তাহসিফের বন্ধু দীপকে পিবিআইয়ের হেফাজতে; চলছে জিজ্ঞাসাবাদ
৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৫ এএম
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী বা উত্তরা ও সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন সূত্র এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি (২৮)-এর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে তথ্য সংগ্রহের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন নদ থেকে কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।
তাহসিফের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর তাঁর চেয়ে বয়সে ছোট হলেও বন্ধুস্থানীয় আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ বাসার নিচে এসে তাহসিফকে ডাকেন। তাহসিফ তাঁর মাকে জানান, দীপের সঙ্গে কথা বলে তিনি দ্রুত বাসায় ফিরে আসবেন। তবে বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ নিজস্ব মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হচ্ছেন এবং দীপ ছিলেন একটি আলাদা মোটরসাইকেলে।
রাতে ছেলের বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় মা একাধিকবার তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। এরপর রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মায়ের মোবাইল ফোনে একটি খুদে বার্তা আসে, যাতে লেখা ছিল—‘মা, আসছি’। তবে তিনি আর ফেরেননি।
তাহসিফের এক নিকটাত্মীয় গণমাধ্যমকে জানান, শেষ মুহূর্তে পাঠানো ভয়েজ মেসেজটি তাঁর কাছে তাহসিফের নিজের বলে মনে হয়নি। তাছাড়া তাহসিফের বাবাও গণমাধ্যমকে জানান, ওই ভয়েজ মেসেজটি শুনে তাঁর ছেলেকে বেশ ব্যস্ত বা চাপে মনে হয়েছিল।
যার ডাকে বাসা থেকে তাহসিফ বের হয়েছিলেন, সেই বন্ধুস্থানীয় আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ দাবি করেন, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাঁরা প্রথমে তাহসিফের মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য একটি গ্যারেজে যান। সেখান থেকে উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান। এরপর দুজন নিজ নিজ মোটরসাইকেলে করে ফিরছিলেন এবং উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত একসঙ্গে ছিলেন। দীপের দাবি, রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তাঁরা দুজন আলাদা হয়ে যান এবং তিনি নিজ বাসায় ফিরে আসেন; এরপর তাহসিফের বিষয়ে তিনি আর কিছুই জানেন না।
বৃহস্পতিবার রাতে বন্ধু দীপকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে পিবিআই জানায়, যেহেতু ঘটনার রাতে দুজন একসঙ্গে ছিলেন, তাই তথ্য সংগ্রহের জন্য আহমেদ সাহরিয়ার রেজা দীপকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে আনা হয়েছে। তাঁরা সেদিন ঠিক কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন এবং দীপের দেওয়া তথ্যাবলি কতটা বাস্তবসম্মত—তা এখন নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক সম্পন্ন করা দীপের বাসা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এলাকায়। সাবেক এই বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




































