সুন্দরী প্রতিযোগিতা সমালোচনায় নারী
০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:৫৮ পিএম
আমার ফেইসবুক প্রিয় বন্ধু, কবি শুভ্রা নীলাঞ্জনা ২ অক্টোবর নিজের টাইমলাইলে লিখেন,
"আমাদের দেশের সুন্দরী প্রতিযোগীতা মানেই পান পাতার মত সুন্দর মুখ আর বয়সটা ঠিক থাকলেই প্রেিত্যাগীতায় অংশ নেয়া যায়। তাই যদি হয় তাহলে আর প্রশ্ন উত্তর পর্ব রাখা কেন? এই টা না থাকলেই তো ঝামেলা শেষ। অনেকেই বলেন সুন্দরীরা মেধাবী হয় না এইসব শুনে না হেসে ও পারি না। আবার বলেন সবাই সব কিছু জানবে এমন কথা না। আমি এই দুই মতের একটাও সমর্থন করি না। সুন্দরীরা মেধাবী হয় না ভারতের মিস ওয়ার্ল্ড বা মিস ইঊনিভার্স তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। শুধু ভারত কেন বিশ্বের সব নামি অভিনেত্রী আর যারা এই সব প্রতিযোগীতায় যায় তারাপ্রচন্ড টেলেন্টের অধিকারি হন। কোন প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহণ করতে গেলে তাকে কিছু ব্যাসিক নলেজ অর্জন করতে হয় অন্যরা না পারলে দোষের কিছু না তারা পারলেই কি না পারলেই কি তাদের কে বিশ্বের মানুষ দেখছে না। কিন্তু যখন সে একটা দেশ কে রিপ্রেজেন্ট করছে তাকে সেই ভাবেই প্রস্তুতি নিয়েই অংশ গ্রহণ করতে হবে। সুন্দর মুখ তো জরিনার ও আছে তাই বলে কি সে প্রতিযোগীতায় যেতে পারবে? দেশ কে রিপ্রেজেন্ট করতে হলে আয়োজনকারিদের কে ও অনেক কিছু মাথায় রাখতে হবে। সব চেয়ে ভাল হয় কিছু সিলেক্টিভ প্রশ্নের উত্তর তাদের হাতে ধরিয়ে দেয়া ওরা আগে থেকে শিখে নিবে আর বিচারক দের কাছে সেই প্রশ্ন গুলি দিবে যে এর বাইরে প্রশ্ন করা যাবে না অন্তত এই সব নিয়ে ট্রল তো আর হবে না আর সুন্দরীরা মুর্খ হয় এই অপবাদ ও ঘুচবে। সব চেয়ে বড় কথা যে কোন পরীক্ষা বা প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করতে হলে নিজেকে সেই ভাবেই প্রস্তুত করতে হয় জানতে হলে শিখতে হবে পড়তে হবে এটার কোন বিকল্প নেই। তুমি যতবড় হনু ই হও।"
যত্তমরা যেন নারীর জন্যেই ওতপ্রেতে বসে থাকে। বিতর্ক আর পিছুই ছাড়ছে না ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার। এত বছর পর শুরু হয়েই গতবার আসরে ফলাফল ঘোষণার পরপরই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। আয়োজক ও বিচারক দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত মূল মঞ্চে ঘোষিত চ্যাম্পিয়নের নাম বদলাতে বাধ্য হয় সংবাদ সম্মেলন করে। আর এবার তো আরো এক ধাপ এগিয়ে আছে এই সুন্দরী প্রতিযোগিতা। তাই মনে প্রশ্ন- এটা কি আসলেই সুন্দরী প্রতিযোগিতা নাকি সমালোচনায় বারবার নারী নিয়ে আসা?
৩০ সেপ্টেম্বর রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮’। লাখ লাখ প্রতিযোগী অংশ নিলেও আলোচনা হয় চূড়ান্ত পর্যায়ে উত্তীর্ণ দশ প্রতিযোগীকে নিয়ে। এবারের সেই দশ প্রতিযোগী ছিলেন - নিশাত নাওয়ার সালওয়া, মনজিরা বাশার, ইশরাত জাহান সাবরিন, স্মিতা টুম্পা, আফরিন সুলতানা লাবণী, সুমনা নাথ অনন্যা, নাজিবা বুশরা, জান্নাতুল মাওয়া, শিরীন শিলা ও জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। আসরে মূল বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন কণ্ঠশিল্পী শুভ্রদেব, মডেল ও অভিনেতা খালেদ সুজন, মডেল ইমি, ব্যরিস্টার ফারাবী। ফাইনালের আইকন বিচারক হিসেবে ছিলেন মাইলস ব্যান্ডের শাফিন আহমেদ, হামিন আহমেদ এবং নৃত্যশিল্পী আনিসুল ইসলাম হিরু। এবার ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮’ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছেন আজরা মাহমুদ, সনিকা ও নিরব। সেরা ১০ প্রতিযোগীর পাশাপাশি একে একে পারফর্ম করে মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস, আঁচল, গায়ক ড. মাহফুজুর রহমান, মিনার, ব্যান্ড বাংলার গানসহ আরও অনেকেই। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে গানে গানে মাতাতে আসেন প্রতীক হাসান ও প্রীতম হাসান।
‘ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ ২০১৮ প্রতিযোগিতায় ‘মিস ট্রেন্ডি’ পুরস্কার জিতেছেন স্মিতা টুম্পা। এ ছাড়া ‘বেস্ট বিহেভিয়র’ পুরস্কার আফরিন সুলতানা, ‘মিস ইন্টেলিজেন্ট’ পুরস্কার নিশাত নাওয়ার, ‘মিস স্মাইলি’ পুরস্কার সুমনা নাথ অনন্যা, ‘মিস ফটোজেনিক’ পুরস্কার জান্নাতুল মাওয়া, ‘মিস ট্যালেন্টেড’ পুরস্কার নাজিবা বুশরা, ‘মিস পারসোনালিটি’ পুরস্কার শিরিন শিলা, ‘মিস স্পোর্টি’ পুরস্কার পেয়েছেন ইশরাত জাহান সাবরিন। ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হওয়ার পাশাপাশি ‘বেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স’ পুরস্কারও পেয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। দ্বিতীয় হয়েছেন নিশাত মাওয়া সালওয়া। তৃতীয় হয়েছেন নাজিবা বুশরা। বিজয়ী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী আগামী ৭ ডিসেম্বর চীনে মূল পর্বে যোগদানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখানে ৮ ডিসেম্বর থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হবে।
পুরো ইভেন্টের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে দুই প্রতিযোগীর হাস্যকর উত্তর নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। বিচারক খালেদ আহমেদ সুজন প্রতিযোগী আফরিন সুলতানা লাবণীর কাছে জানতে চান, H2O মানে কি? উত্তরে লাবণী কিছু বলতে না পারলে জ্বি স্যার জ্বি স্যার করেছেন দুবার। খালেদ আহমেদ সুজন বুঝতে পেরে বলে দেন- H2O মানে হলো পানি। উত্তর পেয়ে লাবণীর একজানেই চুপ থাকা দরকার ছিলো। কিন্তু শীর্ষ দশ এ অবস্থান নেয়া লাবণী বলেন- স্যার H2O নামে একটা রেস্টুরেন্ট আছে ধানমন্ডিতে। এরপর সুজন বিরক্ত হয়ে বলেন- H2O মানে রেস্টুরেন্ট এটা জানি, কিন্তু H2O মানে পানি এটা জানি না ভেরি স্যাড।
আমার ১৪ বছর বয়সি মেয়েটা ভিডিও দেখে বারবার বলছে, "এটাতো ৬ষ্ঠ/৭ম শ্রেনীতেই পড়ে এসেছি। প্রশ্ন না বুঝলে সেটা বলবে, প্রয়োজনে প্রশ্ন বুঝতে চেষ্টা করবে। বুঝতে নাই পারলে তা সরাসরি জানা নেই বলবে। কিন্তু ভূল উত্তর কেনো দিবে?"
বিচারক ইমি প্রশ্ন করেন সুমনা নাথ অনন্যাকে। শুরুতেই ইমি বলেন, ‘আমি ইন্টেলেকচুয়াল প্রশ্ন করতে পারি না। এখানে সব গর্জিয়াস লেডিরা দাঁড়ানো, এখানে ইন্টেলেকচুয়াল প্রশ্ন করা ঠিক হবে না। আমি একেবারে ইজি একটা প্রশ্ন করবো সেটা হচ্ছে, তোমাকে যদি তিনটা উইশ দেয়া হয়, নিজের জন্য একটা উইশ করতে পারবে, অথবা ফ্যামিলির জন্য একটা উইশ করতে পারবে অথবা দেশের জন্য একটা উইশ করতে পারবে। তুমি এই তিনটা থেকে কোন উইশটা পছন্দ করবে? যে উইশটা পছন্দ করবে সে উইশটা কি?’
উত্তরে সুমনা নাথ অনন্যা বলেন, ‘অ্যাট ফার্স্ট আমি প্রথমে যেটা উইশ করতে চাই সেটা আমার কান্ট্রির জন্য। বাংলাদেশে অনেক বড় সি-বীচ রয়েছে কক্সবাজার, দ্বিতীয় সুন্দরবন রয়েছে ও অনেক অনেক পাহাড় পর্বত রয়েছে। আমি এই গুলোকেই উইশ করবো।’ এমন জবাব শুনে ইমিও খানিকটা বিরক্ত হন যা, তার এক্সপ্রেশন দেখেই বোঝা যায়। প্রশ্ন হলো সুমনা নাথ কি প্রশ্নটি বুঝতে পেরেছেন? ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি প্রশ্নের জবাব দেয়ার চেয়ে প্রশ্ন করাই কঠিন। কারণ একজন প্রশ্ন কর্তাকে নির্বাচন করতে হবে অনেককিছু। যাকে তিনি প্রশ্ন করছেন তার বয়স, তার মেধা, সেই স্থান, বিষয়, অবস্থান, ইত্যাদি ইত্যাদি। আরো নির্বাচন করতে হবে যে স্থানে প্রশ্ন করছিন সেই স্থানটির পরিধি কতটা বা এখানে দেশ সংস্কৃতি আর আমাদের ঐতিহ্যের সাথে সম্পর্ক আছে কিনা, বা কোনভাবে লঙ্ঘিত হবে কিনা। বা যাকে প্রশ্নটি করা হচ্ছে তা তার উপযুক্ত কিনা। পাশাপাশি আমি এও বলবো, এই প্রশ্নটি এই মঞ্চের জন্যে উপযুক্ত ছিলো।
সুমনা নাথ মাননীয় বিচারক ইমির প্রশ্নই বুঝতে পারেননি। উপস্থাপনা করা, উইশ করা, উৎসর্গ করা এই শব্দগুলোর অর্থ ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু কোন ক্ষেত্রে কি জবাব আসবে বা দিবে তা পরের কথা। আগে প্রশ্ন তো বুঝতে হবে। সুমনা নাথ না বুঝেই উল্টা জবাব দিয়েছেন। এখন সোসাল মিডিয়ার জনপ্রিয় জায়গা হলো ফেইসবুক। মিস ওয়ার্ড বাংলাদেশ নিয়ে যখন সমালোচনা চলছে তখন ছোট মেয়ে ইউটিউব এ দেখছে। পাশে আমি আর ওর বাবা বসা। মেয়ের বিভিন্ন উক্তিই আমায় ভাবিয়েছে ভিডিও দেখার। সুমনা নাথ যখন দেশের জন্যে উইশ করবে বলে, ঠিক তখন প্রশ্ন কর্তা দেশ না শুনে পরিবারকে উইশ এর কথা বলেই পরে দেশকে উইশের কথা বলেন। সুমনা নাথ তার প্রথম প্রশ্নের জবাবের দেশের কথাই বলে গেলেন। অবশ্য অবশেষে উইশ শব্দটির মানে টা বা ব্যক্তিগত জবাবটা দিয়েছেন মাননীয় বিচারক ইমি।
বন্ধু শুভ্রার কথা ধরেই বলতে হয়, প্রতিযোগীদের কেমন প্রশ্ন করা হবে তার ধারণা আগে ওদেরকে দেয়া দরকার ছিলো। মঞ্চে এনে লোক হাসানোর প্রয়োজন তো ছিল না। নাকি লোক হাসিয়ে নারী কেন্দ্রিক ইস্যু বানিয়ে সমালোচনায় আসার আর কোন পথ না পেয়েই এমন করা হলো। সুন্দর যদি বাহ্যিক দিক হয় তাহলে প্রশ্ন কেনো? সুন্দর যদি জ্ঞ্যানের কথাই হয় তাহলে জরিনা খালা ময়না আপায় আসে না কেন?
প্রতিযোগিতায় কাকে সেরা করবে তা বিচারকরা আগেই ঠিক করে এমন প্রশ্ন উত্তরের হালখাতা খুলতে বসলেন কেনো? মঞ্চে এনে সুখে দুঃখের স্মৃতি বলিয়ে সময় পার করতেই পারতেন। তা না করে নারী বিষয়ে আলোচনা সমালোচনা করার একটা ইস্যু তৈরি করে দিলেন।
বিজয়ী জান্নাতুল ফেরদৌসী ঐশী পিরোজপুরের মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি কোচিং করতে জুলাই মাসে আসেন রাজধানী ঢাকায়। এইচএসসি পাস করেছেন মাটিভাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ থেকে। 'মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮’-এর বিজ্ঞাপন দেখে আবেদন করেন। পরিবারকে প্রথম না জানালেও পরে বাবা-মা বাধা দেননি, মেয়েকে তাঁরা উৎসাহ দেন। দেখতে দেখতে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেন। সেরা দশে জায়গা পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। বাবা আবদুল হাই সমাজকর্মী আর মা আফরোজা হোসনে আরা স্কুলের শিক্ষক। ঐশীরা দুই বোন। বড় বোনের নাম শশী।
'মিস বাংলাদেশ' বাংলাদেশের একটি স্থানীয় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতা যে বছর যিনি বিজয়ী হন, তাকে পরবর্তীতে 'মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায়' অংশ নিয়ে নিজ দেশের জাতির প্রতিনিধিত্ব করার উপযোগি হিসেবে তৈরি করা হয়। ইভেন্টটি বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো ও প্রধান আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতা, মিস ওয়ার্ল্ডে বাংলাদেশকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয় মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের বিজয়ী মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগীতায়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অক্টোবর ২০১৭-এ, জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল প্রথমবারের মতো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ নির্বাচিত হন। এক সপ্তাহ পরে এভ্রিলের মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ টাইটেল বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জানা গিয়েছিল যে তার বয়স ১৬ বছর নয়, ২৩ বছর এবং তিনি বিবাহিত। তাঁর বিরুদ্ধে বিয়ের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জান্নাতুল নাঈমকে দেওয়া এই খেতাব বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে প্রতিযোগিতার পাঁচ দিন পর, প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়-স্থান অধিকার করা জেসিয়া ইসলামকে “মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ” হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। মিস ওয়াল্ড প্রতিযোগিতায়, তিনি ষষ্ঠ গ্রুপে হেড টু হেড চ্যালেঞ্জ পর্বে বিজয়ী হন ও শীর্ষ ৪০-এ যান।
উল্লেখ্য ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতি বছর এই আয়োজন শুরু হলেও ২০০৭ সালের পর থেকে স্থগিত হয়ে যায়। পুনঃরায় ২০১৭ সালে তা আবার চালু হয়। বিগত বছরগুলোতে যারা বিজয়ী হন তারা হলেন,
১৯৯৪ - আনিকা তাহের, ১৯৯৫ - ইয়াসমিন বিলকিস সাথি, ১৯৯৬ - রেহনুমা দিলরুবা চিত্রা, ১৯৯৮ - শাইলা সিমি, ১৯৯৯ - তানিয়া রহমান তিন্নি, ২০০০ - সোনিয়া গাজী, ২০০১ - তাবাস্সুম ফেরদৌস শাওন, ২০০৭ - জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, ২০১৭ - জেসিয়া ইসলাম, ২০১৮ - জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। এন্টার শোবিজ ও ওমিকন এন্টারটেইনমেন্ট মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশকে দেশের প্রথম জাতীয় প্রতিযোগিতায় পরিণত করেছে। ইভেন্টেটির লক্ষ্য হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগকে সমর্থন করা। শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়,
নারীর ক্ষমতায়ন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতেই যদি এই আয়োজন, তাহলে এতো দুর্বল হয় কি করে এই আয়োজন? নাকী ক্ষমতা ও প্রতিনিধিত্বের নামে নারীকেই আলোচনায় বারবার তোলা হচ্ছে?
বন্ধু শুভ্রা নীলাঞ্জনার মতো বলতেই হয় জরিনা খালা তুমি কোথায়, ময়না আপা তুমিও রেডি থাকো, সামনের বার মঞ্চে উঠতে পারবে, ভালো খবরে আলোচনায় না আসতে পারলেও মন্দ কথায় সমালোচনায় ঠিক থাকবে। তুমি নারী এটা তোমাকে ইস্যু গুলোই বারবার মনে করিয়ে দিবে।
লেখক- সাহিত্যিক, কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক।


































