হু হু করে বাড়ছে তিস্তার পানি, ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা

মোসলেম উদ্দিন রনি

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:৩০ এএম


হু হু করে বাড়ছে তিস্তার পানি, ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা

 

জানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তার পানি হু হু করে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে নদী তীর এলাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাট হুমকির মুখে পড়েছে। ধ্বস দেখা দিয়েছে বিভিন্ন সড়কে। প্লাবিত হয়েছে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ।

রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর  ডালিয়া পয়েন্টে পানির সমতল ৫২.১৭ মিটার (বিপদসীমা ৫২.১৫ মিটার) যা বিপদসীমার ০২ সে.মি ওপরে প্রবাহ রেকর্ড করা হয়।

কাউনিয়া পয়েন্টে পানির সমতল ২৯.৬০ মিটার (বিপদসীমা ২৯.৩১ মিটার) যা বিপদসীমার ২৯ সে.মি ওপরে প্রবাহ রেকর্ড করা হয়। 
এছাড়াও ধরলা নদীর  শিমুলবাড়ি পয়েন্টে পানি সমতল ৩০.২০ মিটার, (বিপদসীমা ৩০.৮৭ মিটার)  যা বিপদসীমার ৬৭ সে.মি নিচে প্রবাহ রেকর্ড করা হয়।

পরে সকাল নয়টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সে মি নিচে ও কাউনিয়া পয়েন্টে ৩১ সে. মি ওপরে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়।

এর ফলে জেলার পাটগ্রাম, হাতিবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। নিম্নাঞ্চলে ইতিমধ্যে পানি ঢুকে গেছে। চরাঞ্চলেও পানিতে ডুবেছে বাড়িঘর ও রাস্তা ঘাট।

তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধিতে  জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী,দোয়ানী,ছয়আনী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, ফকিরপাড়া ইউপির রমনীগঞ্জ, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না ইউপির পাটিকাপাড়া,হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা,গোবর্ধন, বাহাদুরপাড়া, কালমাটি,পলাশী ও সদর উপজেলার ফলিমারীর চর, খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, বড়বাড়ি,রাজপুর,গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

এতে কয়েক হাজার মানুষ ইতিমধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ডুবে যাচ্ছে চলাচলের রাস্তা।

গবাদি পশুপাখি নিয়ে বন্যার্তরা উচু স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। অনেকেই উচু স্থানে চুলা জ্বালিয়ে রান্নার কাজ সাড়ছেন। গতকাল থেকে পানি তোড় আসায় নতুন নতুন এলাকায় এখনো পানি প্রবেশ করছে। নলকুপ, টয়লেটে পানি উঠায় বিশুদ্ধ পানি সংকট ও স্যানিটেশন সমস্যায় পড়ছেন তারা।

তিস্তাপাড়ের বাসিন্দা মিলন মিয়া প্রতিদিনের চিত্র কে বলেন, দুইদিন থেকে পানি বাড়ছিল। গতকাল রাতে পানি আরও বেড়েছে। কিছু এলাকায় রাস্তার ওপর দিয়ে পানি যাচ্ছে। এতে যেকোন সময় রাস্তা ভেঙে যেতে পারে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শুনিল কুমার রায় প্রতিদিনের চিত্রকে বলেন, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি সমতল বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে রংপুর বিভাগের তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি গত দুইদিনে সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বিপৎসীমার ওপরে বইছে। আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রকিব হায়দার বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আমরা চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে প্লাবিত লোকজনের তালিকা চেয়েছি। সংশ্লিষ্ট ইউএনও তালিকা করছেন। তালিকা যাচাই বাচাই শেষে বন্যার্তদের সহায়তা করা হবে।

 

Ads