লালপুরে এএসআই ইউসুফের হুমকি ও হয়রানির প্রতিবাদে আইজিপির কাছে অভিযোগ
১২ জুন ২০২৪, ০২:৩৫ পিএম
এএসআই ইউসুফ আলী, লালপুর থানা, নাটোর।
নাটোরের লালপুর থানার এএসআই ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে হয়রানি ও ভয় দেখিয়ে ২০,০০০ টাকা আদায় নিয়ে আইজিপির কাছে অভিযোগ পাঠিয়েছেন ভুক্তভোগী বকুল হোসেন।
গত মঙ্গলবার(১১ই জুন -২০২৪)অনলাইন ই-মেইলের মাধ্যমে আইজিপি অফিসে এই অভিযোগের অনুলিপি পেরণ করেছেন বলে জানা গেছে, এবং সদয় অবগতির জন্য অভিযোগের অনুলিপি মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,মাননীয় ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ, মাননীয় পুলিশ সুপার নাটোর বরাবর একই মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী বকুল হোসেন প্রতিদিনের চিত্র বিডি ডট কম এর প্রতিনিধিকে জানান, আমি পেশায় একজন কৃষক। আমি বসন্ত বিলে রাতে পুকুরের মাছ পাহারা দিই। ঘটনার দিন ১০ জুন সোমবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে একই এলাকার বসন্তপুর বিলের পাড়ে অবস্থানরত আমার ফুফু মাজেদা (মাজে ফকির) এর বাড়িতে লালপুর থানায় কর্মরত এএসআই ইউসুফ আলীসহ তার সঙ্গীয় ফোর্স ঢুকে পড়ে এবং প্রতিটি ঘর তল্লাশি চালায়, এসময় আমার ফুফু মাজেদা পুলিশের কাছে এর কারন জানতে চাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং এই বাড়িতে দেহ ব্যাবসা চলে বলে উল্লেখ করেন। এ সময় তাদের চেচামেচি শুনে আমি আমার পাহারারত পুকুরপাড় থেকে ফুফুর বাড়ির সামনে পৌঁছালে আমাকেও প্রাথমিক পর্যায়ে আটক করে স্থানীয় বাসিন্দা কেয়ামত আলীর বাড়ির অনেকদূর এগিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে বলে ২০ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দিব না হলে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠিয়ে দিব। আমি গরীব মানুষ এত টাকা কোথায় পাব? তাই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাথে সাথে আমাকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারে। পরে নিরুপায় হয়ে প্রাণভয়ে বিষয়টি স্থানীয় মেম্বারকে জানায় এবং টাকা দিতে স্বীকার করি। পরে আমার আত্নীয় ও উপস্থিত স্বাক্ষী ১) নাজমুল (৫৫), পিতা- মৃত ছুবান আলী; ২) ভূগোল (৩৫), পিতা- মাজদার এবং ৩) রতন (৩২), পিতা- আরমান এর মাধ্যমে এএসআই ইউসুফ আলীকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করি। টাকা পাওয়ার পরে এএসআই ইউসুফ আলী আমাকে বলে এ বিষয় নিয়ে যদি থানায় বা অন্য কাউকে বলিস তো আমার হাত থেকে কিন্তু বাঁচতে পারবি না বলে দিলাম। আমি গরীব মানুষ, ২০ হাজার টাকা ঋণ করে সংগ্রহ করে দিয়েছি, বর্তমানে আমি হতাশ হয়ে পড়েছি। এমতাবস্থায় থানার ওসিকে জানালে এএসআই ইউসুফ গুলি করে মেরে ফেলার ভয়ে বাধ্য হয়ে সুষ্ঠ বিচার পাওয়ার জন্য আইজিপি মহোদয় স্যারের অফিসে ইমেল যোগে অভিযোগ করেছি।
এ বিষয়ে আমাদের প্রতিনিধি এএস আই ইউসুফ আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
এ বিষয়ে নাটোর জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম অভিযোগের অনুলিপি পাওয়ার পরে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন।


















