আওয়ামী লীগ নেতা চথুইমং মারমার অপহরণের ঘটনায় বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আওয়ামী লীগ ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
বাসিন্দাদের ভাষ্য মতে, উই ইউনিয়নে প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ বাস করে। ১৪ এপ্রিল জেএসএস এক নেতাকে গুলি করে হত্যার চেষ্ঠা করা হয়। তারপর থেকেই দলছুট আরাকান লিবারেশন ও জেএসএস এর সাথে পাল্টাপাল্টি হত্যা ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। আর এ অপহরণের দায় জেএসএস পার্টিকে দিয়ে আসছে।
জেএসএসের বান্দরবান জেলা সভাপতি উছোমং মারমা বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র ক্যাডার নেই। মগ পার্টি নামধারী দলছুট আরাকান লিবারেশন পার্টির (এএলপি) সশস্ত্র সদস্যদের ভয়ে দুই মাস আগে থেকে আমাদের নেতা-কর্মীরা পালিয়ে রয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাজবিলা ইউনিয়নের তাইংখালী এলাকার ৭ নম্বর, কুহালং ইউনিয়নের ৩ নম্বর রাবারবাগান ও উজিমুখ হেডম্যানপাড়ায় সরেজমিনে দেখা যায় মানুষের চোখেমুখে আতঙ্ক। বাইরের লোক দেখলেই বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ছেন বাসিন্দারা। বাড়িঘরে বৃদ্ধ, নারী ও শিশু ছাড়া যুবক ও মধ্যবয়সী পুরুষ দেখা যায়নি।
জেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে ৭ নম্বর রাবার বাগানপাড়ার একটি ছোট্ট দোকানে কয়েকজনকে পাওয়া যায়। নাম প্রকাশ না করে তাঁরা বলেন, রাতে তাঁরা কেউ বাড়িতে থাকার সাহস পান না। ৭ ও ৮ নম্বর বাগানপাড়ার ৭০টি মারমা পরিবারের নারী-শিশুরা
ভয়ে একসঙ্গে এক বাড়িতে রাত কাটান। এই দুই ইউনিয়নে জেএসএসের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সমর্থকও রয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জেএসএসের জেলা সভাপতি উছোমং মারমা বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জেএসএসের সম্পর্ক নষ্ট করে ফায়দা লোটার জন্য তৃতীয় একটি পক্ষ এ রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গেল জাতীয় নির্বাচনের সময় মগ পার্টির আবির্ভাব ঘটে। মগ পার্টিতে কিছু স্থানীয় মারমা যুবক ও বহিরাগত দলছুট আরাকান লিবারেশন পার্টির সদস্য রয়েছে। মগ পার্টি হঠাৎ করে এসে জেএসএসের নেতা-কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া শুরু করে। এ অবস্থায় রাঙামাটির রাজস্থলীতে এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে জেএসএসের ক্যাডারদের সঙ্গে মগ পার্টির একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে পাল্টাপাল্টি হত্যা ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। কুহালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সানুপ্রু মারমা বলেন, কুহালং ও রাজবিলা ইউনিয়নের সবাই দুঃসহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য তাইংখালী ৮ নম্বর রাবারবাগানে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি অস্থায়ী চৌকি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বান্দরবানের পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, হত্যা-অপহরণ বন্ধ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাবারবাগানে সেনা-পুলিশের একটি অস্থায়ী যৌথ চৌকি করা হবে।

























