“যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিক সমাজের ভূমিকা র্শীষক” এডভোকেসী সভা

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:০৯ পিএম


“যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিক সমাজের ভূমিকা র্শীষক” এডভোকেসী সভা

যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ ও এর চিকিৎসা সম্পর্কে সংবাদকর্মীরা সমাজে অগ্রনী ভূমিকা রাখতে পারে। যদি সাধারন মানুষের মাঝে যক্ষ্মারোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে সাংবাদিক সমাজের নেতৃবৃন্দরা কথা বললে মানুষ তা সহজেই গ্রহণ করতে পারে এবং বিশ্বাস করে। এভাবে সচেতনতা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে দিয়ে যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

রবিবার (১৭ নভেম্বর) সকালে বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি (নাটাব) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার উদ্যোগে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাব সম্মেলন কক্ষে “যক্ষ্মা রোগ নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিক সমাজের ভূমিকা র্শীষক” আয়োজিত এডভোকেসী সভায় আলোচকরা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি (নাটাব) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও  খাগড়াছড়ি প্লেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক জীতেন বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী সিভিল সার্জন ডা: মিটন চাকমা।  অন্যান্যদের মধ্যে এসময় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মৃদুল কান্তি ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলা প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি মো: জহুরুল আলম প্রমূখ। এতে খাগড়াছড়ি জেলার কর্মরত ইলেক্ট্রনিক্স, প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক কর্মীরা অংশ নেন।

সভায় প্রধান আলোচক খাগড়াছড়ি স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারি সিভিল সার্জন ডাঃ মিটন চাকমা বলেন, যক্ষ্মা ছোঁয়াচে হলেও সচেতনতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে সাংবাদিক সমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আলোচনায় ডা: মিটন চাকমা যক্ষারোগ বিষয়ে আলোকপাত করেন যে, সাধারণত বদ্ধ, স্যাঁতস্যাঁতে, ঘনবসতিপূর্ণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝেই যক্ষা বা টিবি রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। যক্ষা বা টিবির জীবাণুর সংক্রামণ বৈশিষ্ট্যের কারণেই এমনটি হয়। এ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতার মাত্রা কম থাকায় এ রোগের বিভিন্ন লক্ষণ বা উপসর্গ ধাপকে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর সিংহভাগেরই তেমন ভালো কোনো ধারণা নেই।

মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবার কিউলোসিস নামের এক ধরনের জীবাণু থেকে এ রোগ ছড়ায়। আক্রান্ত রোগীর কফ থেকে এ রোগের জীবাণু একজনের দেহ থেকে অন্যজনের শরীরে প্রবেশ করে। এ রোগের কোন নির্দিষ্ট সুপ্ত কাল নেই। যেসব রোগী ৩ সপ্তাহের বেশি জ্বরে ভোগে তাদের ৩৩ শতাংশ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ায় সম্ভাবনা থাকে। যাদের কাছ থেকে যক্ষ্মা রোগ ছড়াতে পারে তাদের বলা হয় ‘ওপেন কেস’। এদের কফ থেকে সব সময় জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। তাই এদের সাথে চলাফেরা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। রোগীর হাঁচি কাশির সাথে সাধারণত রোগ জীবাণু বাইরে আসে। রোগীর অন্য কোনো জিনিস যেমন থালা বাটি গ্লাসও পরিধেয় বস্ত্রাদির মধ্যে দিয়ে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বুকের এক্স-রে রক্তের ইএসআর, কফ পরীক্ষা এবং টিউবার কিউলিন বা মনটেংটেস্ট করে যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করা হয়। বিসিজি ভ্যাকসিন ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে যক্ষ্মা প্রতিরোধ করতে পারে।

Ads