তারেক রহমানকে ঠিক করতে হবে, কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন: নাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম


তারেক রহমানকে ঠিক করতে হবে, কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন: নাহিদ

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঠিক করতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন। শনিবার জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোট ঢাকার উদ্দেশে রংপুরমুখী লংমার্চ শুরু করার সময় তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে নাহিদ বলেন, ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সরকারের রেকর্ড দিয়েই শেষ পর্যন্ত তাদের মূল্যায়ন হবে।’

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানকে ঠিক করতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন। তিনি ঠিক করবেন, হেলিকপ্টারে করে দেশ ছাড়বেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন।’ এ সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পদত্যাগের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন নাহিদ।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করা এবং মানুষের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও করেন তিনি।

নাহিদ বলেন, ‘গত ১৬ বছর আমরা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য লড়াই করেছি। কিন্তু এখন বিএনপি ক্ষমতায় এবং তারাই মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে ও গণতন্ত্রকে দুর্বল করছে।’

শেখ হাসিনা সরকারের সময় যেভাবে আইন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হতো, বর্তমান সরকারও একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা।

নাহিদ আরও অভিযোগ করেন, শুক্রবার রাত থেকে লংমার্চের বিভিন্ন স্থানে ১১ দলীয় জোটের ব্যানার ও ফেস্টুন বিএনপির নেতাকর্মী এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা সরিয়ে দিয়েছেন। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ বিরোধী জোটের সমর্থকদের সংগঠিত হওয়া ঠেকাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ বলেন, ‘দাবির সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু আমরা জানি সব দাবি শেষ পর্যন্ত একটি দাবিতে এসে মিলিত হবে। তাই প্রস্তুত থাকুন।’

তিনি বলেন, বিভিন্ন বাধা সত্ত্বেও লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে চলবে।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অন্যতম দাবি হলো ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিও জানিয়েছে জোটটি।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ভূমিদখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে অতিরিক্ত দলীয় প্রভাব বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও রয়েছে তাদের।

উদ্বোধনী সমাবেশের পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হয়। এটি গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা হয়ে রংপুরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পথে কয়েকটি স্থানে পথসভা এবং রংপুর জিলা স্কুলে সমাপনী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানও। তিনি বলেন, সরকার দাবিগুলোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে একপর্যায়ে জোটের সব দাবি একটি দাবিতে পরিণত হতে পারে।

রংপুরমুখী এই কর্মসূচি চলতি মাসে জোটটির ঢাকা থেকে দ্বিতীয় বড় লংমার্চ। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি পালন করে ১১ দলীয় বিরোধী জোট। নিজেদের দাবিতে রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে তারা।

Ads