"কন্যা শিশুর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে''

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:২০ পিএম


আজ অনেক হতাশা আর উৎকণ্ঠা নিয়ে লিখতে বসা কন্যা সন্তান দিবস নিয়ে। ভাবছি এই ভঙ্গুর সমাজের কাছে লিখে কি হবে? আর কেন লিখতে বসা। এর কি কোন প্রতিকার হবে। কোথাও যেন নেই আমার কন্যা সন্তানের একটু নিরাপদ আশ্রয়, কে দিবে এই অর্ধেক জনগোষ্ঠীর নারীর নিরাপত্তা? ঘরে বাইরে, রাস্তাঘাটে, অফিস আদালতে, সমাজে রাষ্ট্রে একটাই ¯েøাগান পুরুষের হাতে নারী নির্যাতিত হবেই, হতে হবেই। পুরুষের হাতে ছাত্রী নির্যাতিত, পুরুষের হাতে শিশু ধর্ষণ, পুরুষের হাতে ৭০/৮০ বছরের বৃদ্ধা নির্যাতিত। প্রতিটা ঘটনার পর একটাই কথা মনে আসে, বিচার ব্যবস্থার ধির গতি ও বিচার ব্যবস্থার অনিয়মের কারনেই বেড়ে যাচ্ছে নারী নির্যাতন বা কন্যা সন্তানের নির্মম নির্যাতন ও মৃত্যু। মাঝে মাঝেই মনে প্রশ্ন, কন্যা সন্তান জন্ম দেয়া কি পাপ? এটা আমার কথা নয়, এটা অনেক মায়েদের কথা।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) জানায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুন এই ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের হত্যা এবং নির্যাতনের সংখ্যা আশঙ্কাজনক। এই ছয় মাসে ৮৯৫ শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১০৪ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে, ৪০ শিশু আত্মহত্যা করেছে, নিখোঁজের পর এক শিশু এবং বিভিন্ন সময়ে ১৭ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে ৪১ শিশুর। এই হিসাবকে কি আমরা মহামারি ধরতে পারি না। একটা সময় কলেরা, টাইফয়েড ছিলো মহামারি। ঘন্টায় ঘন্টায় মৃত্যুর খবর আসতো, আর এখন ঘন্টায় ঘন্টায় ধর্ষণের খবর। ছয় মাসে ৮৯৫ শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হত্যার শিকার। এই সংখ্যা আর কত হারে বাড়লে টনক নড়বে জানিনা।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ শাবনাজ জাহিরিন বলেন, "ধর্ষণ রোধ করে শিশুদের নিরাপদ রাখার জন্য যে ধরণের অবকাঠামো, লোকবল বা সেবা দরকার সেগুলো এখনো অনেক কম।"
সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষ করে কমিউনিটি লেভেলে যে ধরণে সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকার প্রয়োজন আছে সেগুলো এখনো কার্যকর নয়। এই বিষয়ে তিনি বলেন, "কিছু সার্ভিস আছে বা লোকজন আছে। কিন্তু শিশুদের বিষয় বা এধরণের ঘটনাকে কেউই সেভাবে আমলে নেন না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সামাজিক কল্যাণ কার্যক্রমের পক্ষ থেকে সোশ্যাল ওয়ার্কারদের থাকার কথা, কমিউনিটি লেভেলে এবং প্রবেশন অফিসার যার একটা বিশেষ দায়িত্ব আছে, অনেক জায়গায়ই তারা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এরা ভালোভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না এবং শিশুদের বিষয়গুলো যেভাবে দেখা উচিত বা কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থাকা উচিত সেগুলো এখনো ওইভাবে আমাদের দেশে গড়ে উঠেনি।"(তথ্য সূত্র,বিবিসি নিউজ বাংলা ৮ জুলাই ২০১৯)

বিয়ে হয় কুড়িগ্রামে, বিয়ের পর শাশুড়ি অনেক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যান। পরিচয় হই নতুন নতুন মানুষের সাথে নতুন নতুন পরিবারের সাথে। এক সন্ধ্যায় যাই এক পরিবারে। পরিবারের বয়স্ক মা আমায় পাশে বসালেন, ছুঁয়ে দেখছেন। অনেক আফসোস নিয়ে ধম ফেললেন। আমি অবাক, পরে জানতে পারি উনি নয় কন্যা সন্তানের মা। ছেলের আশায় হতে হতে নয় কন্যা সন্তান হয়েছে উনার। মেয়েরা সবাই ভালো ভালো অবস্থানে আছেন। কিন্তু এই বয়সেও উনার একটা ছেলের জন্যে আফসোস। ছেলে নেই বলে ছেলের বউ ও নেই। অবশ্য এমন পরিবার দেশে একটি বা দুইটি নয়, অনেক পরিবার আছে ছেলে সন্তানের আশায় অনেক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছে। হয়তো এমন নয় কন্যা নয়, ৬/৭ বা ৩/৪ সন্তান হয়েছে হয়তো ওদের। আবার পরপর কন্যা জন্মের কারণে গর্ভধারিণী মা কে স্বামীর ঘর ছাড়তে বাধ্য করেছে এমন পরিবার ও আছে অনেক। শুধু যে এমন তাই নয়, কন্যা সন্তানের জন্যেই অনেক পরিবারে এসেছে অশান্তি, আবার কন্যার মুখ দেখে ফিরে এসেছে আনন্দ জোয়ার এমন পরিবারও আছে। আমার দাদী বলতেন মেয়ে বাচ্চাই হল পরিবারের সুন্দর, মেয়ে বাচ্চা না থাকলে নাকি সংসারকে সংসারই মনে হয় না।

হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড সার্ভিস কোয়ালিটি, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড এর জারা মাহবুব বলেন, 'আমার সুযোগ হয়েছে ব্র্যাকের মতো বড় একটি পরিসরে কাজ করার। এই বেসরকারি সংস্থা অনেক আগে থেকেই নারী অধিকার ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছে। শুধু সচেতনতা বা শিক্ষিত করার মধ্য দিয়েই নয়, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও ব্র্যাক অনেকাংশে মেয়েদের অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। পুরো ব্যাংকিং সেক্টরে ৮ হাজার নারী কাজ করে, যার বারোশ’র বেশি শুধু আমাদের ব্যাংকেই। আমরা এ নিয়ে গর্ব করি এবং আমরা বিশ্বাস করি, এই স্বাবলম্বী নারীরা তাদের পরিবারেও অনন্য ভূমিকা রাখছে। তবে দেশীয় পারিপার্শ্বিকতা ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাব অনেকাংশেই আমাদের বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তা না হলে এই অগ্রযাত্রার গতি আরও বেগবান হতো'।

কন্যা সন্তান হলে অপছন্দ করা, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা এবং তাদের লালন-পালনের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন না করা, ইসলামপূর্ব বর্বর জাহেলি যুগের কুপ্রথা। এমন কাজে আল্লাহ তাআলা ভীষণ অসন্তুষ্ট হন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ অন্ধকার হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দেবে নাকি তাকে মাটির নিচে পুতে ফেলবে। শুনে রাখো, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট।’ (সুরা আন-নাহল, আয়াত : ৫৮-৫৯)

কিছু খবর সত্যিই আনন্দ দেয়। একটি কন্যা সন্তানের জন্যে ব্রিটেনের স্কটিশ হাইল্যান্ডের বাসিন্দা এ্যালিক্সিস ব্রেট এক এক করে ১০টি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েও ক্ষান্ত হয়নি। একটি কন্যা শিশু জন্ম দিয়ে তার পরিবার এখন বলছে তাদের হাতে আকাশের চাঁদ নেমে এসেছে। তাদের পরিবার দাঁড়িয়েছে ১৩ সদস্যের। ব্রিটেনে এধরনের ঘটনা এই প্রথম বলে দাবি করছে ট্যাবলয়েড মিডিয়া মিরর। ডেইলি মেইলও ফলাও করে এনিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন করেছে। ৩৯ বছরের এ্যালিক্সিস বলেন ভেবেই নিয়েছিলাম হয়ত আমি আরেকটি ছেলে সন্তান জন্ম দিতে যাচ্ছি। কিন্তু যখন ও ভূমিষ্ট হবার দেখলাম মেয়ে হয়েছে তখন আমার খুশি আর ধরে না। এ এক অসাধারণ অনুভূতি। মেয়েটির নাম রাখা হয়েছে ক্যামেরন যে কিনা তার সবচেয়ে বড় ভাইয়ের চেয়ে ১৭ এবং ছোট ভাইয়ের চেয়ে ২ বছরের ছোট। তার বাবা ৪৪ বছরের ডেভিড একজন ট্রেন চালক। তিনি বলেন, সবাই এখন ক্যামেরনকে নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। তার চারপাশ ঘিরে থাকে। তাকে ঘুম থেকে জাগাতে চেষ্টা করে। কোলে নিতে চায়। খাওয়াতে চায়। (তথ্যসূত্র : আমাদের সময় ডট কম, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯)

কন্যা সন্তান নিয়ে লিখছি শুনে ফেইসবুক বন্ধু রেজাউল (ছদ্মনাম) বলেন,
'কন্যা সন্তান একটা পরিবারকে পুর্ন করে।
মা ছেলে ছেলে করে পাগল হয়। কিন্ত মাকে সাহায্য করে নানা কাজে কন্যা,,,,,, পুত্রবধু ২/৪ জন ব্যাতিক্রম। এর বাইরে কোন পুত্রবধুই শ্বাশুড়ির উপস্থিতি সহজ ভাবে নেয় না। ছেলে যুদ্ধ করতে করতে এক সময় ক্লান্ত হয়ে যায়। তখন ই বাবা মার আশ্রয় হয় বৃদ্ধাশ্রমে। ছেলের দোষ কতটা থাকে সেটা আমরা সবাই বুঝতে পারি না,,,, আর ফাইনালি বৃদ্ধ বাবা মার শেষ দিনগুলোতে কন্যারায় দেখভাল করে। আমাদের সমাজে এটায় ১০০% বাস্তব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৮ এপ্রিল ২০১৯ রোজ রোববার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে সম্পত্তি আইন অনুযায়ী দাদার সম্পত্তির বিষয়ে বাবা গত হলে তার কন্যা ওয়ারিশরা যেন পুত্র সন্তানের ন্যায় অংশ ভাগ পায় সেটা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি দেয়ার পরামর্শ দেন। এইক্ষেত্রে আমাদের সামনে বিচারপতি বা অন্য সকলে রয়েছেন তাদেরকে আমি অনুরোধ করবো। হ্যাঁ, আমাদের ইসলাম ধর্ম বা মুসলিম আইন (শরিয়া আইন) মানতে হবে, এটা ঠিক। কিন্তু কেবল শরিয়া আইনের দোহাই দিয়ে মা-মেয়েকে বঞ্চিত করে বাবার সম্পদ যে তাদের কাছ কেড়ে নেয়া হয় তার কোন সুরাহা করা যায় কি না- আপনারা দয়া করে একটু দেখবেন। এটা করা দরকার।’

তিনি আরো বলেন, 'এভাবেও অনেক সামাজিক অনাচার হচ্ছে। এখানে মেয়েরা বঞ্চিত হচ্ছে, অথচ আমরা শ্লোগান তুলি যে দু’টি সন্তানই যথেষ্ট। এখন দু’টি সন্তানই যদি মেয়ে হয়। তখন বাবার সম্পত্তির ভাগ স্ত্রী পাবে যতটুকু, মেয়ে ততটুকু পাবে বা বঞ্চিত হবে, এখানে কিভাবে এর সুরাহা হবে। তিনি বলেন, ‘আমি শরিয়া আইনে হাত দিতে বলবো না। কিন্তু সম্পত্তি আইনেতে তো এটার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেখানে মেয়ে-ছেলে না লিখে যদি সন্তান লিখে দেয়া যায় তাহলে সন্তান ছেলেই হোক আর মেয়েই হোক তাঁর ভাগটাতো অন্তত সে পাবে। এরজন্য একটা উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এটা বলতে গেলে অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ এবং মওলানাগণ এর বিরোধীতাও করতে পারেন। তবে, তিনি এ বিষয়টিতে আমাদের অনেক ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করেছেন। যাঁরা এই মেয়েদের অধিকার সংরক্ষণের বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। দেখা গেছে, তাদের অনেকেরই ওয়ারিশ কেবল কন্যা সন্তান বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। যাদের ওয়ারিশ হিসেবে কন্যা সন্তান রয়েছে তারা আমৃত্যু যেন সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন এবং তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের কন্যারা যেন পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর নিজের অধিকার পায়। যদিও ইসলাম একমাত্র ধর্ম যেখানে বাবা-মা মারা গেলে কন্যা সন্তানকে তাদের সম্পত্তির অধিকার দেয়া হয়ে থাকে। তারপরেও তারা অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়। কারণ, ভাইয়েরা দিতে চায় না।'

কোরআন মাজিদে পুরুষের ন্যায় নারীদেরকেও সামাজিক দায়িত্ব ও মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: “তোমরা মানবগুষ্ঠির মধ্যে শ্রেষ্ঠ জাতি। অর্থাৎ তোমরাই সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত এবং মানব জাতির সর্বাপেক্ষা হিত সাধানকারি।”
এখানে নারীদেরকে উত্তম জাতির অর্ধেক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। মানব জাতির বংশ বিস্তারে নর ও নারী উভয়ের ভূমিকা সমান। আল কোরআনে এসেছে- “হে মানুষ! আমি তোমারদেকে সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে এবং তোমাদেরকে বিভাজন করেছি বিভিন্ন জাতিতে ও বিভিন্ন গোত্রে, যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পার। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মুত্তাকী। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন।” “আল-কোরআন, ৪৯ : ১৩।” অতএব বোঝা গেল, পুত্র-কন্যা নির্বিশেষে দুনিয়ার সকল মানুষকে একই উপাদান দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। পাপ ও পুণ্যের বিচারে পুত্র ও কন্যার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। (তথ্যসূত্র : দৈনিক ইনকিলাব, ১৩ নভেম্বর, ২০১৬)

'কন্যা সন্তানের নিরাপত্তা শুধু ঘরে নয়, ঘরের বাইরেও নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে সে যখন ছোট কিংবা কিশোরী বয়স অতিক্রম করছে। তাকে নিয়ে যখন বাইরে বের হবেন, আলাদা নজর দিতে হবে তার প্রতি। আপনার ছোট কন্যা সন্তানকে দেখে যদি কোন পুরুষ গায়ে পড়ে আদর করতে আসে, সহজে তাতে সায় দেবেন না। কারণ, এই গায়ে পড়া আদরের আড়ালে কোন খারাপ উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। আপনার সন্তানকে নিয়ে কোন অনুষ্ঠানে গেলে, তাকে নিশ্চিন্তে ছেড়ে দেবেন না। কারণ, সেখানে নানা ধরণের মানুষ উপস্থিত থাকবে। সবার মানসিকতা একই ধরণের না-ও হতে পারে।কন্যা সন্তানকে নিয়ে মার্কেট বা কোন কোলাহলপূর্ণ জায়গায় গেলে তাকে আগলে রাখুন। কারণ, এসব জায়গায় আপনার কন্যা সন্তানটির হয়রানি হবার সম্ভাবনা থাকবে খুব বেশি। কন্যা সন্তানটির সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখুন। যাতে যে কোনো হয়রানির কথা আপনাকে শেয়ার করতে পারে, মন খুলে বলতে পারে। গণপরিবহনে বাচ্চাকে কখনো আড়াল করবেন না। তাকে কাছে নিয়ে বসুন। সম্ভব হলে সিটিং সার্ভিস ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করুন। যেসব কন্যা সন্তানকে স্কুল ভ্যানে বা গাড়িতে স্কুলে পাঠাতে হয়, তারা ড্রাইভারের দ্বারা কোনো হয়রানির শিকার হয় কিনা খেয়াল করুন এবং কন্যার সঙ্গে কথা শেয়ার করুন। শুধু স্কুল বাস বা পাবলিক বাস-ই নয়, নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে কন্যাকে পাঠিয়ে আপনি অবশ্যই নিরাপদে বসে থাকবেন না। তার কাছে থেকে সারাদিনের নানা ঘটনা মন খুলে শোনার চেষ্টা করুন। ড্রাইভারের আচরণ নিয়ে তাকে সুন্দর প্রশ্নের মাধ্যমে জানতে চেষ্টা করুন সব ঠিকঠাক আছে কিনা। সন্তানকে যদি বাড়ির বাইরে প্রাইভেটে পাঠাতে হয়, তবে সেখানে সে নিরাপদ কিনা জানার চেষ্টা করুন।' ( তথ্যসূত্র : ধঃড়ুহবংি২৪.পড়স ২ আগষ্ট ২০১৭)

কন্যা সন্তানের প্রতি অধিক সচেতন হতে করণীয়-
আপনি বেড়াতে গেছেন, গল্পে মসগুল। একটু খোঁজ নিন আপনার সন্তান পাশের রুমে কার সাথে গল্প করছে, কার সাথে খেলা করছে। বিশ্বাস করে ওকে ঘুরতে পাঠালেন, কার সাথে পাঠালেন ভাবুন। গ্যারেজ এ আপনার সন্তান খেলতে যাবে, আপনিও সাথে যান। সিঁড়ি ঘর আপনার সন্তানের জন্যে সবচেয়ে অনিরাপদ। লিফটে বাচ্চা নিচে যাচ্ছে, ভাবছেন নিচেই তো যাবে সামান্য সময়। না আপনি সাথে যান। আপনার কন্যা সন্তানের পিরিয়ডের খবর রাখেন, ক্যালেন্ডারে ওর পিরিয়ডের তারিখ দাগ কেটে রাখুন। বিভিন্ন বয়সে সন্তানের শরীরের পরিবর্তন আসে, আসার আগেই ওকে সে বিষয়ে জানান। সন্তানকে আপনার বন্ধু বানান, তাহলে ও সব কথা শেয়ার করবে। সন্তান ঘরে বন্ধু পেলে বাইরে বন্ধু বানাতে চাইবে না। আশেপাশের ফ্লাটে কিছু পাঠাবেন, নিজে যান, সন্তানকে নয়। সন্তানের সাজ গোজের অভ্যাস থাকলে তাকে নিজেই কিনে দিন। সন্তান ছোট হলে মাঝে মাঝে মা তাকে গোসল করিয়ে দিন। সন্তানের কথায় বা আচরনে চেঞ্জ দেখলে ওকে সময় দিন। ও কোন কথা বলতে চায় বলতে পারেনা এমন হলে শান্ত মাথায় তা শুনুন। হঠাৎ করে সে মোবাইল আবদার করলে তাকে বুঝিয়ে বলুন। হঠাৎ কারো প্রতি কোন পুরুষ রিলেটিভের প্রতি ওর ভালো আচরন দেখলেও আপনি সতর্ক হোন। আপনার অগোচরে সন্তান কোন ওসুধ খায় কিনা খেয়াল করুন। সন্তানের ব্যাগ মাঝে মাঝে নিজেই গুছিয়ে দিন।

লেখক- সাহিত্যিক কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক।

 

Ads