বাংলা কিউআরে প্রতিদিন ১২০ কোটি টাকার লেনদেন
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশে চালু হওয়া ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থার পর বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলা কিউআরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। সপ্তাহে এ লেনদেনের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ৭০০ কোটি টাকা।
লেনদেনের সংখ্যা ও আর্থিক মূল্য—দুই দিক থেকেই বাংলা কিউআরের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হলেও আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
একই সময়ে দৈনিক লেনদেনের আর্থিক পরিমাণও প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।
চলতি বছরের ১ জুলাই দেশে বাধ্যতামূলক ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ধারাবাহিকতায় সারাদেশে বাংলা কিউআরের কার্যক্রম শুরু হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নিজস্ব কিউআর কোডের পরিবর্তে বাংলা কিউআরের সঙ্গে যুক্ত হতে শুরু করে।
ফলে শপিংমল থেকে শুরু করে ছোট দোকান, বাজার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও একটি অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুলাইয়ের শুরুতে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেন হতো। এসব লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজারে দাঁড়ায়। একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে হয় প্রায় ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। ২১ জুলাই পর্যন্ত এ ব্যবস্থা ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ থাকলেও পরে তা বেড়ে ৩০ লাখের বেশি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
তিনি বলেন, লেনদেনের এই গতি অব্যাহত থাকুক—এটাই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা।
বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়াতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন উদ্বেগ দূর করার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) নিয়ে কিছুটা দ্বিধা ছিল। কোনো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ১০০ টাকার পণ্য বিক্রি করে ৯৯ টাকা পেলে কেন এক টাকা কম নিতে হবে—এমন প্রশ্ন স্বাভাবিক।
তবে তার মতে, ডিজিটাল ও নগদবিহীন লেনদেন বাড়লে পণ্য বিক্রির পরিমাণও বাড়তে পারে। নগদবিহীন লেনদেন সহজ হলে ক্রেতারা আরও বেশি কেনাকাটায় উৎসাহিত হতে পারেন।
ব্যবসায়ীদের জন্য ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়েও বাংলাদেশ ব্যাংক চিন্তাভাবনা করছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে ঘোষণার পর ডিজিটাল লেনদেনের গতি আরও বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একটি কিউআর কোড ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস হিসাব থেকে অর্থ পরিশোধের সুযোগ তৈরি হওয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তিও কমেছে।
রাজধানীর নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা আজিমপুরের বাসিন্দা তুহিন ইসলাম বলেন, আগে নগদ, বিকাশ কিংবা রকেটের মাধ্যমে টাকা দিতে হলে দোকানে কোন সেবার কিউআর কোড রয়েছে, তা দেখে নিতে হতো।
তিনি বলেন, তিনি বিকাশ ব্যবহার করেন না। ফলে অনেক দোকানে গিয়ে টাকা পরিশোধ করতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এখন একটি কিউআর কোড স্ক্যান করে নিজের যেকোনো হিসাব থেকে টাকা পরিশোধ করতে পারছেন।
ঢাকায় পাইকারি কাপড় কিনতে আসা মাহিন হোসেন বলেন, গ্রাম থেকে রাজধানীতে পণ্য কিনতে এলে সঙ্গেরাজধানীর মতিঝিলের ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসায়ী রায়হানুল ইসলাম বলেন, তার দোকানে অনেক দামি পণ্য বিক্রি হয়। এসব পণ্যের মূল্য নগদে গ্রহণ করা অনেক সময় ঝ বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা বহন করতে হয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ। এখন কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই অনলাইনে টাকা পরিশোধ করা যাচ্ছে।
রাজধানীর মতিঝিলের ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসায়ী রায়হানুল ইসলাম বলেন, তার দোকানে অনেক দামি পণ্য বিক্রি হয়। এসব পণ্যের মূল্য নগদে গ্রহণ করা অনেক সময় ঝামেলার।
আজিমপুরের ফলের জুস বিক্রেতা আলতাফ হোসেন জানান, দোকানে সারাদিন ক্রেতাদের ভিড় থাকে। অনেকের কাছে খুচরা টাকা না থাকায় আগে সমস্যায় পড়তে হতো। এখন বাংলা কিউআরে টাকা দেওয়ার সুযোগ থাকায় খুচরা টাকা নিয়ে সেই ঝামেলা কমেছে।
ডিজিটাল লেনদেন সহজ করার পাশাপাশি নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমানো এবং ব্যবসায়ী ও গ্রাহক—উভয়ের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করাই বাংলা কিউআর ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।
সাম্প্রতিক লেনদেনের প্রবৃদ্ধি বলছে, অভিন্ন কিউআর ব্যবস্থা ধীরে ধীরে দেশের দৈনন্দিন কেনাবেচায় গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হয়ে উঠছে।


























