লাল সবুজের জন্ম দিন
২৬ মার্চ ২০১৭, ০৩:০২ পিএম
আজ ২৬ মার্চ। আমাদের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালীর হাজার বছরের স্বপ্ন ও আশা আকাঙ্খা বাস্তবায়ন ঘটেছে এই ঐতিহাসিক দিনে। অবিস্বরণীয় ১৯৭১ সাল। স্বাধীনতার স্বপ্নের আগুনে প্রবেশ করে ওই স্পর্ধার জন্য পুড়ে মরার কখা, অগনিত ত্যাগ তিতিক্ষা আর আত্বত্যাগের কখা। স্বাধীনতা বড় কঠিন সাধনার অর্জনের এক মনিরত্ন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কোন আকস্মিক ব্যাপার নয়। আমাদের পূর্বপুরূষ তথাপি দিন মজুর, কৃষক, মধ্যবিত্ত, বুদ্ধিজীবি, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ক্ষুধা, দারিদ্রতা, শোষণ ও বঞ্চনা অবসান মুক্ত দেশ। ভুমিহীন ভাগ চাষিরা জমির ন্যায্য হিসাব পাবে, মানসিক শক্তিবৃদ্ধি হবে, দেশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, হবে কর্মসন্থানের সুযোগ এবং বেকারত্ব কমে যাবে। কেহই নিরক্ষর থাকবেনা। শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞানে দেশ এগিয়ে যাবে, ভাল মানের স্কুল কলেজ হবে। নারী সমাজ পুরুষের কাধে কাধ মিলিয়ে সমঅংশীদার হয়ে জাতীয় উন্নয়নে রাষ্টীয় সিদ্ধান্তে অংশ নিবে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ হবে রাস্তাঘাট শহরমুখী হবে, ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, সুপেয় পানির ব্যবস্থা হবে, সু-চিকিৎসার জন্য অন্যদেশে যেতে হবেনা। আমাদের ভালোমন্দের দায় ভার আমাদেরকেই বহন করতে হবে কারণ আমরা সাবলম্বী হতে চায়।
আমাদের রাজনৈতিক পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি নয়, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম পরিব্যাপ্ত ছিল জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, আদর্শগত সামাজিক সংস্কৃতিসহ সব ফ্রন্টে বিস্তর ছিল মুক্তির সংগ্রাম। বাংলাদেশের এই স্বাধীনতা কোন হুট করে আসা নয়, এক একাধিক প্রশাসনিক ভবনের গোল টেবিরের বৈঠকের ফল নয়, কোন আইন দিয়ে তৈরী নয় , নয়কোন জেনারেলের হাত ধরে আসা। স্বাধীনতা এভাবে আসেওনা, অনেক ত্যাগ, সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে আমরা এটি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধোত্ত্রকালে ঔপনিবেশিক সামরাজ্যবাদের জোয়ার ভেঙ্গে জাতীয় স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামে প্রবল জোয়ার যেমন আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে প্রবলতর করেছে তেমনি সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থায় শক্তিশালী উত্থান সেই সংগ্রামে যুক্ত করেছে সামাজিক মুক্তির উপাদান। ষাটের দশকে আলজেরিয়ার মুক্তির সংগ্রাম, পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন সামরাজ্যবাদের নাকের ডগায় ফিদেল ক্যাস্ট্রো, চে গুয়েভারের নেতৃত্বে বিপ্লবী কিউবার উত্থান। ভিয়েতনামে মার্কিন বিরোধী মরণজয়ী মুক্তিযুদ্ধ, তাসনিয়া, ঘানা, কঙ্গো, এঙ্গোলা, মোজাম্বিক প্রভৃতি দেশ উপনিবেশ বিরোধী জাতিীয় মুক্তির সংগ্রামের বিজয়ের ফলে একটির পর একটি দেশের স্বাধীনতা অর্জন আমাদের দেশেও বিপুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্বাধীনতার সাথে যুক্ত হয় সামাজিক মুক্তির প্রশ্ন।
১৯৭১ এর মার্চের প্রথম দিনের সংসদ অধিবেশন বন্ধ ঘোষনা করেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া, গর্জে উঠে বাঙালী গোটা জাতি। পূর্ব বাংলার মানুষের মন হৃদয় থেকে মুছে যায় পাকিস্তানি রাষ্ট্রের বাস্তব অস্তিত্ব এবং বাংলার মানুষকে এক মানবিক স্থরে নিয়ে আনতে সক্ষমহন মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৭ - ১৯৪৮ এ তিনি শামসুল হকের নেতৃত্বে মাওলানা ভাসানী, আতাউর রহমান খান এর সহায়তায় মুসলীমলীগ বিরোধী এবং জনগনের স্বার্থ জড়িত আওয়ামী মুসলীম লীগে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন শুরূ করেন। ভোগ করতে হয় জেল জুলুম অত্যাচার নির্যাতন। এতে করে বাংলার মানুষ শেখ মুজিবুর রহমানকে আরো বেশী বিশ্বস্ত ও ভালবাসতে থাকে। সে থেকে দেশ স্বাধীন করার জন্য ও দেশ স্বার্থ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাংলার মানুষকে সাথে পেয়েছেন। ১৯৭১ সালের মার্চের ভাষণ, অসহযোগ আন্দোলন কিংবা একদিনের ঘোষনায় বাংলার মানুষ স্বার্থভিত্তিক দেশ গড়ার মানসিক অবস্থায় আনতে পারেনননি। প্রায় এক শিকি শতাব্দি সময় পার করে বাংলার মানুষকে এই স্বাধীনতার স্বাদ পেতে শিখিয়েছেন তিনি। আজ তোমার জন্ম দিন। জন্ম দিনে শুধু মনে ভাসে তুমি যখন মাতৃগর্ভে ছিলে তোমার আগমন আন্দোলিত করে তুলেছিল বাংলার আপাময় জনগনকে। তোমাকে পেতে কত যে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল , নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মরণযুদ্ধ, কতশত লাশ আর এক সাগর রক্ত, কত গণকবর আর কতযে রক্তনদী পেরিয়ে তুমি এসেছ সবুজে ঘেরা লাল সূর্যময় পতাকা উঁচিয়ে। বাংলার দামালদের অসাধারণ বীরত্বের মহিমা গাইতে গাইতে। আমরা স্বাগত জানাই তোমাকে হাসি মুখে ভেজা চোখে।
স্বাধীনতা উচ্চারণ করলে মনের মাঝে অনুভুতির মিষ্টি ঝড় উঠে। এ যে শান্তির স্বস্তির তৃপ্তির, ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর, রক্তের লালিমায় বর্ণিল। যেন সকালের লাল সূর্য। স্গ্ধিআলোর মেলা, পাখির কুজনে স্বপ্নিল। হে স্বাধীনতা আমার লাল সবুজের স্বাধীনতা।
লেখক : কলাম লেখক ও পরিচালক(অন্বেষণ), সোনারগঁ, নারায়ণগঞ্জ। মোবাইলঃ ০১৭৩০০১৮৩৮৪























