জানুয়ারিতে সংসদে উঠতে পারে সংবিধান সংশোধন বিল, থাকছে গণভোটের প্রস্তাব
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এর আগে ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংশোধনী বিল প্রণয়ন করবে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের মৌলিক কোনো বিষয়ে পরিবর্তন আনা হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোটের আয়োজন করা হবে। বিশেষ করে সংবিধানের প্রস্তাবনা, ১৪২ অনুচ্ছেদ বা সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধানে পরিবর্তন এলে গণভোটের বাধ্যবাধকতা থাকবে।
তিনি বলেন, গণভোট সাধারণত দুই ধরনের হতে পারে—সাংবিধানিক গণভোট এবং কোনো আইন বা নির্দিষ্ট বিষয়ে গণভোট। জাতীয় পর্যায়ে কোনো বিষয়ে গণভোট আয়োজনের সুযোগ থাকলেও সংবিধানে সাংবিধানিক গণভোটের বাইরে অন্য বিষয়ে গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই।
১৪২ অনুচ্ছেদে ফিরেছে গণভোটের বিধান
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে আগে সাংবিধানিক গণভোটের বিধান ছিল। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেটি বাতিল করা হয়। পরে পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলসংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ১৪২ অনুচ্ছেদের ওই বিধান পুনরায় কার্যকর হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সংসদে সংবিধান সংশোধনী পাস হওয়ার পর যেসব বিষয়ে গণভোটের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকবে, সেগুলো রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে জনগণের ভোটে দেওয়া হবে। গণভোটে সংশোধনীর পক্ষে মত এলে তা অনুমোদিত হবে এবং এরপর রাষ্ট্রপতি তাতে স্বাক্ষর করবেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাও গণভোটের আওতায়
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে গণভোট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান কমিটির সভাপতি।
তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনে তাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, ভবিষ্যতে কোনো সংসদ যাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সংশ্লিষ্ট বিধান পরিবর্তন করতে না পারে, সে জন্য ওই বিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক করা হোক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ওই সাংবিধানিক বিধানে কোনো পরিবর্তন আনতে চাইলেও গণভোটের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির পক্ষ থেকেও এসব বিষয়ে গণভোট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দলকে কমিটিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান
সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিরোধী দল কমিটিতে যোগ দিলে তাদের মতামত ও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হবে। গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব থাকলে সবার মতামতের ভিত্তিতে সেগুলো সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, কমিটির পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে একাধিকবার অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষমতা কমিটির নেই; তারা শুধু আহ্বান জানাতে ও অংশগ্রহণের আশা করতে পারে।
রোববারের বৈঠকে জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন। সংবিধানের প্রস্তাবনা, বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও তফসিল নিয়ে তাঁদের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়া যায়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের লিখিত প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জুলাই সনদ ও নির্বাচনি ইশতেহার বিবেচনায়
সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি। একই সঙ্গে নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়নি বা যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলোও আলোচনায় থাকবে। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে সংবিধান সংশোধন নিয়ে যেসব প্রস্তাব রয়েছে, সেগুলোও বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও জানান, সংবিধান সংশোধনের আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলোকে যুক্ত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে কাজ এগিয়ে নিতে চায় বিশেষ কমিটি।
ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন, জানুয়ারিতে বিল
বিশেষ কমিটির সভাপতি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের জন্য কাজ চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় তার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের বিল প্রস্তুত করবে।
তিনি জানান, আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর বিলের ওপর আলোচনা, সংশোধনী প্রস্তাব বা বিরোধিতা থাকলে সেগুলো বিবেচনা করে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংশোধনী পাস করা হবে। যেসব সংশোধনীর ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক, সেগুলো রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোটে পাঠানো হবে।























