লামায় পল্লীতে মারমা সম্প্রদায়ের ‘‘ওয়াগ্যোয়েই পোয়েঃ” উৎসব
১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৩৩ পিএম
মারমা সম্প্রদায়ের ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ উৎসবে বান্দরবানে লামা উপজেলায় পাহাড়ী পল্লীগুলোতে সেজেছে জাক-জমক রব। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মারমা সম্প্রদায়ের ২য় প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রবারণা পূর্ণিমা।
সোমবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লামা কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার উদ্যোগে রথযাত্রার মাধ্যমে শেষ হয়েছে এই প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব।
প্রবারণা পূর্ণিমা দিনকে ঘিরে লামায় গত শনিবার (১২ অক্টোবর) থেকে সোমবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ উৎসব শুরু হয়েছে। পূর্ণিমা দিন প্রতিটি কেয়াং (বিহার) ও বৌদ্ধ ধর্মালম্বীর পল্লি গুলোতে ফানুস উড়ানো সহ নদীতে হাজারো প্রদীপ প্রজ্বলন, পিঠা তৈরী প্রতিযোগীতা সহ নানান কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। গত রবিবার সন্ধ্যায় গজালিয়াতে গাইন্ধ্যা পাড়া রতযাত্রা ও ফানুস উড়িয়ে প্রবারণা পূর্ণিমা শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর এ জান্নাত (রুমি)।
এদিকে লামা মাহামুণি ও উপজেলা কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার মাঠে পূর্ণিমা দিন রবিবার আকাশ (স্বর্গ) চুলামণি চৈত্য (জাদি) কে বন্দনার জন্য ‘‘ফানুস’’ উড়ানো, মাতামুহুরী নদীতে হাজার প্রদ্বীপ প্রজ্বলন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল ছাড়াও আশপাশের ক্যায়াং এবং মারমা পল্লিগুলো থেকে গৌতম বুদ্ধের চুলামণি চৈত্য বন্দনা করতে রংবেরঙের শতশত ফানুস বাতি আকাশে উড়ানো হয়।
লামা কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের উদযাপন কমিটির আহবায়ক ক্যজ্য মার্মা জানান, তিন মাস বর্ষাবাস (উপোস) থাকার পর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ (প্রবারণা পূর্ণিমা) উৎসব পালন করে আসছে প্রতি বছর। এটি মারমা সম্প্রদায়ের ২য় প্রধান ধর্মীয় উৎসব। মারমা বা রাখাইন পাশাপাশি বৌদ্ধ ধর্মালম্বী বড়ুয়া, ম্রো, চাকমা, তঞ্চঙ্গারাও এ উৎসবে পালন করে থাকে।
এই পূর্নিমায় ফানুস উড়ানোর মূল উদ্ধেশ্য হল, রাজপুত্র সিদ্ধার্থ (গৌতম) জগৎ সংসারের মায়া-মোহ ছেড়ে, দুঃখ মুক্তি পথের সন্ধানে ২৯ বছর বয়সে শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমায় কপিলাবস্তুর রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করেন সন্ন্যাসীর পোশাক পরিধান করেন। এসময় সিদ্ধার্থ আপন তরবারি দিয়ে মাথার চুল কেটে সত্যক্রিয়া অধিষ্ঠান করেন- ‘আমি যে উদ্দেশ্যে সংসারধর্ম ত্যাগ করে সন্ন্যাসধর্ম গ্রহন করছি সে উদ্দেশ্য যদি পূর্ণ হয় অর্থাৎ ভবিষ্যতে বুদ্ধত্ব লাভ করতে পারি- তাহলে আমার কর্তিত চুলগুচ্ছ নিচে না পড়ে উর্ধ্বে আকাশে উড়ে যাবে....।’ সত্যি সত্যিই তার চুল উর্ধ্বে উত্থিত হয়। বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের দৃঢ় বিশ্বাস সে পবিত্র চুল আজও আকাশে ভাসমান আছে। শাস্ত্রে আছে দেবরাজ ইন্দ্র পবিত্র চুল রাশি সংগ্রহ করে আকাশ (স্বর্গ) চুলামণি চৈত্য (জাদি) নির্মাণ করে দেন। সে চুলামণি চৈত্যকে বন্দনার জন্যই ‘‘ফানুস’’ উড়ানো হয়।






























