আজ থেকে শুরু হচ্ছে সালাহউদ্দিন লাভলু ধারাবাহিক ‘আপন মানুষ’
২৭ জানুয়ারি ২০২৫, ১১:১১ এএম
গুণী অভিনেতা, নির্মাতা ও নাট্যকার সালাহউদ্দিন লাভলু। ক্যামেরার কবি হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয় তাঁকে। অভিনয়ের বাইরে প্রায় ২৭ বছর ধরে নাটক পরিচালনা করছেন। চ্যানেল আইয়ে আজ থেকে শুরু হচ্ছে নতুন ধারাবাহিক ‘আপন মানুষ’।
ধারাবাহিকটি নির্মাণ করেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা ও অভিনেতা সালাহউদ্দিন লাভলু। মোট ৮৩ পর্বের ধারাবাহিকটি প্রচারিত হবে সপ্তাহে পাঁচ দিন। প্রতি শনিবার থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন কামরুল ইসলাম।
‘আপন মানুষ’-এ কী ধরনের গল্প তুলে ধরেছেন?
গ্রামীণ জীবন আমি যেভাবে দেখি, আমার অন্যান্য নাটকেও যেমন পটভূমি থাকে, এখানেও তেমনই। গ্রামের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে গল্প। তাদের প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ, পাওয়া না-পাওয়ার বিষয়গুলো দেখা যাবে।
এ ধারাবাহিকের প্রায় সবাই নবীন শিল্পী।
দর্শকপ্রিয় শিল্পীদের এড়িয়ে তাঁদের নিয়ে কাজ করার কারণ?
শুরু থেকেই আমি নতুনদের নিয়ে কাজ করে আসছি। এখন তাঁদের অনেকে তারকা হয়েছেন। আমার ‘সোনার পাখি রুপার পাখি’ অসম্ভব দর্শকপ্রিয় একটি ধারাবাহিক, সেখানেও প্রায় সবাই নবীন শিল্পী। অনেকেরই অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন থাকে, নিজের প্রতিভা মেলে ধরার জন্য স্ট্রাগল করে; কিন্তু সেভাবে সুযোগ পায় না। আমি তাঁদের নিয়ে কাজ করি, এর মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিতেও একটা অবদান রাখা হয়।
তা ছাড়া নতুনদের ক্ষেত্রে শিডিউল জটিলতা থাকে না। তারকাদের শিডিউল পাওয়া মুশকিল। আরেকটা বিষয়, অভিনয়শিল্পী নতুন হলে চরিত্রগুলো দর্শকের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে। দর্শক মনে করে, এটা সত্যিই তো আমার পাশের বাড়ির মানুষটা!
এবারের নতুনদের কেমন দেখলেন?
বরাবরই নতুনরা অনেক মনোযোগী। তাদের শেখার আগ্রহ প্রবল। যদিও তাদের নির্দেশনা দিয়ে মূল জিনিসটা বুঝিয়ে, কাঙ্ক্ষিত দৃশ্যটা ধারণ করতে একটু বেশি সময় লাগে। দুই-চার দিন বেশি শুটিং করতে হয়, কিছু দৃশ্য পুনরায় শুট করতে হয়। তবে একবার তারা বুঝে গেলে দারুণ কাজ করে।
কত দিন পর নতুন ধারাবাহিক বানালেন?
একটা সিরিয়ালের পর ছয় মাসের মতো বিরতি রাখি। এর আগে চ্যানেল আইয়ে ‘ষণ্ডাপাণ্ডা’ গিয়েছিল। প্রচারের পর চ্যানেলের নির্ধারিত চাঙ্ক ফাঁকা হতে যত দিন লাগে, তার পরই নতুন ধারাবাহিক শুরু করি।
‘সাকিন সারিসুরি’, ‘হাড় কিপ্টে’ কিংবা ‘রঙের মানুষ’— আপনার এ ধারাবাহিকগুলো এ প্রজন্মের দর্শকও বেশ পছন্দ করে। অন্তর্জালে এসব ধারাবাহিক নিয়ে চর্চা হয় বেশ। দেখে কেমন লাগে?
এটা খুবই ভালো লাগার বিষয়। আমি বিশ্বাস করি, সত্যিকার অর্থে ভালো শিল্প তৈরি করতে পারলে দুই-চার যুগ পরের মানুষও সেটা পছন্দ করে; যদি বাস্তব জীবনের গল্পে খাঁটি শিল্পটা তৈরি করা যায়। ওই যে বলা হয়, শিল্প শাশ্বত। ভালো জিনিস সব যুগেই ভালো।
‘মোল্লা বাড়ীর বউ’ (২০০৫)-এর মতো ব্যবসাসফল ছবি বানিয়েছেন। এরপর আর সিনেমামুখী হলেন না কেন?
বানাতে চেয়েছিলাম, নানা জটিলতায় পারিনি। প্রধান সমস্যা ছিল বাজেট। বাজেটে ছাড় দিলে হতো। কিন্তু আমি আপস করে কিছু বানাই না—না নাটক না সিনেমা। এখন তো চলচ্চিত্রের ট্রেন্ডই বদলে গেছে। আমি বাণিজ্যিক ছবি বানাতে চাই। কিন্তু একটা ছবি প্রপারলি বানানোর পর প্রদর্শনের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা কমে গেছে, ৪০-৫০টা হল থেকে লগ্নি তুলে আনা তো সম্ভব না। এসব চিন্তা করে বানাই না। কম বাজেটে, আর্ট ফিল্ম বানাতে পারব না। আমি মনে করি, সিনেমা হলো সব ধরনের দর্শকের জন্য।
সিনেমা বানানোর সম্ভাবনা কি একেবারেই নেই?
ঠিক বলতে পারছি না। স্বপ্ন তো থাকে। ছবি বানানোর ইচ্ছা এখনো আছে। দেখা যাক, কী হয়।
ওটিটির জন্য কিছু বানাবেন?
হ্যাঁ, একটা সিরিজের চিত্রনাট্য প্রস্তুত। এটাও একদম গ্রামীণ জীবনের গল্প। প্ল্যাটফরম রাজি হলে, পর্যাপ্ত বাজেট দিলেই শুরু করব। আমি রেডি।
‘তুফান’-এ একটা মাত্র দৃশ্যেই বাজিমাত। অভিনয়ে নতুন কিছু করছেন?
রায়হান রাফীর ওয়েব ছবি ‘ব্ল্যাক মানি’ ও কাজী আসাদের ‘আধুনিক বাংলা হোটেল’-এ অভিনয় করলাম সর্বশেষ। সামনে এ রকম ভালো প্রজেক্ট পেলে অবশ্যই করব। আপাতত অভিনয়ের নতুন খবর নেই।























