১২ মিনিটে কাওলা থেকে ফার্মগেট
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:০৯ পিএম
অপেক্ষার ঘণ্টা শেষ। দেশের নতুন এক উড়াল সড়ক চালু হয়ে গেল রাজধানী শহর ঢাকায়। যে পথ ব্যবহার করে গাড়ি চালিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশের কাওলা থেকে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ফার্মগেটে আসা যাবে মাত্র ১২ মিনিটে। চলতি পথে থাকবে না কোনো স্পিড ব্রেকার বা কোনো ইউ-টার্ন। থাকবে না হুটহাট ডানে-বামে ওঠার কোনো রাস্তা। যে পথ-পানের দিকে চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় ছিলেন নগরবাসী।
গত শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ঢাকা এলিভেটেড এই এক্সপ্রেসওয়েটি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরের দিন অর্থাৎ সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে এই উড়াল সড়ক। এই সড়ক দিয়ে ফার্মগেট থেকে বিমানবন্দর ও বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পথে যাতায়াতের সময় এখন কমে আসবে। যদিও এ মুহূর্তে ফার্মগেট থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। তবে, নামা যাবে তেজগাঁও কলেজের সামনের সড়কে।
যানজটের নগরী ঢাকার বুকে এ পথ দিয়ে গাড়ি চলবে ৬০ কিলোমিটার বেগে। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য! অথচ এ শহরের মানুষ অতিরিক্ত যানবাহনের জটের কারণে ঘণ্টায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালাতে অভ্যস্ত। এ বাস্তবতার উল্টো রূপ দিচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। বিমানবন্দর থেকে বনানী, বিজয় সরণি দিয়ে ফার্মগেট আসতে রাস্তায় যে তীব্র যানজটে অসহ্য সময় পার করতে হতো, সেটি লাঘব করবে নতুন এ উড়াল সড়ক।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম এস আকতার বলেছিলেন, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে ফার্মগেট পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটারের অংশটুকু যেতে আমাদের সর্বোচ্চ ১২ মিনিট সময় লাগবে। যদি নিচের কিছু ট্রাফিক ওপরে চলে আসে, তাহলে নিচের রাস্তাটা কিন্তু অনেকটা খালি হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে নিচের যানজট অনেকটা কমে যাবে। একই পথে দুটি সড়ক হওয়াতে ব্যবহারকারীরা পছন্দ মতো সড়কে চলাচল করতে পারবেন।
সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রসঙ্গে বলেছিলেন, কাওলা থেকে ফার্মগেট-তেজগাঁও রেলস্টেশন পর্যন্ত যেতে ১০-১১ মিনিট সময় লাগবে। এ পথে অনেক যাত্রী আসা-যাওয়া করবেন। এর সুফল অবশ্যই পাবেন রাজধানীবাসী। এর সঙ্গে মেট্রোরেল যখন মতিঝিল পর্যন্ত উদ্বোধন হবে, তখন সুফল অনেক বেড়ে যাবে। ঢাকা আরও আধুনিক শহরে রূপ নেবে। যান চলাচল আরও সহজ হবে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রান্ত থেকে ফার্মগেট প্রান্ত পর্যন্ত অংশের উভয় দিকে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা (টু ও থ্রি-হুইলার) এবং পথচারীদের চলাচল সম্পূর্ণ নিষেধ থাকবে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর যেকোনো ধরনের যানবাহন দাঁড়ানো এবং যানবাহন থেকে নেমে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষেধ। এক্সপ্রেসওয়ের মূল সড়কে সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার। ওঠা-নামার র্যাম্পের জন্য সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। নির্ধারিত টোল পরিশোধ করে নিচের পথগুলো দিয়ে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠা-নামা করা যাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফার্মগেট অভিমুখী যানবাহনগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দক্ষিণে কাওলা, প্রগতি সরণি ও বিমানবন্দর সড়কের আর্মি গলফ ক্লাব থেকে উঠবে। আর বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে ও ফার্মগেট প্রান্তে ইন্দিরা রোডের পাশে গিয়ে নামবে।
এ ছাড়া বিমানবন্দরের দিকে যাওয়া যানবাহনগুলো বিজয় সরণি ওভারপাসের উত্তর এবং দক্ষিণ লেন ও বনানী রেলস্টেশনের সামনে থেকে উঠতে পারবে। মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে, বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের সামনে বিমানবন্দর সড়ক, কুড়িল বিশ্বরোড ও বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনালের সামনে গিয়ে নামতে পারবে।
এই প্রকল্পটি নিমার্ণে প্রাক্কলিত খরচ ধরা হয়েছে ৮,৯৪০ কোটি। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের সাথে যোগ হবে ঢাকা আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। সেটি নির্মিত হলে শুধু ঢাকা শহরের ভেতরে নয়, এই জেলার আছে-পাশে এলাকায়ও আসবে স্বস্তি। সহজ হবে মানুষের যাতায়াত, সবার ভ্রমন হবে আরাম দায়ক। এদিকে তেজগাওঁ থেকে কুতুবখালী কাজের অংশও বেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। আগামী বছরের মধ্যেই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ করতে চাই সরকার। প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছন, এই কাজ শেষ হলে চিটাগং রোড পর্যন্ত যেতে সময় লাগবে মাত্র ২২ মিনিট।
জাতিক-আন্তর্জাতিক হাজারো প্রতিন্ধকতা প্রতিরোধ করে অবকাঠামো উন্নয়নে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। প্রিয় দেশবাসী, বিরোধের জন্য বিরোধিতা, ক্ষমতার লড়াই সবই ঠিক থাকুক; তবে, সার্বভৌম রক্ষা, রাষ্ট্র্রীয় সমরনীতি ও রাষ্ট্র্রীয় উন্নয়নে দেশের সর্বস্তরের অংশগ্রহণ হোক এক ও অভিন্ন।































