জামিন পেলেন ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:০৩ পিএম


জামিন পেলেন ড. ইউনূস

ছবি- সংগৃহীত।

 

শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আজ রবিবার আপিল করেন গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজন। আদালত শুনানির জন্য আপিল গ্রহণ করলে আসামিদের জামিন আবেদন করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন। শুনানির পর আদালত আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।

 

এর আগে রবিবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর কাকরাইলস্থ শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর তিনি আপিল দায়ের করেন।

 

তার আগে গত ১ জানুয়ারি শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের ছয় মাস করে কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানা। কারাদণ্ডের সঙ্গে আসামিদের ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও করেন আদালত। যা অনাদায়ে আদালত আসামিদের আরও ১০ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

 

রায়ে শ্রম আইনের ৩০৩ এর ৩ ধারায় প্রত্যেক আসামির ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করেন এবং এ অর্থদণ্ড না দিলে আসামিদের আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া রায়ে অপর ধারায় শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ ও ৩০ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন আদালত।

 

এদিকে আদালত কারাদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চার আসামির আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় ১ মাসের জামিন মঞ্জুর করেন।

 

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, ‘আসামিপক্ষ এক নম্বর আসামি (ড.ইউনূস) এর বিষয়ে প্রশংসাসূচক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। যেখানে তাকে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা নোবেলজয়ী আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব বলেছেন। কিন্তু এ আদালত নোবেলজয়ী ইউনূসের বিচার করেনি, বিচার করেছেন গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যানের। যিনি শ্রমিকদের ঠকিয়েছেন। এই আদালত সাক্ষ্য প্রমানে ড. ইউনূসহ চার আসামির বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের ৪,৭ ও ৮ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণ পেয়েছেন। এরপর আদালত দণ্ড ঘোষণা করেন।’

 

রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেছিলেন, ‘যে দোষ করিনি, সেই দোষের শাস্তি পেলাম। এটাকে ন্যায়বিচার যদি বলতে চান, তাহলে বলতে পারেন।’ ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন।

 

মামলায় অভিযোগে বলা হয়, শ্রম আইন, ২০০৬ এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ অনুযায়ী, গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক বা কর্মচারীদের শিক্ষানবিশকাল পার হলেও তাদের নিয়োগ স্থায়ী করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক বা কর্মচারীদের মজুরিসহ বাৎসরিক ছুটি দেওয়া, ছুটি নগদায়ন ও ছুটির বিপরীতে নগদ অর্থ দেওয়া হয় না।

 

অভিযোগের জবাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ৯ নভেম্বর ড. ইউনূসসহ চারজন বিবাদী লিখিতভাবে আদালতকে বলেছেন, গ্রামীণ টেলিকমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয় নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী। কারণ, গ্রামীণ টেলিকম যেসব ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে, সেগুলো চুক্তিভিত্তিক। তবে গ্রামীণ টেলিকমের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ী কর্মীর মতো ভবিষ্য তহবিল (প্রভিডেন্ট ফান্ড), আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি), অর্জিত ছুটি ও অবসরকালীন ছুটি দেওয়া হয়ে থাকে। মামলায় নিয়োগ স্থায়ী না করার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা প্রশাসনিক ও দেওয়ানি মামলার বিষয়।

 

আদালতে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানি আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। এর লভ্যাংশ বিতরণযোগ্য নয়, সামাজিক উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।

 

 

Ads