সুন্দরবনের হরিণ শিকারিদের তৎপরতা বেড়ে গেছে৷
১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০৮:৩৬ পিএম
ছবি-সংগ্রহিত
সুন্দরবনের হরিণ শিকারিদের তৎপরতা বেড়ে গেছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের কোনো তোয়াক্কা না করেই আবারো বেড়ে গেছে সুন্দরবনের হরিণ শিকারিদের অপতৎপরতা।
বর্তমানে বরগুনা জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন পাথরঘাটা উপজেলার প্রায় ২০টি অবৈধ হরিণ শিকারি চক্র সক্রিয় রয়েছে। শিকারের পর হরিণের মাংস, চামড়া, মাথা, শিং ও হাড় বিক্রি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এসব চক্র। আর এসব শিকারিদের অন্তত ২০টি সক্রিয় চক্র বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী, টেংরা, রুহিতারচর, বাদুরতলা ও কাঠালতলী এলাকার। পুলিশ বলছে পাচারকারীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খোজ নিয়ে জানাগেছে, বাংলাদেশের সুন্দরবনে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার চিত্রা হরিণ রয়েছে। বনের আয়তন, খাদ্যের যোগান ও আবহাওয়ার উপর এ সংখ্যা নির্ভর করে থাকে। লন্ডন ভিত্তিক ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অভ বাংলাদেশ (ডব্লিউটিভি ও জুলজিক্যাল সোসাইটির এক যৌথ সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, সুন্দরবনে বছরে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি হরিণ, চোরাই শিকারদের হাতে মারা পড়ছে।
র্যাব ৮ এর দেয়া তথ্য মতে, র্যাব ৮ বিগত দিনে এ পর্যন্ত ১২ টি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। এ অভিযানে তারা, ৫টি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের চামড়া, ২৪ টি হাড়, ২৯ টি দাঁত, মাথা ১ টি এবং ৯০ টি হরিনের চামড়া ও বিভিন্ন সময় ব্যাপক পরিমান অস্ত্র সহ ২৬ জন পাচারকারীকে আটক করেছে তারা।
অপরদিকে, বনরক্ষীদের দেয়া তথ্য মতে গত অর্থ বছরে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় তিন হাজার ২৫০টিরও বেশি হরিণ শিকারের ফাঁদ, নয়টি চামড়া, দু’টি জবাইকৃত হরিণ ও ১৭৩ কেজি মাংসসহ ২৫ জন শিকারিকে আটক করে তারা।
পাথরঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের সীমাবদ্ধতাসহ বন বিভাগের জনবল সঙ্কট রয়েছে। তাই এত কম জনবল নিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় না। তারপরও তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে চেষ্টা করে যাচ্ছেন হরিন শিকার রোধ করতে।
প্রাকৃতিক বৈচিত্রের অন্যতম উদাহরন হল বাংলাদেশের সুন্দরবন। এখানে রয়েছে হাজারো প্রজাতির পশু পাখি। কিন্তু কিছু ব্যতিক্রমী মস্তিস্কের মানুষের কারনে দিন দিন বিলুপ্তের পথে বিভিন্ন প্রানী। সুন্দর বনের সব থেকে আকর্ষনীয় প্রানী হল হরিন। আর এই হরিন স্বিকার হচ্ছে প্রতিনিয়তই। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময় কুচক্রি মহলের হাতে শিকার হওয়া হরিণের মাংস, চামড়া উদ্ধার হলেও এর শিকারকারীরা খুব কমই গ্রেপ্তার হচ্ছে। নানা তৎপরতার পরেও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অবৈধ হরিণ শিকার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বনকে হরিণ উপযোগী করে গড়ে তোলাসহ অবিলম্বে হরিণ শিকারিদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেয়ার দাবিও জানিয়েছেন এলাকাবাসি।
বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক জানান, বিগত দিনে পাথরঘাটার বিভিন্ন বন থেকে হরিণ শিকার করেছে শিকারিরা। বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের ভান্ডার সুন্দরবনের অন্যতম আর্কষণ হচ্ছে হরিণ। এভাবে নির্বিচারে হরিণ শিকার চলতে থাকলে সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র হুমকির মুখে পরবে। তাই জীব বৈচিত্র রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা সকলের৷


































