হুথিদের দখল থেকে রাজধানী সানা পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত ইয়েমেনের
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
টানা সংঘাতের পর হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজধানী সানা পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। সোমবার দেশটির উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল সামির আল-সাবরি এ ঘোষণা দেন।
ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ইয়েমেন টিভিতে দেওয়া ভাষণে সামির আল-সাবরি বলেন, ‘সানা পুনরুদ্ধার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সামনে অনেক চমক আছে; এখনই আমরা সেসব প্রকাশ করছি না।’
একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় একই তথ্য জানান ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মাজিদ আল-নুজাইলি। তিনি বলেন, তাদের লক্ষ্য ‘সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন’—হুথিদের কবল থেকে ইয়েমেনকে মুক্ত করা এবং সানাকে সব ইয়েমেনির রাজধানী হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
সরকারের এই লক্ষ্য অর্জনে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন নুজাইলি। তিনি বলেন, সব ইয়েমেনিই ভবিষ্যতের অংশীদার। প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা কিংবা একই দেশের নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্যের কোনো স্থান নেই।
ইয়েমেনে ২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০১৫ সালে রাজধানী সানা দখল করে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। রাজধানী দখলের পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদরাব্বুহ মনসুর হাদিকে সৌদি আরবে পালিয়ে যেতে হয়।
হুথিদের উৎখাত করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে ২০১৫ সালেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট।
বর্তমানে ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। দেশটির অন্য বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। ইয়েমেনের সেনাবাহিনী এই সরকারের অধীনেই রয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় আট বছরের যুদ্ধের পর ২০২২ সাল থেকে হুথি ও প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের মধ্যে এক ধরনের অঘোষিত যুদ্ধবিরতি চলছিল। তবে ২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আঞ্চলিক সংঘাতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে হুথিরা।
এরপর ইসরায়েল এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালায় গোষ্ঠীটি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে ইরান আগের মতো হুথিদের সহায়তা দিতে পারছে না বলে দাবি করছে ইয়েমেন সরকার। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো পুনর্দখলে গত জুলাই থেকে নতুন করে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
































