যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্যে ব্রিকস, নিন্দা ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শুরুর আগে জোটের সদস্যদেশগুলো যৌথ ঘোষণাপত্রের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। শনিবার বিকেলে ‘ব্রিকস নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’ প্রকাশ করা হবে। এতে কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা জানানো হবে। পাশাপাশি সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হবে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার বিকেল ৪টায় ঘোষণাপত্রটি প্রকাশ করা হবে। এর আগে রয়টার্স চারটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল, ব্রিকস নেতারা ঘোষণাপত্রটি অনুমোদন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যৌথ ঘোষণায় কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।
সম্মেলনের আগে কয়েক দিন ধরে ব্রিকসের কূটনীতিকেরা যৌথ ঘোষণার ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। শেষ পর্যন্ত এমন একটি ভাষায় ঐকমত্য হয়েছে, যা ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—দুই দেশই মেনে নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চলমান যুদ্ধের কারণে আগস্টে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুদ্ধের সময় আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটে।
এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান ও আমিরাতের মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে এবার সদস্যদেশগুলোকে অভিন্ন অবস্থানে আনতে পারাকে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এবার ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে ভারত। দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট মোকাবিলায় ‘সংলাপ ও কূটনীতিকে’ সমাধানের পথ হিসেবে তুলে ধরছে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ওপরও জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি।
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে ব্রিকস। জোটের কয়েকটি দেশ বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব বেশি।
এবারের সম্মেলনে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ভারসাম্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
নয়াদিল্লির এবারের সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ ব্রিকসের নেতারা অংশ নিচ্ছেন।
ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যা বিশ্বের ৪০ শতাংশের বেশি। বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও জোটটির অংশ প্রায় এক-চতুর্থাংশ।



































