মেসির ‘লাস্ট ড্যান্স’ ও নতুন রেকর্ডের অপেক্ষা

স্পোর্টস ডেস্ক

১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম


মেসির ‘লাস্ট ড্যান্স’ ও নতুন রেকর্ডের অপেক্ষা

ফুটবল দুনিয়ার সমস্ত চোখ এখন উত্তর আমেরিকার দিকে। ১১ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার আইকনিক এস্টাডিও অ্যাজতেকা মেক্সিকো সিটিতে মেক্সিকান শুরু হয়ে  জাতীয় দল উদ্বোধনী ম্যাচ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ।

আর এই বিশ্বমঞ্চকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মনে সবচেয়ে বড় কৌতুহল একটি নামকে কেন্দ্র করে—লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি যখন বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন, তখন ফুটবল ভক্তদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। ৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি ফুটবলার আবারও বিশ্বজয় করতে আলবিসেলেস্তেদের নেতৃত্ব দেবেন। কাতার বিশ্বকাপে অধরা ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর, এবার সম্পূর্ণ চাপমুক্ত হয়ে মাঠে নামছেন এলএমটেন। তবে এই বয়সে এসেও বিশ্বকাপে তিনি কী চমক দেখাতে পারেন, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ
এই বিশ্বকাপে মাঠে নামার সাথে সাথেই লিওনেল মেসি ফুটবল ইতিহাসের পাতায় একদম একচ্ছত্র একটি রেকর্ড নিজের করে নেবেন। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা পাঁচটি আসরে খেলেছেন তিনি। ২০২৬ আসরে মাঠে নামার মাধ্যমে মেসি হবেন বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড়, যিনি টানা ছয়টি বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার অনন্য কীর্তি গড়বেন। ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি তার দখলে রয়েছে, এবার সেই রেকর্ডকে তিনি নিয়ে যাবেন এমন এক উচ্চতায়, যা ভাঙা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

বয়স এবং সাম্প্রতিক সময়ে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির ধকলের কারণে ২০২৬ সালের মেসি হয়তো মাঠজুড়ে আগের মতো গতিময় ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করবেন না। তবে তার মূল চমকটা থাকবে তার ফুটবল মস্তিষ্কে। কোচ স্কালোনির অধীনে মেসি এবার খেলবেন মূলত একজন নিখুঁত 'প্লে-মেকার' বা গেম মেকার হিসেবে। মাঝমাঠে থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ করা, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে তরুণ ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ বা লাউতারো মার্টিনেজদের উদ্দেশ্যে নিখুঁত পাস বাড়িয়ে দেওয়াই হবে তার মূল কাজ। এছাড়া ডি-বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক এবং দূরপাল্লার শটের জাদুকরী ক্ষমতা তো রয়েছেই, যা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। সম্প্রতি আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে পেনাল্টি থেকে গোল করে তিনি নিজের চেনা ফর্মের জানান দিয়ে রেখেছেন।

এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক বা আকর্ষণীয় ঘটনাটি ঘটতে পারে নকআউট পর্বে। ফুটবল ইতিহাসের দুই সেরা তারকা লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ এটি। যদি গ্রুপ 'জে' থেকে আর্জেন্টিনা এবং গ্রুপ 'কে' থেকে পর্তুগাল নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, এবং পরবর্তী নকআউট পর্বের (রাউন্ড অব ৩২ এবং রাউন্ড অব ১৬) বাধা সফলভাবে পার করতে পারে, তবে কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা হয়ে যেতে পারে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই দ্বৈরথ যদি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে রূপ নেয়, তবে তা হবে এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা এবার খেলবে গ্রুপ 'জে'-তে। আগামী ১৬ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে। গ্রুপ পর্বের বাকি দুটি ম্যাচে আলবিসেলেস্তেরা মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়া এবং জর্ডানের। প্রথম ম্যাচ থেকেই মেসিকে চেনা ছন্দে দেখার জন্য মুখিয়ে আছে কোটি ভক্ত।

কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পর মেসির ক্যারিয়ারের প্রাপ্তির খাতা এখন পূর্ণ। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি খেলবেন কোনো মানসিক চাপ ছাড়াই, কেবলই ফুটবলকে ভালোবেসে। আর একজন চাপমুক্ত এবং ফুরফুরে মেজাজের মেসি কতটা ভয়ঙ্কর ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠতে পারেন, তা দেখার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।

 

Ads