তানিয়া নির্যাতন: অভিযুক্ত শিক্ষক-ব্যবসায়ী দম্পতি গ্রেপ্তার
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার মিরপুরে ১১ বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মী তানিয়াকে দীর্ঘদিন নির্যাতনের অভিযোগে মোর্শেদা আক্তার ওরফে ছোটন (৩৮) ও তাঁর স্বামী সাইফুদ্দিন রাসেল (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বাসা থেকে কাফরুল থানা পুলিশ তাঁদের আটক করে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গ্রেপ্তার মোর্শেদা আক্তার একজন শিক্ষিকা এবং তাঁর স্বামী সাইফুদ্দিন রাসেল ব্যবসায়ী বলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তানিয়া খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের করল্যাছড়ি গ্রামের দিনমজুর বেলাল হোসেনের মেয়ে। প্রায় দেড় বছর আগে প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের মাধ্যমে তাকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে ফেনীতে এবং পরে তাকে ঢাকার মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় নেওয়া হয়।
তানিয়ার অভিযোগ, ওই বাসায় থাকার সময় তাকে নিয়মিত মারধর করা, পর্যাপ্ত খাবার না দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় বাথরুমে আটকে রাখাসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ারও অভিযোগ করেছে সে। এসব নির্যাতনের ফলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ক্ষত হয়েছে বলে চিকিৎসক ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
কয়েক দিন আগে গুরুতর আহত অবস্থায় তানিয়াকে ফেনী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে বাবা বেলাল হোসেন তাকে খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসেন। বর্তমানে সে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
তানিয়ার বাবা বেলাল হোসেন বলেন, মেয়ের ভালো ভবিষ্যতের আশায় তাকে ঢাকায় কাজে পাঠিয়েছিলেন। এখন তিনি মেয়ের উন্নত চিকিৎসা ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
এদিকে তানিয়াকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোর্শেদা আক্তার। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তানিয়ার শরীরে কয়েকটি আঘাত দুর্ঘটনাজনিত এবং তাঁরা তাকে নির্যাতন করেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
শিশু গৃহকর্মী তানিয়াকে নির্যাতনের ঘটনাটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা শিশুটির চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

































