পুদিনা চাষে অর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে সীতাকুণ্ডের কৃষকেরা

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৬ পিএম


পুদিনা চাষে অর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে সীতাকুণ্ডের কৃষকেরা

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

 

চট্রগ্রামের সীতাকুণ্ডে উপজেলার ভাটিয়ারি ইউনিয়নের একজন সফল পুদিনা চাষি ইসমাইল হোসেন(৩২)। তিনি প্রায় ১ যুগ ধরে পুদিনা পাতা চাষ করে আসছেন।

 

সুগন্ধি জনপ্রিয় পুদিনা পাতা। ঔষধি পাতা হিসেবেও প্রাচীনকাল থেকেই পরিচিত। পুদিনা চাষে কৃষকরা অর্থিকভাবে অনেক লাভবান হন। উপজেলার ১শ’ এর বেশি কৃষক দিন ভর পরিশ্রম করে চাষ করছে পুদিনা পাতা। তবে পুদিনা পাতায় অনেক উপকারিতা ও অন্যান্য উপাদান রয়েছে। যা অনেকের অজানা। এর মধ্যে প্রচুর পরিমান অ্যান্টি, অক্সিড্যান্ট থাকে, যা ক্যান্সার, হৃদরোগসহ আরো ভংঙ্কর রোগ থেকে মানুষকে বাঁচাতে পারে। এ পাতায় ব্যবহারে গলার ক্ষত প্রতিরোধ করে, দাঁত ও মাড়ির ক্ষত সারিয়ে তোলতে সাহায্য করে। এছাড়া পুদিনার চা শরীরের নির্দিষ্ট অংশের উপর কাজ করতে পারে এবং শ্বাসতন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী পুদিনা। এসবকে মাথায় রেখে উপজেলার ভাটিয়ারী, সলিমপুর, সোনাইছড়ি ও কুমিরায় ১৫ হেক্টর জমিতে ব্যাপকভাবে পুদিনার চাষ করেছেন কৃষকেরা। তবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাধা অতিক্রম করে পুদিনার চাষ করেন তারা। তারই ধারাবাহীকতায় এবারও ভাটিয়ারী খাদিমপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি এলাকা জুড়ে দিনরাত পরিশ্রম করে সুগন্ধি জনপ্রিয় পুদিনার চাষ করেছেন পুদিনার সফল চাষি হিসেবে পরিচিত ইসমাইল হোসেন।

 

তিনি জানান, রমজানে পুদিনার চাহিদা বেশি থাকে।  তাছাড়াও এর দাম বেশ ভালো। প্রতিবছরের মত চলতি বছরও বাণিজ্যিকভাবে পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ৩০ শতক জায়গায় পুদিনার চাষ করেছেন তিনি। এতে শ্রমিক ও বিভিন্ন বাবদ তার খরচ পরেছে প্রায় ২৫হাজার টাকা মতো। বাজার দর ভাল হলে তিনি প্রায় ১ লাখ টাকার বেশি পুদিনা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। তিনি বলেন, সারাদেশে করোনা সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ে। তাই লকডাউনের ফলে বাইর থেকে পাইকার না আসলে আমাদের চাষকৃত পুদিনা ক্ষেতেই পাড়ে আছে। আমার মত অনেকেই লাখ লাখ টাকা খরচ করে রমজানে বিক্রির উদ্দেশ্যে পুদিনার চাষ করেছেন। কিন্তু সকল কৃষক এখন দুশ্চিনতাই দিন অতিবাহীত করছেন। এখানে দায়িত্বে থাকা এক তরুন চাষি বলেন, এখানকার পাহাড়ি ভূমি এবং পাহাড়ের ঢালুতে গুণে ভরা ঔষধি উদ্ভিদ পুদিনা পাতা চাষ করে অনেকেই লাভবান হচ্ছেন।

 

এবারও অধিক লাভের আশায় শুধু ভাটিয়ারী খাদেমপাড়া এলাকায় অন্তত ৬ হেক্টর পাহাড়ের ঢালুতে বাণিজ্যিকভাবে পুদিনার চাষ করেছেন ৪০/৫০জন কৃষক। প্রতিবছর বিশেষ করে রমজান মাসকে সামনে রেখেই পুদিনা চাষ করে থাকেন। এতে বার্ষিক লাখ লাখ টাকা আয় করে চলেছেন তারা।  কফ সর্দি-জ্বর ও কুষ্ঠ রোগের জন্য পুদিনা পাতা উপকারী। এছাড়া পুদিনা পাতা সেদ্ধকরে বেটে মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে পায়ের গোদের উপকার হয়। সবরকম গুণই পুদিনা পাতায় রয়েছে।

 

এদিকে উপজেলা কৃষি কার্মকতা( অতিরিক্ত)  রঘুনাথ নাহা  বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২০ হেক্টর জায়গায় ১১৫ কৃষক ঔষধি উদ্ভিদ পুদিনা পাতার চাষ করেছেন। এবং উপজেলা কৃষি অফিস নানা সমস্যার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

 

সারাবছর পুদিনার চাষ হলেও বিশেষ করে প্রতিটি রমজানেই সবচেয়ে বেশি চাষ হয়ে থাকে পুদিনার। পুদিনা পাতার গুণাগুণ বলে শেষ করা যাবেনা।
বহুল প্রাচীনকাল থেকেই পুদিনা পাতার ব্যবহার করে চলেছে মানুষ। বর্তমানে কৃষক পুদিনা পাতা চাষে অর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি প্রচুর কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হচ্ছে। প্রতিবছর এখান থেকে পুদিনা ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় নিয়ে যায় আগত পাইকারেরা।

Ads