সন্তানকে সাঁতারের প্রয়োজনীতা উপলব্ধি সময়ের দাবি
১১ অক্টোবর ২০২১, ০২:১৩ পিএম
নদীমাতৃক বাংলাদেশ। চারপাশ শুধু নদী দিয়েই বেষ্টিত নয়; আছে ছোট, বড়, মাজারি আকৃতির পুকুর, নালা, ডোবা। যেখানে বছরের বেশীরভাগ সময় পানিতে পরিপূর্ণ থাকে।
বিশেষ করে পুকুর, ডোবা, নালা আমাদের বসতবাড়ির কাছেই থাকে। এর ফলে আমাদের গৃহস্থালির নানা কাজ খুব সহজ হয়ে যায়। তবে এর উপকার যেমন রয়েছে, ঠিক তেমনি- ক্ষতিও কম হচ্ছেনা। বিশেষ করে শিশুমৃত্যুর একটা বৃহৎ অংশ বাড়ির পাশের এসব পুকুর, নালা কিংবা ডোবায়। যাদের ৮৪ শতাংশের বয়স ১-৪ বছরের মধ্যে।
দেশে গত ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ এর ২৩ জুলাই পর্যন্ত ১,৫১২ জন পানিতে ডুবে মারা গেছে বলে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর নামে একটি এনজিওর এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে। যার মধ্যে ৮৪ শতাংশই শিশু।
ঢাকার বাহিরে তথা দক্ষিনাঞ্চলে এ মৃত্যুর হার আনুপাতিকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা এসব অঞ্চলে মৃত্যুর হার অনেক বেশি।
এই মৃত্যুর সংখ্যা এতই বাড়ছে যেটা রীতিমতো জাতিসংঘকে নাড়া দিয়েছে। এরপর ২৫ জুলাইকে বিশ্ব 'পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধ-প্রতিরোধ দিবস' ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। গত ২৮ এপ্রিল ২০২১ তারিখে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ বিষয়ক ঐতিহাসিক এক রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে গৃহীত এ রেজুলেশনটি উত্থাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। রেজুলেশনটিতে পানিতে ডুবে মৃত্যুকে একটি ‘নীরব মহামারি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের ৭৫ বছরের ইতিহাসে এ ধরনের রেজুলেশন এটাই প্রথম।
ফলস্বরূপ ২৫ জুলাইকে জাতিসংঘ 'পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস' ঘোষণা করছে। এবং এ মৃত্যু প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় অধিকাংশ মৃত্যু হচ্ছে দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে, কর্মব্যস্ত মানুষের বাচ্চাদের, একান্তই ডোবা বা নালার নিকটবর্তী যায়গায় বসবাসরত জনগোষ্ঠীর বাচ্চাদের মধ্যে।
সমীক্ষায় দেখাগেছে, মৃত্যুর তুলনামূলক সময় সবচেয়ে বেশি সকাল এবং সন্ধ্যায়। কেননা এই সময়টা কর্মব্যস্ত মানুষ তাদের কর্মে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয় এবং কর্মফেরত মানুষ দিনশেষে নিজেকে গুছিয়ে নিতে বাচ্চার দিকে নজর দিতে পারেনা।
আবার মাঝেমধ্যে দেখা যায় বাসাবাড়িতে বাচ্চাদের দেখাশোনার লোক থাকলেও তারা পর্যাপ্ত মনোযোগের অভাবে দেখাশোনা না করার দরুন এমন দুর্ঘটনা ঘটে।
সাধারণত বাচ্চারা পানি দিয়ে খেলতে পছন্দ করে। তারা ওই বয়সে হামাগুড়ি এবং নতুন হাটতে শিখে। এ অবস্থায় বাচ্চারা হাতের কাছে পানি পেয়েই চলে যায় পানির নিকট। পানিতে নেমে আর উঠতে না পেরে সেখানেই হাড়িয়ে ফেলে তাদের জীবন সূচনা।
শুধু যে বাচ্চারাই মৃত্যুবরন করে সেটাও নয়। ইদানিং প্রাপ্ত বয়সের মানুষকেও বিভিন্ন সময় নদীতে গোসল করতে গিয়ে মারা যেতে দেখা গেছে সাঁতার জানার কারণে।
দেখুন, পানিতে ডুবে মৃত্যু- এটি প্রাকৃতিক কোন অভিশাপ নয়। এটি শুধুমাত্র আমাদের অসতর্কতা এবং অবহেলার প্রতিদান। অতএব, এ কৃত্রিম দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতা প্রতিরোধ করতে আমাদের সচেতন হতে হবে, সন্তানদের সাঁতার শেখাতে হবে এবং সাঁতারের প্রয়োজনীতা উপলব্ধি করাতে হবে।
এক্ষত্রে সরকারের একটি জাতীয় কর্মসূচী প্রয়োজন। দেশের সর্বস্তরে ক্যাম্পেইন করে জনসচেতনা বৃদ্ধি করে আগামীর প্রজন্মকে সুরক্ষিত করার।
বিষয়টিকে কাগজে কলমে আর বাক্সবন্দি করে প্রতিরোধ দিবস উদযাপন কোন ভাবেই ফলপ্রসূ হবেনা। যদিনা আমরা এ নিয়ে কোন সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা গ্রহণ না করি।
এক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ প্রয়োজন। এই অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করতে হলে- সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, এনজিও এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গদের এগিয়ে আশা উচিত।
আগামীতে কোন পরিবার তাদের প্রিয়জনদের যেন এভাবে আর হারাতে না হয় সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে আমাদের সকলের এগিয়ে আসতে হবে।
লেখক-
মো.সায়েদ আফ্রিদী
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ,ঢাকা।
বিভাগ :উদ্ভিদবিদ্যা
বর্ষ-
সেশন :২০১৭-১৮























