বাংলাদেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি এবং আমাদের করনীয়

তাসফিয়া রাফি ঐশী

১৩ জুলাই ২০২৪, ১২:১১ পিএম


বাংলাদেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি এবং আমাদের করনীয়

তাসফিয়া রাফি ঐশী।

 

বন্যা (Flood)  তুলনামূলকভাবে পানির উচ্চ প্রবাহ, যা কোন নদীর প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম তীর অতিক্রম করে ধাবিত হয়। তীর ছাড়িয়ে পানি আশপাশের সমভূমি প্লাবিত করলে সাধারণত জনগণের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্লাবনভূমি যেহেতু মানুষের কাঙ্খিত ও কৃষিকাজের সহায়ক, তাই বন্যাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা ও এর ক্ষয়ক্ষতি যাতে সীমা ছাড়িয়ে না যায় তা লক্ষ্য করা জরুরী। বন্যা হল পানির অত্যধিক প্রবাহ যা সাধারণত শুষ্ক জমিকে নিমজ্জিত করে।“প্রবাহিত পানি” অর্থে শব্দটি জোয়ারের প্রবাহের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে। বন্যা কৃষি, পুরকৌশল ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদ্বেগের বিষয়। পরিবেশে মানুষের পরিবর্তন প্রায়শই বন্যার তীব্রতা ও ঘটনার পৌনঃপুনিকতা বৃদ্ধি করে, উদাহরণস্বরূপ ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন যেমন বন উজাড় ও জলাভূমি অপসারণ, পানিপথের গতিপথের পরিবর্তন বা বন্যা নিয়ন্ত্রণ যেমন নদীর তীরের বাঁধ এবং বৃহত্তর পরিবেশগত সমস্যা যেমন জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের বর্ধিত বৃষ্টিপাত এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা বন্যার অন্যান্য কারণের তীব্রতা বাড়ায়, ফলে আরও তীব্র বন্যা হয় এবং বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

 

 

২০২৪ সালে বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর আকার ধারণ করেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলাসমূহে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে আসা পানির চাপের ফলে সৃষ্ট এই বন্যায় প্রায় ১৪ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার ফলে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে এবং মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে।বাংলাদেশের অবস্থান গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ এলাকায় হওয়ায় এবং বাংলাদেশের উপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত বিভিন্ন উপনদীর কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছরই বর্ষাকালে ছোট থেকে মাঝারি আকারের বন্যা হয়ে থাকে। সাধারণত বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস বাংলাদেশে বর্ষা ঋতু। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান নদী ও উপনদীগুলো হিমালয়ের বরফগলা ও বৃষ্টির পানিতে তুলনামূলকভাবে পানির উচ্চ প্রবাহে প্রবাহিত হয় এবং বাংলাদেশ বন্যায় প্লাবিত হয়।ভৌগোলিক অবস্থান, ভূতাত্তিক গঠন ও জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে ছোট বড় প্রায় ২৩০ টি নদী বয়ে গেছে। মূলত এজন্যই অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের তুলনায় বাংলাদেশে বন্যার প্রকোপ বেশি।বন্যা সাধারণত মৌসুমী ঋতুতে হয়ে থাকে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর)। প্রতিবছর বাংলাদেশের প্রায় ২৬,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা (১৮%) বন্যায় প্লাবিত হয়। অতীতে বন্যা বাংলাদেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বিশেষ করে ১৯৬৬, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪, ২০০৮, ২০১৭, ২০২২ সালে। অর্থ্যাৎ দেখা যায়,২০০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত প্রতি ১০ বছর পর বাংলাদেশে একটি বড় বন্যা হয়ে ছিল।বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে ১৯৮৮, ১৯৯১ ১৯৯৮ ও ২০২২ সালে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক বন্যা হয়।  বাংলাদেশে বন্যার সংজ্ঞা স্বতন্ত্র। বর্ষাকালে  যখন নদী, খাল, বিল, হাওর ও নিচু এলাকা ছাড়িয়ে সমস্ত জনপদ পানিতে ভেসে যায় এবং ফসল, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সহায়-সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে, তখন তাকে বন্যা বলে আখ্যায়িত করা হয়। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বন্যার সঙ্গে ফসলের একটা সম্পর্ক রয়েছে। অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধান নদীগুলো, বিশেষ করে সুরমা ও কুশিয়ারা, বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩ লাখ মানুষ বর্তমানে পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বন্যার ফলে সড়ক ও ঘরবাড়ি ডুবে গেছে এবং বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা একত্রিত হয়ে ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। খাদ্য, পানীয় জল, ওষুধ এবং আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে, পরিস্থিতি এখনও জটিল এবং বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই বন্যা বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবে ত্রাণ সংস্থাগুলোর প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সহায়তার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। 

বাংলাদেশে যে কয় প্রকার বন্যা দেখা যায় তা হচ্ছে, (১) মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাবে নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি জনিত বর্ষাকালীন বন্যা, (২) আকস্মিক (পাহাড়ী ঢল) বন্যা, (৩) অপ্রতুল নিস্কাষণ ব্যবস্থা জনিত বন্যা এবং (৪) সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে ঝড় সৃষ্ট জলোচ্ছাস বা জোয়ারের উচ্চতা জনিত বন্যা। মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাবে নদ-নদীর পানি সমতল (উচ্চতা) বৃদ্ধি জনিত বর্ষাকালীন বন্যায় নদ-নদীর পানি সমতল ধীরে ধীরে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। আকস্মিক বন্যা বাংলাদেশের উত্তরের কিছু এলাকা, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাংশে সংলগ্ন পাহাড়ী অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে হয়ে থাকে এবং পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। একই সাথে পানি প্রবাহের গতিবেগ বেশী হয়, বন্যা হয় স্বল্প মেয়াদী। অপ্রতুল নিস্কাষণ ব্যবস্থা বা নিস্কাষণ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্থ হয়ার কারনে মাঝারী বা ভারী বৃষ্টিপাতের দরুন কোন কোন এলাকা বন্যা কবলিত হয়, এই প্রকার বন্যা কবলিত এলাকার পানি সমতল খুব ধীর গতিতে হ্রাস পায় এবং বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়। ঝড়-ঘুর্ণীঝড়-সাইক্লোন ইত্যাদির কারনে সৃষ্ট জলোচ্ছাস এবং জোয়ারের উচ্চতার কারনে উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের কোন কোন এলাকায় এক বা একাধিক প্রকার বন্যা দেখা দিতে পারে। 

আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত এবং নদ-নদী সমুহের বিদ্যমান পানি সমতলের অবস্থা বিবেচনা করে গানিতিক মডেলের সাহায্যে ভবিষ্যতে পানি সমতলের অবস্থা কি হতে পারে তা হিসাব করে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ বার্তা তৈরী করা হয়। এজন্য নদ-নদী সমুহের পানি সমতল, বিভিন্ন স্থানের বৃষ্টিপাত, ওয়েব-সাইট ও উপগ্রহের ছবি ভিত্তিক বৃষ্টিপাত তথ্য ও বৃষ্টিপাত পূর্বাভাস সংগ্রহ করা হয়। এসব সংগৃহিত তথ্য-উপাত্ত নদ-নদীর ডিজিটাল নেটোয়ার্ক ভিত্তিক গানিতিক মডেলে ইনপুট হিসেবে ব্যবহার করে “মডেল সিমুলেশনের” মাধ্যমে প্রধান প্রধান নদ-নদীর নির্দিষ্ট স্থানে পানি সমতলের ভবিষ্যতের অবস্থা (উচ্চতা), বর্তমানের তুলনায় ভবিষ্যত পানি সমতলের উচ্চতার পরিবর্তন (হ্রাস বা বৃদ্ধি) এবং ঐ স্থানে বিপদসীমার তুলনায় পানি সমতলের উচ্চতার হিসাব করা হয়। সকল পূর্বাভাস পয়েন্টে পানি সমতল ভিত্তিক “হাইড্রোগ্রাফের” সাহায্যে বন্যা অবস্থার বিবরন, পূর্বাভাস প্রনয়ন এবং প্রচার ও বিতরন করা হয়। “হাইড্রোগ্রাফ” হচ্ছে কোন স্থানের সময়ের সঙ্গে পানি সমতল উচ্চতার পরিবর্তন নির্দেশক লেখচিত্র। পূর্বাভাস “হাইড্রোগ্রাফের” লাল অংশটি পানি সমতলের পূর্বাভাস নির্দেশ করে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র কর্তৃক বর্ষাকালে প্রতিদিন মডেল ভিত্তিক বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা প্রনয়ন এবং প্রচার ও বিতরন করা হয়। বর্তমানে ২৯টি নদ-নদীর ৫৪টি স্থানে ২৪ ঘন্টা(১ দিন), ৪৮ ঘন্টা(২ দিন), ৭২ ঘন্টা(৩ দিন), ৯৬ ঘন্টা(৪ দিন) এবং ১২০ ঘন্টা(৫ দিন) পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য ভিত্তিক আগাম বন্যা পূর্বাভাস দেয়া হয়। এছাড়া কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে ১০ দিন পর্যন্ত পরীক্ষামূলক সম্ভাব্য আগাম পূর্বাভাস দেয়া হয়। এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট স্থানের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন এবং গড় পানি সমতল হিসাব করা হয়। পাইলট ভিত্তিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কয়েকটি স্থানে পরীক্ষামূলক ৪৮ ঘন্টার আগাম “ফ্লাস ফ্লাড” পূর্বাভাস দেয়া হয়। চারটি স্থানে প্রকল্প বা অবকাঠামো ভিত্তিক পরীক্ষামূলক ৫ দিন পর্যন্ত আগাম বন্যা পূর্বাভাস দেয়া হয়। এছাড়া দূর্যোগের সময় বিশেষ বন্যা বার্তা প্রনয়ন ও প্রচার/বিতরন করা হয়। 

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণের কাজ বলতে ভবিষ্যতের পানি সমতল নির্নয়কেই বুঝায়। স্থান ভিত্তিক পূর্বাভাস মূলতঃ ঐ স্থানের পানি সমতল ও বিপদসীমার সাথে সম্পর্কিত। ১) সতর্ক অবস্থাঃ কোন নির্দিষ্ট স্থানের পানি সমতল ঐ স্থানের বিপদ সীমার নিচে ৫০ সেন্টিমিটারের মধ্যে থাকলে তা ওই স্থানের জন্য বন্যা সতর্ক অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২) সাধারণ বা স্বাভাবিক বন্যাঃ কোন নির্দিষ্ট স্থানের পানি সমতল ওই স্থানের বিপদসীমার উপরে বিপদসীমা হতে ১০০ সেন্টিমিটারের মধ্যে থাকলে তা ওই স্থানের জন্য সাধারন বা স্বকভাবিক বন্যা অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। ৩) যখন পানি সমতল কন স্থানের বিপদসীমার চেয়ে ১০০ সেন্টিমিটারের বেশী উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন তা ওই স্থানের জন্য ভয়াবহ বন্যা হিসাবে বিবেচিত হয়। 

বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:

১.প্রাথমিক প্রস্তুতি ও পূর্বাভাস: বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা। এর জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবহাওয়া পূর্বাভাসের যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
২.বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো: নদী তীর সংরক্ষণ, বাঁধ নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাশয় পুনরুদ্ধার করে বন্যা নিয়ন্ত্রণের অবকাঠামো তৈরি করা।
৩.আশ্রয় কেন্দ্র ও উদ্ধার কার্যক্রম: বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি করা এবং সেখানকার মানুষের দ্রæত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা।
৪.জরুরি খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা: বন্যাক্রান্ত মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
৫.জনসচেতনতা বৃদ্ধি: বন্যার ক্ষতি কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মানুষদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদান।
৬.নদীর নাব্যতা রক্ষা: নদী ও খালগুলোর নাব্যতা রক্ষা করতে নিয়মিত খনন কাজ করা।
৭.বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ: নদীর তীর এবং উঁচু এলাকাগুলোতে বৃক্ষরোপণ করে বন সংরক্ষণের মাধ্যমে ভূমির ক্ষয়রোধ করা।
৮.দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা: বন্যা ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করা এবং সেই অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা। 
বাংলাদেশে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্য এবং ব্যাপক হতে পারে। বন্যার কারণে সাধারণত যে ক্ষয়ক্ষতিগুলি ঘটে, তার মধ্যে রয়েছে:
১. মানবিক ক্ষয়ক্ষতি: বন্যায় মানুষের মৃত্যু, আহত হওয়া এবং বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
২. বাসস্থান ও অবকাঠামোর ক্ষতি: বাড়িঘর, রাস্তা, সেতু, এবং অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস হয়।
৩. কৃষি ক্ষতি: ফসলের ক্ষতি, জমির উর্বরতা হ্রাস এবং গবাদি পশুর মৃত্যু ঘটে।
৪.স্বাস্থ্যগত সমস্যা: পানিবাহিত রোগ, যেমন ডায়রিয়া, কলেরা এবং ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটে।
৫.অর্থনৈতিক ক্ষতি : বন্যার কারণে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ব্যাহত হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৬.শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাহত: স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা শিক্ষার ধারাবাহিকতা ব্যাহত করে।

বাংলাদেশে প্রতি বছর বর্ষাকালে এবং বর্ষা শেষে বন্যার ঘটনা ঘটে, যা দেশের অনেক এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা এবং অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে। বাংলাদেশে বন্যা একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতি বছর ঘটে থাকে। বন্যার প্রভাব বিস্তৃতভাবে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত ক্ষেত্রগুলোতে অনুভূত হয়। সাধারণত, বন্যা দেশের কৃষি, অবকাঠামো এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।বন্যার ফলে ফসলের ক্ষতি, গবাদি পশুর মৃত্যু, এবং অবকাঠামোর ধ্বংস অর্থনৈতিক ক্ষতি বয়ে আনে। কৃষি উৎপাদন কমে যায়, যা দেশের খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেল সামাজিক প্রভাব বন্যার সময় মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারায়, ফলে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। অনেক স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়, যা শিক্ষার উপর প্রভাব ফেলে।স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে বিশুদ্ধ পানির অভাব হয় এবং পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। পরিবেশগত প্রভাব বন্যা মাটির উর্বরতা বাড়ায়, তবে অতিরিক্ত পানি মাটির গুণমান নষ্ট করতে পারে। এছাড়া, নদী ভাঙনের ফলে ভূমি ক্ষয় হয়।পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন বন্যার পর পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়সাপেক্ষ। প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং বন্যা পূর্বাভাস প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি।অবকাঠামো উন্নয়ন বাঁধ, জলাধার, এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি বন্যার পূর্ব প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। কৃষি পরিকল্পনা বন্যা-সহনশীল ফসল চাষের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ ও পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। বন্যা প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও এর নেতিবাচক প্রভাব কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।

 

শিক্ষার্থী 
এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় 
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ
 

 

Ads