দুবাই যাচ্ছে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব: মোবারকের পর এবার বেনজীরকে ফেরানোর প্রস্তুতি
১৬ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম
ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সম্প্রতি কাতার থেকে হত্যা মামলার আসামি মোবারক মন্ডলকে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনার পর বেনজীরকে নিয়েও আশাবাদী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের সমন্বয়ে দুই-এক দিনের মধ্যেই স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রস্তাব (এক্সট্রাডিশন প্রপোজাল) পাঠাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে আইনি কৌশল হিসেবে এই প্রস্তাবে বেনজীরের বিরুদ্ধে থাকা আইসিটি মামলার বিষয়টি না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ একটি ইমেইল বার্তায় বাংলাদেশ পুলিশকে জানায়, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চিঠিতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ করে আসামিকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়। এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে ইন্টারপোলে এই রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল।
পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ সদর দপ্তরের একটি দল দুদক কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরিতে সহায়তা করছে। ওয়ারেন্টসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে তা ইংরেজিতে অনুবাদ ও নোটারি করার কাজ শেষ করা হয়েছে। প্রয়োজনে কিছু নথির আরবি অনুবাদও যুক্ত করা হতে পারে। নথিপত্রগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং মন্ত্রণালয় তাদের নিজস্ব কূটনৈতিক চ্যানেলে বা ইমেইলের মাধ্যমে দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে তা হস্তান্তর করবে।
খুনি মোবারক যেভাবে ফিরল:
বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে নারায়ণগঞ্জের একটি হত্যা মামলার আসামি মোবারক মন্ডলকে ফেরত দিয়েছে কাতারের পুলিশ। পিবিআই প্রধান ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর আব্রাহাম খান আল-আমিন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি মোবারক মন্ডলকেও ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে কাতার থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরিয়ে এনে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নিহত আল-আমিনের সঙ্গে আসামি মোবারক মন্ডলের স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক ও আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। কাতারে অবস্থানরত মোবারক চরম ক্ষুব্ধ হয়ে আল-আমিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর অত্যন্ত গোপনে দেশে এসে পরদিন আল-আমিনকে হত্যা করে লাশ একটি খালে ফেলেন। এর পরদিনই তিনি আবারও কাতারে পালিয়ে যান। গত ১২ এপ্রিল কাতার কর্তৃপক্ষ ও ইন্টারপোলের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানোর পর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২৭ মে মোবারককে কাতার থেকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
ফিরছেন অনেকেই, তবে রয়েছে আইনি ফাঁকফোকরও:
পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) জানিয়েছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কার্যকরের মাধ্যমে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ জন পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এদের মধ্যে আছেন বহুল আলোচিত বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামি বজলুল হুদা (ব্যাংকক থেকে), এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (আমেরিকা) ও ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল মাজেদ (ভারত)। এছাড়া দুবাই ও মালয়েশিয়া থেকেও বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকজন খুনের মামলার আসামিকে দেশে আনা হয়েছে।
তবে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার হওয়ার পরও আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে কোনো কোনো আসামিকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। যেমন, ২০১৯ সালে দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ মন্টি ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে আইনি জটিলতার সুযোগে জামিন পান এবং পরবর্তীতে লন্ডনে পালিয়ে যান। অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদত কলকাতা পুলিশের হাতে আটক হলেও একইভাবে ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে পরে দুবাই হয়ে ইতালিতে চলে যেতে সক্ষম হন।


























