সাইবার আইনে সাংবাদিক গ্রেফতারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব

মুহাম্মদ ইসমাইল হাসান

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম


সাইবার আইনে সাংবাদিক গ্রেফতারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়ায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারসহ আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে হয়রানি বা ভিকটিমাইজেশন ঠেকাতে এ প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ, সাইবার স্পেসে কাজ করা ব্যক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনটি যাতে নিপীড়নমূলক কোনো আইনে পরিণত না হয়, সে জন্য সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে খসড়া আইনটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য পক্ষ এরই মধ্যে মতামত দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক, সাংবাদিক, সংবাদপত্রের সংগঠন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। সোমবারের বৈঠকটি ছিল ধারাবাহিক আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব।

তিনি বলেন, বৈঠকে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আইনটিতে অতিরিক্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব এসেছে। বিশেষ করে সাংবাদিকরা যাতে এই আইনের অপব্যবহারের শিকার না হন, সে বিষয়ে মতামত নেওয়া হচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবাদপত্র, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার কোনো সাংবাদিক যাতে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য একটি প্রস্তাব এসেছে—সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে, বিশেষ করে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। তিনি এ প্রস্তাবকে উপযুক্ত বলে মনে করেন।

এ ছাড়া আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার প্রস্তাবও এসেছে বলে জানান তিনি। এতে কোনো ব্যক্তি অনির্দিষ্টকাল ধরে আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে থাকবেন না বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবগুলো সমন্বয়ের জন্য প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) একজন ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও তথ্য মন্ত্রণালয় এ প্রক্রিয়া সমন্বয় করবে।

এতে সংবাদপত্রের সম্পাদক পরিষদ, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংগঠন এবং সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হবে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেলও গঠন করা হবে।

তিনি বলেন, আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

খসড়াটি মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে আবারও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তখনও সংশ্লিষ্টরা মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

সংসদে বিলটি গেলেও তাড়াহুড়ো করে পাস করা হবে না বলে জানান তিনি। সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আলোচনার পাশাপাশি সংসদের বাইরেও বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে মতামত নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি আইন প্রণয়ন করা, যার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।

Ads