তানোরে ৪৫ ফিট গভীর থেকে শিশু সাজিদের মৃতদেহ উদ্ধার, দাফন সম্পন্ন
১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৩৮ পিএম
জানাজার মাঠে সকালেই মানুষের ঢল নামে। গ্রামের বৃদ্ধ, কৃষক, স্কুলপড়ুয়া শিশু- সবার চোখে পানি। সাদা কাপড়ে মোড়ানো ছোট্ট দেহটি যখন মাঠে আনা হয়, চারপাশে কান্নার রোল পড়ে যায়। সাজিদের মা বারবার ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন সন্তানের কাছে, স্বজনেরা ধরে রাখলেও চোখের পানি থামাতে পারেনি কেউ।
সকাল সাড়ে ১০টায় নেককিড়ি কবরস্থান-সংলগ্ন মাঠে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয় সাজিদের।
রাজশাহীর তানোরে নলকূপের পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে যাওয়া নিখোঁজ হওয়ার ৩২ ঘন্টা পরে প্রায় ৪৫ ফিট গভীর থেকে শিশু সাজিদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খোঁড়া গর্ত থেকে রাত ৯টার দিকে শিশুটিকে বের করে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এরপর তাকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের সদর স্টেশন কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম।
জানাজার মাঠে সকালেই মানুষের ঢল নামে। গ্রামের বৃদ্ধ, কৃষক, স্কুলপড়ুয়া শিশু—সবার চোখে পানি। সাদা কাপড়ে মোড়ানো ছোট্ট দেহটি যখন মাঠে আনা হয়, চারপাশে কান্নার রোল পড়ে যায়। সাজিদের মা বারবার ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন সন্তানের কাছে, স্বজনেরা ধরে রাখলেও চোখের পানি থামাতে পারেনি কেউ।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৭ মিনিটে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি জানান, শিশুটিকে ৬০ ফুট নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত ঘোষণা শেষে রাত পৌনে ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স করে মৃত সাজিদের বাড়িতে মরদেহ নিয়ে যায় ফায়ার সার্ভিসসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এদিকে, শিশু সাজিদের দাফন গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টার সময় তানোর উপজেলার কোয়লহাট গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এসময় শিশু সাজিদের জানাজায় মানুষের ঢল নামে। উল্লেখ্য,বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে মায়ের পিছু পিছু হাঁটার সময় ধানের খড়ের নিচে ঢাকা গভীর গর্তে পড়ে যায় শিশু সাজিদ। গর্তটি গত বছর স্থানীয় প্রভাবশালী ওছির আলী ব্যক্তিগতভাবে গভীর নলকূপ বসানোর চেষ্টা করলে এই গর্ত তৈরি হয়। প্রায় ১২০ ফুট খননের পর পাথরে বাধা পেয়ে পানি না ওঠায় নলক‚পটি পরিত্যক্ত হয়। পরে পাইপ তুলে নেওয়ায় তৈরি হওয়া সরু গর্তটি কখনো সঠিকভাবে ভরাট না হওয়ায় এবং সাম্প্রতিক বন্যায় মাটি ধসে আরও গভীর হওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

















