১৮ জানুয়ারি কম্পিউটার উৎপাদনে যাচ্ছে ওয়ালটন
০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১০:৪৮ পিএম
এবার কম্পিউটার উৎপাদনে যাচ্ছে ওয়ালটন। মোবাইল ফোনের পর ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মনিটর উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী ১৮ জানুয়ারি উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ওয়ালটনের কম্পিউটার কারখানা।
ওইদিন কারখানাটি উদ্বোধন করবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বিশেষ অতিথি থাকবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
ওয়ালটন সূত্র জানায়, কম্পিউটার কারখানার উদ্বোধনের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এরইমধ্যে ট্রায়াল প্রোডাকশন চলছে। গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজে সুবিশাল এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে এই কারখানা। এখানে রয়েছে ল্যাপটপ ও কম্পিউটার ডিজাইন ডেভেলপ, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ, মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও টেস্টিং ল্যাব। স্থাপন করা হয়েছে বিশ্বের লেটেস্ট জাপানী ও জার্মান প্রযুক্তির মেশিনারিজ।
এরইমধ্যে এসএমটি (সার্ফেস মাউন্টিং টেকনোলজি) সিস্টেমের মাধ্যমে পিসিবি (প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড) এর উপর অতি নিখুঁতভাবে সূ² সূ² পিন বসিয়ে উচ্চ গুণগতমানের পিসিবিএ বা মাদারবোর্ড তৈরি শুরু হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের পর্যাপ্ত মজুদ। ওয়ালটন কম্পিউটার কারখানায় কর্মসংস্থান হবে এক হাজার লোকের।
প্রাথমিকভাবে, এই কারখানায় মাসে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার ইউনিট ল্যাপটপ, ৩০ হাজার ইউনিট ডেস্কটপ এবং আরো ৩০ হাজার ইউনিট মনিটর। পর্যায়ক্রমে কম্পিউটারের অন্যান্য অ্যাক্সেসরিজসহ পেন ড্রাইভ, কিবোর্ড এবং মাউস উৎপাদনে যাবে ওয়ালটন।
ওয়ালটনের এই কারখানায় তৈরি হবে ইন্টেলের সর্বশেষ প্রজন্মের প্রসেসরযুক্ত ল্যাপটপ। উৎপাদন হবে ৬ মডেলের ওয়ালটন ডেস্কটপ এবং ২ মডেলের ওয়ালটন মনিটর।
ওয়ালটন কম্পিউটারের প্রজেক্ট ইনচার্জ মো. লিয়াকত আলী জানান, দেশে প্রযুক্তিপণ্যের গ্রাহক দিন দিন বাড়ছে। গ্রাহকচাহিদা মেটাতে অনেকেই শুধু আমদানির ওপর নির্ভর করছে। ওয়ালটন শুরু থেকেই দেশীয় উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এবার দেশেই তৈরি হতে যাচ্ছে ডেস্কটপ পিসি, ল্যাপটপ ও মনিটরের মতো প্রযুক্তিপণ্য। যার ফলে সাশ্রয়ী মূল্যে দেশে তৈরি উচ্চমানসম্পন্ন এসব পণ্য পাবেন ক্রেতারা।
ওয়ালটনের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও দেশের অভ্যন্তরীণ মানবসম্পদের উন্নয়নে একের পর এক স্বাপ্নিক উদ্যোগ নিচ্ছে ওয়ালটন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর ওয়ালটন চালু করেছে দেশের প্রথম মোবাইল ফোন উৎপাদন কারখানা। এবার চালু হচ্ছে কম্পিউটার উৎপাদন কারখানা। পর্যায়ক্রমে আরো আইসিটি এবং আইওটি পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে ওয়ালটনের।’
উদয় হাকিম আরো বলেন, ‘দেশীয় কম্পিউটার কারখানা গড়ে ওঠায় এ খাতের আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে। রফতানি থেকেও বিশাল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ব্যাপকভাবে বিকশিত হবে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার শিল্পের মতো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রিজ। সর্বোপরি, ওয়ালটনের এই কারখানা হাই-টেক শিল্পের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক।’

























