উদ্ধার তৎপরতার মধ্যেই নেপালে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে নেপাল। দেশটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যার ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে। এর মধ্যেই নতুন করে ভূমিকম্প আঘাত হানায় দুর্যোগ পরিস্থিতি আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ভারতের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার অব সিসমোলজি (এনসিএস) এবং ইউরোপীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজি সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৪৩ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত নেপালের কোনো এলাকা থেকে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে দেশটি এমনিতেই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে।
গত ২৬ আগস্ট বুধবার নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাসুয়া এলাকায় ভোতিকোশি ও এর শাখানদী লেহন্দে নদীর একটি ব্যারিয়ার হ্রদ ভেঙে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। একই দুর্যোগে সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতের গিরং এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
লাখ লাখ ঘনমিটার পানি এবং এর সঙ্গে আসা বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
বন্যায় উত্তর ও মধ্য নেপালের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র অকেজো হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বাড়িঘর, সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত উদ্ধারকারী দল এখনও ধ্বংসস্তূপে অভিযান চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার পর্যন্ত কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্তূপ থেকে ১ হাজার ৩৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এখনও ৫ হাজার ৩২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


































