আক্কেলপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও শঙ্কায় কৃষক

চৈতন্য চ্যাটার্জী

২১ মে ২০২৫, ০৯:৪২ পিএম


আক্কেলপুরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও শঙ্কায় কৃষক

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে রোয়ার মাঠ থেকে ধান কর্তন করে রাস্তায় তুলে দিচ্ছেন পঞ্চগড় থাকা আসা এক দিনমজুর। ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি

য়পুরহাটরের আক্কেলপুরে শুরু হয়েছে ইরি বোরো ধান পুরোদমে কাটা-মাড়াই। ধান কাটা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষক ও দিনমজুরদেরও। কৃষকের ঘরে গোলা ভরতে শুরু করেছে ধানে। পৌরসভা সহ উপজেলার রুকিন্দীপুর, গোপীনাথপুর, সোনামুখী, তিলকপুর, রায়কালী ৫টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে এ বছর তেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ঝড় ও শিলাবৃষ্টির মাস হওয়াই কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছে ধান কর্তন করে ঘরে তোলা নিয়ে। কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর ৮০ভাগ পেঁকে গেলে ধান কর্তনের পরামর্শ্বও দিচ্ছে।

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ৪শ ৪০হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ১০হাজার ৩শ ৪৫হেক্টর। ইতি মধ্যে ২হাজার ১শ হেক্টর জমির ধান কর্তন করা হয়েছে। প্রকারভেদে প্রতি মণ ধান বিক্রি হয়েছে সাড়ে ১১শ থেকে ১৩শ ৩০ টাকা পর্যন্ত।

পৌর সভার ঠেংগাপুর গ্রামের কৃষক মো. জাহিদুল ইসলাম  বলেন, এবার আমন মৌসুমে বিভিন্ন জাতের আগাম ধান ৫বিঘা জমিতে আবাদ করে বেশ লাভবান হয়েছি। বিঘা প্রতি দিনমজুরদের ধান কাটতে দিতে হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা, পানি সেচ ১হাজার টাকা দিতে হয়েছে সার, বীজসহ প্রায় এক বিঘা জমিতে খরচ হচ্ছে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতি বিঘায় ধান হচ্ছে ১৮ থেকে ২০মন তা বাজারে সাড়ে ১১শ থেকে ১৩শ ৩০টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

আক্কেরপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের কৃষক বাবলু জানান, তিনি এবার বোরো মৌসুমে জিরাশাইল জাতের আগাম ধান সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে আবাদ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। প্রতি মন ধান সর্বোচ্চ ১২শ ৫০টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন আমি আরো ১ বিঘা জমি খায়খালাসি (পত্তনি) নিয়েছি যার বিঘা প্রতি ২২বাজার টাকা করে বছরে দিতে হয়।

পঞ্চগড় থেকে ধান কাটতে আসা দিনমজুর মোহবুল (ভাই) বলেন, আমরা ৬জন ট্রেন যোগে এসেছি। আক্কেলপুর রেল স্টেশনে আসলে জমির মালিকেরা গিয়ে আমাদের নিয়ে আসে। আমরা প্রতি বিঘা ৫হাজার টাকা করে নেই। আজকে সাড়া দিনে সাড়ে ৩বিঘা জমির ধান কর্তন করেছি।

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসেন জানান, উপজেলায় জিরাশাইল, কাটারী, ব্রি ধান- ৮৮, ৮৯, ৯২, বিনা ধান-২৫ সহ বিভিন্ন জাতের কিছু ধান ইতোমধ্যে কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। কৃষকদের চাহিদা মতো সার সরবরাহ পাওয়ায় ধানে রোগ বালাই কম হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় প্রতি হেক্টর জমিতে ৬ থেকে ৭টন করে ধান কৃষকদের ঘরে উঠেছে। ঝড় ও শিলাবৃষ্টির মাস হওয়াই কৃষকদের আমরা পরামর্শ্ব দিচ্ছি ৮০ ভাগ পেঁকে গেলে ধান কর্তন করার।

Ads