ভূয়া চুরির মামলা দিয়ে হয়রানি, গ্রেপ্তার -১

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১১ জানুয়ারি ২০২১, ১০:৪৩ পিএম


ভূয়া চুরির মামলা দিয়ে হয়রানি, গ্রেপ্তার -১

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।



লক্ষ্মীপুরে ভুয়া ও উদ্দেশ্য মূলক মিথ্যা অপরাধের মামলা দিয়ে নিরীহ দিনমজুর মোহাম্মদ হাসান(২৩)কে গ্রেফতার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রায়পুর উপজেলা দক্ষিণ কেরোয়া গ্রামের পৌর ৭নং ওয়ার্ডে।

 

ননি মোল্লা বাড়ীর আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ হাসানকে ডিসেম্বর মাসের ১৮ তারিখ শুক্রবার রায়পুর পৌরশহরের পীর ফজলুল্লাহ সড়কের জনৈক আব্দুল মান্নানের চায়ের দোকান থেকে সাদা পোশাক পরিহিত রায়পুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

 

জানা গেছে, একই এলাকার হারিস মিয়া বাড়ির মৃত হারিস মিয়ার ছেলে মোঃ আমির হোসেনের ৭৬) বসতঘরে গেলো বছরের ডিসেম্বরের ১৭ তারিখে চুরির ঘটনা ঘটে মর্মে রায়পুর থানায় অজ্ঞাত চোর/চোরেরা উল্লেখ করে এজাহার দায়ের করেন। যার নং জি/আর -১৮ তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০২০.

 

উল্লিখিত এজাহারে বলা হয় আমির হোসেনের বসত ঘর থেকে- ৫ ভরি ওজনের ৫টি স্বর্ণের চেইন, ১ ভরি ১০  আনা ওজনের দুটি স্বর্ণের চুড়ি, ৩ ভরি ওজনের ৬টি স্বর্ণের আংটি, দেড় ভরি ওজনের ৩ জোড়া স্বর্নের কানের জিনিস,২টি স্বর্ণের নাকফুল, ২টি হীরার নাকফুলসহ মোট ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকার সোনার গয়না, হীরা ও নগদ ২০ হাজার টাকা চুরি হয়।

এই এজাহারের ভিত্তিতে পুলিশ হাসানকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

 

গ্রেপ্তারকৃত হাসানের মা ঝর্না বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করার সময় হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি এসময় সাংবাদিকদের কাছে তার ছেলে নির্দোষ দাবি করে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনার উন্মোচন করার বিনীত অনুরোধ জানান। তিনি এসময়  বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন। এছাড়াও সাংবাদিকদের কাছে সরেজমিনে তদন্ত করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান। তারই প্রেক্ষিতে জেলার কয়েকজন সাংবাদিক অনুসন্ধান শুরু করেন।

 

সরেজমিন তদন্তকালে জানা গেছে, হাসানকে যে এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৎসময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ননী মোল্লাবাড়ির মৃত নূর মোহাম্মদ ডিমের বেপারীর ছেলে মোহাম্মদ শফিক, চায়ের দোকানদার আব্দুল মান্নান, ফজলুল হকের ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ আলী, মোঃ শাহজাহান, মোহাম্মদ ইউসুফসহ আরও উপস্থিত জনতা জানান- হাসান দুপুর আড়াইটার দিকে চা খেতে আসলে চায়ের দোকান থেকে সাদা পোশাক পরিহিত পুলিশ শার্টের কলারছেপে ধরে নিয়ে যান। তারা আরও জানান - এই মামলার কারণে পুলিশ যেভাবে গ্রেপ্তার শুরু করেছে তাতে আমরা দিনের বেলায়ও ঘর থেকে বের হতে ভয় পাই। এছাড়াও রাতের বেলায় আমরা জেগে থাকি। তারা আরো জানান- ঘটনার দিন ও সময়ে  হাসান পূর্ব চরপাতা গ্রামের গাজী বাড়ির আলী আহম্মেদের নির্মাণাধীন ঘরে সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত কাজ করে। তার সাথে একই সময়ে ওই ঘরের কাজ করে এমন কয়েকজন মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ শাহজাহান, মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন,  আব্দুর রহিম ও সবুজের সাথে আলাপ করে এমনটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় হাসানকে রাত আড়াইটার দিকে বাজারের রাস্তা থেকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

 

অপরদিকে ঘটনাস্থলের লোকজন বলেন- মামলার বাদী আমির হোসেনের স্ত্রী-সন্তান কেউই এ বাড়িতে থাকেন না। তিনি এই ঘরে একা বসবাস করে আসছেন। এজাহারে যে সমস্ত মালামাল, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও হীরার গয়না চুরি গেছে বলে উল্লেখ করেন তা সত্য নয়। সে একা বসবাস করে ওই ঘরে, খাওয়া-দাওয়া করতে তার অসুবিধা, সংকট। সে এত স্বর্ণ গয়না, টাকা এমনকি হীরার আংটি কোথায় পাবে? এসব হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। গ্রামাঞ্চলে কোটিপতিদের ঘরেও হীরের আংটি থাকেনা অথচ স্ত্রী-সন্তান বিহীন আমির হোসেনের ঘরে এত সোনাদানা হীরার আংটি কোথায় থেকে এলো?

এ বিষয়ে আমির হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

 

অনুসন্ধানকালে উপস্থিত লোকজন বলেন- আপনারা পত্রিকায় লিখে আমাদের মত নিরীহ মানুষকে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ও গ্রেপ্তার থেকে বাঁচান। এসময় জনগণের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছেন।


উল্লেখ্য বর্তমানে এজাহারে রায়পুর থানার এফআইআর নং-৩২ তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, জি/আর -২১৭/১৯ মর্মে পূর্বের মামলা উল্লেখ করা হয় । যা অনেক আগেই আদালত থেকে মোঃ হাসান খালাস পায়।

 

আরো পড়ুন: ২৮ জানুয়ারির মধ্যে এইচএসসির ফল প্রকাশ

 

হাসানকে কখন গ্রেপ্তার করেছেন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ সাফায়েত উল্লাহ মোবাইলফোনে সাংবাদিকদের  বলেন-‘কে কী বলল তা দেখার বিষয় না, আমি মামলার তদন্তে যা উল্লেখ করেছি তাই সঠিক।'

Ads