হুথিদের লক্ষ্য করে ২৪ ঘণ্টায় সৌদির ৫৮ বিমান অভিযান
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৫৮টি বিমান অভিযান চালিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত এসব অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে হুথিদের সামরিক শাখা।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় হুথি সামরিক শাখার মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারী বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় অপরাধী সৌদি শত্রুরা ইয়েমেনে ৫৮টি বিমান অভিযান চালিয়েছে।”
হুথিপন্থি ইয়েমেনি টেলিভিশন চ্যানেল আল মাসিরাহর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ইয়েমেনের সা’দা, মোনাব্বিহ জেলা এবং আল জৌফ প্রদেশে এসব বিমান অভিযান চালানো হয়েছে। এলাকাগুলো হুথি বাহিনীর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
১২ সেপ্টেম্বর শনিবার সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের সারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এর পাল্টা জবাব হিসেবেই সৌদি বিমানবাহিনী এসব অভিযান চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। হুথিদের কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
হুথিরা গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে সৌদি আরবের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে বিমান অভিযান চালাচ্ছে সৌদি আরব। হুথিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববারের আগ পর্যন্ত সৌদি বিমানবাহিনী ১৩০টির বেশি অভিযান চালিয়েছে।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনীও উত্তর ইয়েমেন ও রাজধানী সানা হুথিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করতে অভিযান চালাচ্ছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো মুখপাত্র সাম্প্রতিক বিমান অভিযান নিয়ে মন্তব্য করেননি। তবে এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি বিমান হামলা এখন পর্যন্ত মূলত সম্মুখসারিতে থাকা ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। রাজধানী সানাসহ হুথিদের ক্ষমতার মূল কেন্দ্রগুলো এখনো বড় ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়নি।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর। পরের বছর, ২০১৫ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়।
রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাকি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার, যেটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।

































