এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম


এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এ আদেশ দেন।

এর আগে সোমবার আদালত মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

গত রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত করছে পুলিশ।

এর আগে একই মামলায় সোমবার গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের এবং মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। এরপর গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্লবী থানায় করা একটি মামলাতেও গাজী নজরুলকে আসামি করা হয়েছিল। ওই মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পেয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। মামলায় করা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

Ads