বনানীও শেষ! এবার কোথায়?
৩০ মার্চ ২০১৯, ০৩:০৫ পিএম
আগুনে পুড়ে মৃত্যু। কত যন্ত্রণা কত কষ্টের সেটা নিজে না পুড়লে অনুভব করা যাবে না। আপনি কি কখনও আগুনের ছ্যাঁকা খেয়েছেন? তাহলে কিছুটা আচ করতে পারেন। কত ভয়ানক আর যন্ত্রণাদায়ক আগুনে পুড়া সেটা এসব পুড়া মানুষকে দেখলেও অনুমান করা যেতে পারে। অথচ এসব শুধু সাময়িক সমবেদনা! বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের কারও প্রতি কোনো দয়ামায়া নেই। যদি থাকতো তাহলে অসহায় মানুষের আগুনে পুড়া দৃশ্যগুলো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা আর মোবাইলে তার ভিডিও করে ফেসবুকে দিতো না। আসলে আমরা সবাই লোক দেখানো কর্ম করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। ফেসবুকে কয়েকটা লাইক এবং কমেন্ট পাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মানুষ ছবি তুলছে। আর কিছু মানুষ যেন লাইভ সিনেমা দেখছেন। যদি দেখতেই হয় বাসায় এসে টেলিভিশনে দেখতেন। ওখানে দাঁড়িয়ে থেকে ফায়ার সার্ভিসের কাজে বিঘ্ন ঘটানোর কোনো মানেতো হয় না। আসলে এসব দেখতে দেখতে এখন বিরক্তি চলে এসেছে। বড় বড় সেলিব্রিটিগুলো এসব বেদনাদায়ক ঘটনাগুলো নিয়ে সমবেদনা আর শোক জানায়। আর মিডিয়া এসব ফলাও করে প্রচার করে। প্রকৃতপক্ষে কি করতে হবে কি প্রয়োজন এসব নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। শুধু সমবেদনা আর শোক প্রকাশ করাই তাদের ধর্ম।
নিমতলী, চকবাজার, বনানী এরপর কোথায় আগুন জ্বলবে সেটার জন্য অপেক্ষা করুন। আগুন লাগবে এটা অস্বাভাবিক না। আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস আসতে দেরি হওয়া অস্বাভাবিক। আগুন লাগার পর মানুষকে জীবিত রাখতে না পারাটা অস্বাভাবিক। কিন্তু কেন এই অস্বাভাবিক ঘটনা গুলো ঘটবে? একেকটি ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করলেই কি শেষ! বহুতল ভবন থেকে মানুষকে কীভাবে বাঁচাতে হবে সেই প্রক্রিয়াও নেই আমাদের দেশে। মানুষ জানালা দিয়ে হাত নেড়ে বলছে বাঁচাও বাঁচাও। ওরা চিৎকার করে বলছে, ওরা বাঁচতে চায়। কিন্তু আমরা ওদের বাঁচাতে পারছিনা। এই বাঁচাতে না পারার কারণ কি? কারণ খুব সহজ। প্রথমত অপরিকল্পিত নগরায়ন। আগুনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে ঢাকা। যার করণ, ঢাকায় তৈরী হচ্ছে অপরিকল্পিতভাবে সকল দালান গড়ে উঠেছে ঢাকায়। ফায়ার সার্ভিস আসার মতো সুযোগও অনেকে রাখে না। যা চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে আমরা দেখেছি। যেসব দালান গড়ে উঠছে সেগুলোও কোনো ধরনের অগ্নিনিবারক ব্যবস্থা নেই। যায় ফলে এসব দালানে আগুন লাগলে মানুষকে বাঁচানো সহজ হয়ে উঠে না। তাই দালানের মালিক গুলোরও সচেতন হতে হবে অনেক বেশি। আজ দেখতে পেলাম মানুষ বাঁচার জন্য দালান থেকে লাফ দিয়েছে। এরা তারপরও মৃত্যুবরণ করেছে। কিন্তু উন্নত দেশের অবস্থা তার বিপরীত। উন্নত দেশে আগুন লাগলেও মানুষ দালান থেকে লাফ দিয়ে নিচে সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে আজ সে ব্যবস্থাও নেই। আমাদের এসবদিকে আরও অনেক বেশি নজর দিতে হবে। আগুন নিয়ন্ত্রণেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তেমন দক্ষতার পরিচয় দিতে পারছে না। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো কৌশল তারা আবিষ্কার করতে পারিনি আজ। তাই এই সেক্টরকেও আরও দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করতে হবে। তাছাড়া আগুন লাগার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌছাতে না পারার কারণ কি এটাও তদন্ত করার প্রয়োজন। ফায়ার সার্ভিসের অভাব থাকলে সরকারের কাছে অনুরোধ আরও কয়েকটি ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট স্থাপন করুন। তবুও অন্তত দেশের মানুষকে বাঁচান। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা বাংলাদেশকে যেন অগ্নিকান্ডর হাত থেকে রক্ষা করে।
লেখক : কলামিস্ট, প্রাবন্ধিক।

























