মূল্যস্ফীতিই নতুন বছরে অর্থনীতির বড় সমস্যা
১০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৪:৪৯ পিএম
সহিদুল ইসলাম সুমন।
এই মহুর্তে দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। এর অন্যতম অংশ হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। এছাড়াও বৈদেশিক রিজার্ভ কমছে। ডলার সংকটে ব্যবসায়ীরা এলসি খুলতে পারছেন না ইত্যাদি তো আছে ই। ২০২৪ এর অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যাচ্ছে তা নির্ভর করছে আগের বছর অর্থনীতি কেমন ছিল তার উপর।আমরা যদি ফেলে আসা ২০২৩ সাল টি কেমন ছিল তা দেখি, তাহলে খুব ভালো কিছু দেখতে পাইনা। সদ্যবিদায়ী ২০২৩ সালে এ দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬ শতাংশ।২০২৩ সালে মূল্যস্ফীতির দুটি রেকর্ড ছিল। একটি হলো, গত মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশে উঠেছে, যা ১৩৪ মাস বা ১১ বছর দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১২ সালের মার্চে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি দেখা গিয়েছিল। এবং গত আগস্ট মাসে অন্য রেকর্ডটি হয়, যখন হঠাৎ করেই খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রথমবারের মতো দুই অঙ্কের ঘরে ওঠে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, গত আগস্ট মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশে উঠেছে, যা গত ১১ বছর ৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এখানে উল্লখ্য যে ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে যে সংকটগুলো শুরু হয়েছিল তা পুরো ২০২৩ জুড়েই আমাদের ভুগিয়েছে। কোনো কোনো সমস্যা আরো ঘনীভূত হয়েছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের পক্ষথেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে তার অনেক ক্ষেত্রে কিছু সফলতা এসেছে আবার কিছু ক্ষেত্রে সফলতা আসেনি। ২০২৩ সালের সমস্যা নিয়েই ২০২৪ সালে আমরা পা দিয়েছি। এখন যদি বলেন কোন কোন সমস্যা। তাহলে প্রথমেই বলতে হয়, মূল্যস্ফীতি সমস্যার কথা। ২০২৩ সাল জুড়েই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে ছিল। সেটা ২০২৪ সালেও অনেকদিন পর্যন্ত থাকবে বলেই মনে হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রচেষ্টাটা আমাদের অনেক আগেই করা উচিত ছিল; আমরা শুরু করতে অনেক দেরি করে ফেলেছি। যখন সুদের হার বাড়িয়ে অন্যান্য দেশ মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করেছে। আমরা তখন সুদের হার নয় আর ছয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ব ছিলাম, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পর সুদহার বাড়ানো হয়েছে।যার ফলশ্রুতিতে রেজাল্ট পেতে ও সময় লাগবে।নতুন বছরের শুরুতে বেশ কিছু পণ্যের দাম ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, অর্থ পাচার এবং উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীল ও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। এছাড়াও গত কয়েক বছরে দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের অভাব ছিল। ফলে বেড়েছে বেকারত্ব। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির আকার বাড়লেও মানুষের ভোগ, আয় ও সম্পদে বৈষম্য বেড়েছে।এ অবস্থায় দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা মনে করেন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বাড়াতে হবে বিনিয়োগ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা উচিত। এছাড়াও আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ ব্যাংক খাতে সংস্কার জরুরি।
২০২২-২৩ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য যে মুদ্রানীতি দরকার ছিল তার প্রয়োগ দেখা যায়নি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পালনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছে, আইএমএফ থেকে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের শর্তের মধ্যে ছিল সুদহার,মুদ্রার (টাকা-ডলারের) বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দিতে হবে, বৈদেশিক মুদ্রায় রিজার্ভ বাড়াতে হবে। আইএমএফের পরামর্শে সুদহার বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া হলো কিন্তু একটা পলিসি কার্যকর হতে তো কিছুটা সময় লাগে। আবার এটাও মনে রাখতে হবে যে কোনো পলিসি এককভাবে সব পরিবর্তন আনতে পারবে না, সঙ্গে প্রয়োজনীয় অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণও জরুরি। কারন অর্থনীতির সূচক গুলোর একটির সাথে আরেকটি জড়িত। যেমন মূল্যস্ফীতির কথাই ধরা যাক, যদি রাজস্ব নীতি সংকোচনমূলক না হয় তাহলে স্রেফ সুদহার বাড়িয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। সরকার যদি দেদারসে খরচ করে যায় তাহলে তো মুদ্রানীতিটা ঠিকভাবে কাজ করবে না। বাজারে অর্থের সরবরাহ কমাতে চাইলে কিন্তু সরকারের পরিচালন ব্যয়, প্রশাসনিক ব্যয় এগুলো কমানো দরকার। অগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ব্যয় কমিয়ে প্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রকল্প নির্বাচন করতে হবে। প্রয়োজনে কিছু প্রকল্প স্থগিত বা বাতিল করতে হবে। মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির মধ্যে একটা সমন্বয় সাধন করতে হবে।
দেশে মূল্যস্ফীতির পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক ও রেগুলেটরি ব্যর্থতা রয়েছে অর্থাৎ বাজার ব্যবস্থাপনায় বর ধরনের ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়। বাজারে অনেক ধরনের প্লেয়ার থাকে যারা মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এবং পণ্য আমদানিতে ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মনোপলি দেখা যায়। এতে বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে তাদের ক্ষমতার প্রাধান্য থাকে। হয়তো কখনো তারা অজুহাত দেয়, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ব কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দাম থাকায় তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, এ কারণে তাদের বেশি দামে বাজারে ছাড়তে হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা এটা না, বাস্তবে দেখা গেছে, কম দামে আমদানি করলেও আগের বর্ধিত দাম রেখে দিচ্ছে। এতে দ্রব্যমূল্য কমছে না। আরেকটা জিনিস হচ্ছে আমদানি পণ্যের দামের সঙ্গে সঙ্গে দেশে উৎপাদিত পণ্যের দামও বেড়ে যায়। এটা ব্যবসায়ীদের একটা কারসাজি। আমাদের দেশে এত শাকসবজি বা কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন হচ্ছে তাতে তো সংকট হওয়ার কথা নয়। সাধারণত, বাজারে দাম নির্ধারিত হয় সরবরাহ ও চাহিদার ভিত্তিতে। বাজারে সরবরাহের ঘাটতি নেই, তাহলে হঠাৎ করে দাম উল্লম্ফন করার কথা ছিল না। অথচ কয়েকদিন পরপর আমরা এমন দৃশ্যই দেখছি। কখনো কাঁচামরিচ, কখনো-বা আলু, ডিম, পেঁয়াজ ইত্যাদির দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। বাজারে যে কারসাজি হচ্ছে তা এই বাজার ব্যবস্থাপনারই দুর্বলতা। এখানে যে কারসাজি তা সিন্ডিকেটের কারসাজি, যা অবৈধ। এ ব্যাপারে তো পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু আমাদের এখানে সিন্ডিকেশনের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ দেখছি না। তারা আইনের ঊর্ধ্বে থেকে যাচ্ছে এবং যখন ইচ্ছা বাজারকে ম্যানিপুলেট করছে। অন্যদিকে, বাজারে তদারকির কথা বলে আমরা দেখি ছোট কোনো দোকানদারকে জরিমানা করা হচ্ছে। কিন্তু ওই ছোট দোকানি তো বেশি দামে পন্য কিনছে পাইকারী বাজার থেকে। যেখানে আঘাত করা দরকার সেখানে আঘাত করা হচ্ছে না। দোকানে দোকানে হানা দিয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ চমকপ্রদ হলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে তা যথেষ্ট নয়। বাজারে যারা মূল প্লেয়ার তাদেরকে নিয়ম-কানুনের আওতায় আনতে হবে এবং সিন্ডিকেট ভাংতে হবে। বাজার কারসাজির সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করলে তা উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।অন্যথায় এর সফলতা আসবে না।
মূল্যস্ফীতির আর একটি বড় কারণ হলো ডলার সংকটের টাকার অবমূল্যায়ন করতে হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন (প্রায় ১২ বছর)এক্সচেইঞ্চ রেইটকে ফিক্সড করে রেখে দিয়ে ছিলাম, যার ফলে ডলার সংকটের সময় বিনিময় হারে চরম অস্থিরতা দেখা দেয়। উদাহরণ হিসাবে এখানে বলা যায় টাকার দাম আগের চেয়ে ৩০ শতাংশ কমলে সেটি ও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলেছে। অর্থাৎ জিনিসপত্রের দাম ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এতে বাড়তি দামের কারণে আমদানি শুল্কও বেড়েছে। ফলে এই শুল্কের একটি অংশ ছাড় দিয়ে জিনিসপত্রের দাম কমানোর কথা ভাবতে হবে।বর্তমানে মুদ্রানীতি সংকোচন করা হয়েছে।এক্ষেত্রে রাজস্বনীতিও সংকোচন করা জরুরি।অর্থাৎ আমাদের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে। সামগ্রিকভাবে ব্যয়ের গুণগত মান বাড়াতে হবে। উন্নয়নমুখী ব্যয় হবে। কিন্তু ১ টাকার খরচ যেন দেড় টাকা না হয়, সেটি নজর দেওয়া জরুরি। এবং মুদ্রার বিনিময় হার ধীরে ধীরে বাজারভিত্তিক হারের দিকে আগাতে হবে। পাশাপাশি রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বাড়ানো জরুরি। তবে বিনিময় হারে ভারসাম্য এলে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় এমনিতেই বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা। এছাড়াও ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট বর্তমানে নেতিবাচক। এটি ইতিবাচক করতে হবে। এক্ষেত্রে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ও বিদেশি ঋণ বাড়ানো এবং আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে ভারসাম্য আনতে হবে।জিনিসপত্রের দামের কারণে গরিব মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। ফলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়িয়ে নিম্ন-আয়ের মানুষের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য যেমন চাল, গম, তেল, আলু, পেঁয়াজ ইত্যাদি আমদানি করতে হয়, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয় না, দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ,তাও আমাদের যে হিসাবটা করা হচ্ছে তা পুনরায় হিসাব করার প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের চাহিদা কত, আমাদের উৎপাদন কত এবং আমাদের কতটুকু আমদানি করতে হবে—তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই। এখানে অংকের হিসাবটা মিলছে না। আমাদের কৃষকরা কেমন উৎপাদন করছেন, বিক্রি করছেন তার সঠিক তথ্য থাকা চাই। আমাদের বাজারে মোট চাহিদা কত এবং ঘাটতি কত তাও জানা চাই। তারপর আসে কতটুকু আমদানি করব সে সিদ্ধান্ত। শুধু কৃষিতে বাম্পার ফলনের একটা সংখ্যা দিয়ে বাহবা কুড়ালাম তাতে কিন্তু সমস্যা কাটছে না। আমাদের হাতে উৎপাদন ও চাহিদার প্রকৃত তথ্য থাকলে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়। আরেকটা জিনিস লক্ষণীয়, বাজারে কৃষিপণ্যের দাম বাড়লেও আমাদের কৃষকরা কিন্তু তার সুবিধা পাচ্ছেন না। তারা অনেক ব্যয় করে ফসল উৎপাদন করে বাজারে তোলার পর দেখা যায় দাম নেই। উৎপাদন খরচ তুলতে কষ্ট হয়, লাভ তো দূরের কথা। আমরা তো দেখেছি ক্ষুব্ধ কৃষক রাস্তায় আলু, টমেটো ফেলে দিচ্ছেন, দুধ ফেলে দিচ্ছেন। আমরা কেবল দাম বাড়লেই হাহাকার করে থাকি। কৃষকরা যে মুনাফা পাচ্ছেন না, মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেট সুবিধা নিয়ে নিচ্ছে তা এড়িয়ে যাই। এখানেই আসে বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়টি। আমরা সব সময় বলি, ধান উৎপাদনের পর কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য দামে সরকার সরাসরি কিনে নেবে। এতে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন তেমনি বাজারেও শৃঙ্খলা থাকত। তাতে করে ভোক্তারাও একটু স্বস্তি পেত। এক্ষত্রে সকল প্রকার সিন্ডিকেট ও দুষ্টচক্র ভেংগে যেত। দুষ্টের দমন শিষ্টের লালন করাও কিন্তু নীতিনির্ধারকদের কাজ।এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।এ অবস্থায় চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে হবে। মানুষের জীবনে যাতে স্বস্তি আসে, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান যাতে অক্ষুণ্ন থাকে এবং পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা যাতে নিশ্চিত হয়, এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, বর্তমানে ডলারের সংকট চলছে। ডলার পাওয়া কঠিন। এ অবস্থায় ডলারের সহজলভ্যতা, বিনিয়োগের জন্য এলসি খোলার নিশ্চয়তা এবং কর্মসংস্থানের দিকে নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশি মুদ্রার আরও কিছুটা অবমূল্যায়ন করা উচিত। পাশাপাশি রাজস্ব নীতিতে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে। এক্ষেত্রে শুল্ক কমিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে সুযোগ নিতে হবে। তৃতীয়ত, সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও আইনের প্রয়োগ জরুরি। এর মধ্যে ‘ডাইরেক্ট ট্যাক্স আইন’ এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, এসব আইন বাস্তবায়নকরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ জরুরি। চতুর্থ বিষয় হলো প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ দেওয়া।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর রিপোর্ট অনুসারে বাংলাদেশে বৈষম্য বাড়ছে। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে দেশে বিশাল আয় হলেও ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য সীমাহীনভাবে বেড়েছে। সিপিডির তথ্য অনুসারে, ৫ বছরে জিনিসপত্রের দাম বেসামালভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন পণ্যের দাম ৯ শতাংশ থেকে শুরু করে ৪শ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ জিনিসপত্রের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। এ অবস্থায় অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি। এছাড়াও অর্থ পাচার বৃদ্ধি, দুর্নীতি, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সংকট অন্যতম। এ অবস্থায় নতুন বছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
লেখক : অর্থনৈতিক বিশ্লেষক।
বি:দ্র: উক্ত কলামের সম্পূর্ণ মতামত লেখকের, তথ্য উপাত্ত দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণ তাঁর।




















