শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রত্ন

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:১০ পিএম


শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রত্ন

বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আমরা হয়তো অনেক ধরনের মন্তব্য কিংবা সমালোচনা করে থাকি বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে। সমালোচনা আর আলোচনা একজন দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা করতেই পারি। কিন্তু আমরা এমনই এক জাতি যারা শুধু খারাপ বিষয় নিয়েই মেতে থাকি সারাক্ষণ। এই যেমন ক্যাসিনো, টেন্ডারের টাকা, জুয়ার আসর, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন দুর্নীতি এখন আইন শৃংখলাবাহীনি বের করে আনছে। এসব নিয়েই আমরা মহা আলোচনায় আছি। অথচ এর জন্য সরকার কিংবা প্রশাসনকে সাধুবাদ আমার জানাতে পারি না। উল্টো বলতে পারি এতোদিন কেন ধরেনি এসব। আসলে জাতি হিসেবে আমরা যে এমন সেটা আমাদের মেনে নিতে হবে।
আমরা যে খাদ্যে স্বয়ং-সম্পূর্ণ, দু’বেলা ভাত খেয়ে শান্তিতে ঘুমোতে পারছি এটাও অনেকে মানতে রাজি নই। কিন্তু আমাদের এসব মানতে হবেই। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষক এটা সকলের বিশ্বাস করতে হবে এবং মানতে হবে। এটা নিয়ে বির্তক যেমন হয় না, ঠিক তেমনি বাংলাদেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে এটা নিয়ে বির্তক করা যায় না।
আমরা যদি চিরন্তন সত্যের মতো মানি বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা এবং স্বাধিনতার ঘোষক তাহলে শেখ হাসিনা মানবতার ফেরিওয়ালা এটাও মানতে হবে। আমরা যদি বিশ্বাস করি জাহানারা ইমাম একজন আদর্শ মা তাহলে শেখ হাসিনা একজন মমতাময়ী মা এটা বিশ্বাস করতে হবে। আমরা যদি অকপটে স্বীকার করি মাশরাফী বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক তাহলে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা প্রধানমন্ত্রী এটাও স্বীকার করতে হবে। আমরা যদি জিয়াউর রহমানকে একজন বীর উত্তম ও দেশপ্রেমিক হিসেবে বিশ্বাস করে থাকি তাহলে শেখ হাসিনা একজন সাহসি নেত্রী এটাও আমাদের বিশ্বাস করতে হবে। আমরা যদি এসব বিশ্বাস করতে পারি তাহলে আমাদের এটাও মানতে হবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রতœ। হ্যাঁ এখানে কোনো বির্তক হবে না। কারণ চিরন্তন সত্য নিয়ে কোনো বির্তক করা যায় না। বাংলাদেশের আমলে এ পর্যন্ত যারাই ছিলো ক্ষমতায় কেউই এমন উন্নয়ন এবং আধুনিক দেশ হিসেবে রুপান্তর করতে পারেনি। আপনি বলতে পারেন টানা এতো সময় কেউতো সরকার ছিলো না। টানা এতো সময় না থাকলেও এর কম সময়ে কোনো সরকার বাংলাদেশের উন্নয়নের কোনো নকশাও করে গেছে বলে আমার মনে পড়ে না। আজ বাংলার মানুষ নিরাপদে দু’বেলা যদি ভাত খেতে পারছে। শান্তিতে ঘুমোতে পারছে। এসব যদি বিশ্বাস করে থাকেন তাহলে শেখ হাসিনা দেশরতœ এটা আপনার বিশ্বাস করতে হবে। একজন বঙ্গবন্ধু যা করতে চেয়েছিলো তার সবকিছুই যেন তাঁর হাতে বাস্তবায়ন হচ্ছে। জিয়াউর রহমানও চেয়েছিলো বাংলার মানুষ দু’বেলা পেট ভরে ভাত খেয়ে শান্তিতে বেঁচে থাকুক। সেটা তার দল কিংবা তার স্ত্রী বাস্তবে রূপ দিতে না পারলেও দেশরতœ শেখ হাসিনা পেরেছে। তিনি দেশরতœ বলেই পদ্মাসেতুর মতো কাজ নিজেস্ব অর্থায়নে করতে পারছে বাংলাদেশ। এটা স্বপ্নের মতো বিষয়।
আসলে আমরা বাংলাদেশের মানুষ বড় অকৃতজ্ঞ। তা নাহলে নিজের দেশে বঙ্গবন্ধু, জিয়ার মতো মানুষদের খুন করতে পারতো না। দেশের মাটিতে জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা! এরচাইতে নিষ্ঠুরতা আর কি আছে? হ্যাঁ আমরা সে দেশের মানুষ। আমরা কীভাবে কৃতজ্ঞতা জানাবো। কিন্তু কৃতজ্ঞতা আর সম্মান সারা পৃথিবী জানাচ্ছে।
এই যেমন, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির ব্যাপক সফলতা, বিশেষ করে পোলিও নির্মূল এবং ডিপথেরিয়া, হেপাটাইসিস বি ও রুবেলার মত মরণব্যাধি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখায় শেখ হাসিনার প্রশংসা করে এ পুরস্কার তার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর অল্পকিছুদিন আগে অর্থাৎ গত ১৬ সেপ্টেম্বর ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স এ্যাওয়ার্ড-২০১৯ অর্জন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এডভাইজরি কাউন্সিলের প্রধান উপদেষ্টা এম্বাসেডর টি পি শ্রীনিবাসন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ পদক হস্তান্তর করেন।
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিক সন্তোষজনক সম্পর্ক, নিজ দেশের জনগণের কল্যাণ, বিশেষ করে নারী ও শিশু এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতায় তাঁর অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আবদুল কালামের নামাঙ্কিত এ পদক দেওয়া হয়।
এছাড়া চলতি বছরের মার্চে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ‘লাইফটাইম কন্ট্রিবিউশন ফর উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট এ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত করে ইনস্টিটিউট অব সাউফ এশিয়ান উইমেন। বার্লিনে ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এ পদক গ্রহণ করেন সেখানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ।
চলতি বছরের মার্চ মাসে দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাসে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য উইমেন ইন পার্লামেন্ট (ডব্লিউআইপি) ও ইউনেস্কো বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীকে ‘ডব্লিউআইপি গেøাবাল ফোরাম অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে দায়িত্বশীল নীতি ও তার মানবিকতার জন্য প্রধানমন্ত্রী আইপিএস ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট এওয়ার্ড এবং ২০১৮ স্পেশাল ডিসটিংশন এওয়ার্ড ফর লিডারশিপ গ্রহণ করেন।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নিউজ এজেন্সি ‘দি ইন্টার প্রেস সার্ভিস (আইপিএস) এবং নিউইয়র্ক, জুরিখ ও হংকং ভিত্তিক তিনটি অলাভজনক ফাউন্ডেশনের নেটওয়ার্ক গেøাবাল হোপ কোয়ালিশন গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে দুটি এওয়ার্ডে ভূষিত করে। বাংলাদেশে নারী শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরিতে অসামান্য নেতৃত্বদানের জন্য গত বছরের ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী গেøাবাল উইমেনস লিডারশিপ এওয়ার্ড লাভ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গেøাবাল সামিট অব ওমেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এক ভোজ সভায় মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা জানায়। সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বের প্রায় ১৫০০ নারী নেতৃত্বের উপস্থিতিতে গেøাবাল সামিটের প্রেসিডেন্ট আইরিন নাতিভিদাদের কাছ থেকে তিনি গেøাবাল উইমেনস লিডারশিপ এওয়ার্ড গ্রহণ করেন।
চতুর্থবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম আন্তর্জাতিক মহলের বাড়তি মনোযোগে আসেন ১৯৯৮ সালে। সে বছর দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘ দুই দশকের অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য ইউনেস্কো প্রধানমন্ত্রীকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে। ১৯৯৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এওয়ার্ড হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ফেদেরিকো মেয়র বলেছিলেন, "জাতি গঠনে আপনার পিতার অনুসৃত পথ অবলম্বন করে আপনি দেশকে শান্তি ও পুনর্মিলনের পথে নিয়ে গেছেন। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনার উদ্যোগ ও নিষ্ঠা বিশ্বে শান্তির সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।"
আন্তর্জাতিক একাডেমিক কমিউনিটি শেখ হাসিনার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম এবং ভারতের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন, সাহিত্য, লিবারেল আর্টস এবং মানবিক বিষয়ে ৯টি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে।
২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী সহগ্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এমডিজি) অর্জনে বিশেষ করে শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসে অবদানের জন্য জাতিসংঘের এওয়ার্ড লাভ করেন। ২০১৫ সালে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আইসিটি’র ব্যবহারে প্রচারণার জন্য শেখ হাসিনাকে ‘আইসিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। দেশের উন্নয়নে তার অব্যাহত অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে এ পদক প্রদান করা হয়। এছাড়াও নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শেখ হাসিনাকে ‘ট্রি অব পিস’ পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ ও ২০১৩ সালে দু’বার সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। স্বাস্থ্য খাতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার হ্রাস এবং ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তাকে ওই সম্মাননা দেওয়া হয়।
এছাড়াও পার্ল এস বাক এওয়ার্ড (১৯৯৯) সিইআরইএস পদক, মাদার তেরেসা পদক, এমকে গান্ধী পদক, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার (২০০৯), ইন্দিরা গান্ধী স্বর্ণ পদক, হেড অব স্টেট পদক, গেøাবাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড (২০১১, ২০১২) ও নেতাজী স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯৭) পেয়েছেন শেখ হাসিনা। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটি ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শেখ হাসিনাকে একটি সনদ প্রদান করে। খাদ্য উৎপাদনের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও আইসিটি উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য তাকে ওই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের অ্যালবার্টা ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিবারেল আর্টস এ ভূষিত করে।
এছাড়াও তাকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় ও জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’ প্রদান করে।
১৯৯৯ সালে ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে দেসিকোত্তামা ডিগ্রি এবং অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’ ডিগ্রি প্রদান করে।
২০০৫ সালে রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ বিশ্ববিদ্যালয়ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। শান্তি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের জন্য তাকে ওই সম্মাননা দেওয়া হয়।
দেশে ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’ ডিগ্রি প্রদান করে। ২০০০ সালে ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলস তাকে অনন্য সম্মাননা প্রদান করে।
২০১৫ সালে শেখ হাসিনা পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ বৈশ্বিক পুরস্কার চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় দূরদর্শী পদক্ষেপে নেয়ায় তাকে সেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
২০১৬ সালে শেখ হাসিনাকে ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ’ পুরস্কার ও ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ প্রদান করা হয়। নারী ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
দেশের বাইরে আর্ন্তজাতিক এসকল সম্মাননা ছাড়াও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনেক পুরস্কার রয়েছে। আর এসব পুরস্কার শেখ হাসিনাকে দেওয়া হয়েছে তাঁর যোগ্যতায়। সর্বমোট ৩৮ টি আর্ন্তজাতিক পদক পেয়েছেন এ দেশরতœ। অদূও ভবিষ্যতে তিনি আরও অনেক পুরস্কারে ভ‚ষিত হবেন এটা আমার বিশ্বাস। বিশ্বাস করার কারণও আছে প্রচুর। যিনি সৎ এবং স্বচ্ছ তিনি এমন হাজার হাজার পুরস্কার পেতেই পারেন। কারণ তাঁর কাজ থাকে তুলে ধরছে দেশের মানুষের কাছে, বিশ্বের কাছে। আজ গোটা দুনিয়ার কাছে তিনি একজন অনন্য উদাহারণ। কিন্তু আজ আমরা নোংরা রাজনীতিতে মিশে গিয়ে এসব বলতেও পারিনা। যদি বলেন তাহলে সুশীল সমাজ বলে উঠবে সে অমুক লীগ করে, অমুক দলের লোক। আর তাই আমাদের সমাজে সকলে কোনো খারাপ সংবাদ শুনলে সেটা নিয়ে উঠে পড়ে লাগবে। সেটা নিয়ে নানান লেখালেখি হবে। এই যেমন বাংলাদেশ ক্রিকেটে হারলে যতজন পোস্ট দিয়ে খেলোয়াড়দের গালি দেয় ততজন কখনও বাংলাদেশ জিতলে পোস্টও দেয় না। এটাই আমাদের বর্তমান আচরণের প্রতিচ্ছবি এখন। আমরা এখন দোষ খুঁেজ বেড়ায় প্রতিনিয়ত। কিন্তু ভুল করেও গুণ গাই না।
আমরা গুণ গাই। তবে সেটা স্বজন কিংবা দলের। তাছাড়া গাওয়া যাবে না। যদি যেতো, তাহলে পুরো বাংলাদেশের মানুষের একসুরে শেখ হাসিনাকে নিয়ে জয়ধ্বনি দিতে হবে। জিম্বাবুয়ের সাথে এক ম্যাচ জিতিয়ে যদি তাকে সকলে অভিবাদন দিতে পারে, স¦য়ং প্রধানমন্ত্রী যদি ফোন দিয়ে ভালোবাসা দেয়, রোমান সানাকে যদি প্রধানমন্ত্রী ঢেকে নিয়ে গিয়ে আদর আপ্যায়ন করতে পারে তাহলে সেই প্রধানমন্ত্রী কি একটু ভালোবাসা আর অভিবাদন পেতে পারে না?
আমি জানিনা আমি ঠিক বলছি না ভুল বলছি, তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর কন্য শেখ হাসিনাকে আমরা যতাযতভাবে সেই সম্মান আর ভালোবাসা দিতে পারছি না। কিন্তু আপনি শেখ হাসিনাকে ভালোবাসুন আর নাই বাসুন সে বাংলাদেশের রতœ এটা আপনার বিশ্বাস করতে হবে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এই দেশরতেœর জন্মদিন ছিলো। জন্মদিনের শুভেচ্ছা এবং তার র্দীঘায়ু কামনা করছি। কারণ আমাদের মনে রাখতে হবে শেখ হাসিনা ভালো থাকলে ভালো থাকবে বাংলাদেশ।

লেখক : প্রাবন্ধিক, কলাম লেখক

 

Ads