হারানো শিল্প বায়স্কোপের এখনো দেখা মিলে সোনারগাঁ জাদুঘর মেলায়
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৪৯ পিএম
ছবি- সংগৃহীত।
সার্বজনীন টিভি কিংবা স্যাটেলাইট চ্যানেল যুগের আগে ছোট কিংবা বড়দের দেশ বিদেশের নানান ঘটনা আর স্থাপত্যশৈলী দেখার জনপ্রিয় মাধ্যম ছিলো বায়স্কোপ। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন উৎসব আর মেলায় দেখা মিলতো হাতে ঢুগঢুগি বাজিয়ে সং সেজে গীতিকাব্যের ছলে বায়স্কোপওয়ালা বিভিন্ন রঙে মাখা বায়স্কোপের হাতল ঘুরাচ্ছে আর ছোট ছোট কাচের ফুটো দিয়ে শিশু থেকে শখের বশে বড়রা পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনা সংবলিত চিত্র দেখছে বায়স্কোপের ভিতর। একসময়ের জনপ্রিয় এই বিনোদন শিল্প বর্তমানে অনেকটা বিলীনের পথে থাকলেও প্রতিবছর এর দেখা মিলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মাসব্যাপী লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর মেলায়।
গতো ১৬ জানুয়ারি উদ্ভোদন হয় সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প মেলা। মেলার মাঠে ঢুকতেই চোখে পড়ে টিনের চারকোনা বায়স্কোপ ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড়, বায়স্কোপের কাচের ফুটো জানালায় রয়েছে কয়েকজন আর বায়স্কোপের হেন্ডেল ঘুরিয়ে নামে নামে দেশ বিদেশের বিভিন্ন ব্যাক্তি স্থাপত্য আর ঘটনার বর্ণনায় আছেন বায়স্কোপওয়ালা মজিদ মিয়া।
গতো প্রায় চার দশক ধরে গ্রামে গঞ্জে আর মেলায় বায়স্কোপ দেখিয়ে আসছেন মজিদ মিয়া। দাদা আর বাবা থেকে প্রাপ্ত এই পেশায় ছোটকাল থেকেই নিয়োজিত হয়ে পড়েন তিনি। মজিদ মিয়া জানান, বর্তমান মোবাইলের যুগে বায়স্কোপ সম্পর্কে জানে না নতুন প্রজন্ম, তাই তাদের জানাতে আর পৌত্রিক পেশা ধরে রাখতে পেট না চললেও বায়স্কোপেই জীবন জীবিকা পথ করে নিয়েছেন তিনি, অনেকে বায়স্কোপ দেখে টাকা দেয় আবার অনেকে দেয় না তবে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দেন মজিদ মিয়া।
বায়স্কোপ দেখতে আসা ১৪ বছরের কিশোর রুবায়েত সামি বলেন, জীবনে প্রথম বয়স্কোপ দেখলাম আজ, এতোদিন সবার মুখে শুনলেও আজ বায়স্কোপ দেখতে পেরে খুশি। ফরিদা ইসায়মিন নামে আরেক দর্শনার্থী বলেন, একদম ছোটকালে বায়স্কোপ দেখেছিলাম একবার, আবার দেখলাম এই মেলায় এসে, সময়ের চাহিদায় যা দেখায় তার চাহিদা না থাকলেও প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য বায়স্কোপের প্রতি আকর্ষণ বরাবরই রয়েছে।
সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের এই লোক ও কারু মেলার আনুষ্ঠানিক পর্দা নামবে ১৬ ফেব্রুয়ারিতে, শেষ সময় লোকারন্য মেলায় সবার অন্যতম আকর্ষণ ধরে রেখেছে মদিজ মিয়ার এই হাতেঘুরানো বায়স্কোপ।































