সড়ক দুর্ঘটনায় বিরামপুরে ৪ মাসে ১০জন নিহত
৩১ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:০২ এএম
ছবি- সংগৃহীত।
দিনাজপুর জেলার বিরামপুরে সড়ক-মহাসড়ক যেন এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত চার মাসে বিরামপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০জন। এ সময় আহত হন শতাধিক মানুষ। রাস্তায় এই মৃত্যুর মিছিল কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। বরং দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে যাচ্ছে যেন রাস্তায় চলাচল মানেই এখন অনিশ্চিত যাত্রা। রাস্তাঘাটে বৈধ-অবৈধ যানবাহনের আধিক্যে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ওভারটেকিং ও ইজিবাইক ঘুরানোর ফলে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা লেগেই আছে। বিশেষ করে মহাসড়কে অবৈধ ভটভটি, মাটি টানা ট্রাক্টর ও ইজিবাইকের দাপটে বাস, ট্রাক, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচল খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
এমনও নজীর রয়েছে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকাও এখন অনিরাপদ। যদিও অসতর্কতার পাশাপাশি সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, অদক্ষতা সর্বপরি বেপরোয়া গতির কারণে সড়কে অহরহ দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ এর জানুয়ারি মাস পর্যন্ত উপজেলায় মারা গেছেন ১১ জন।
বিরামপুর পৌরশহরের ঢাকামোড় একজন, বেলডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস মোড়ে একজন, মির্জাপুর পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সামনে একজন,শিমুলতলী কলেজ বাজার পাম্পের সামনে পুলিশ সদস্যসহ দু'জন, চাঁদপুর পেট্রোল পাম্পের দক্ষিণে একজনসহ উপজেলার দিওড় বটতলায় একজন, র্দূগাপুর মোড়ে একজন, চন্ডিপুর মোড়ে একজন, পাঠনচড়া এলাকায় একজন নিহত হয়েছেন।
এরমধ্যে গত ৩ অক্টোবর/২৩ইং রাত সাড়ে ৮টার দিকে বরযাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে জহুরুল ইসলাম নামের এক পুলিশ সদস্যসহ দু'জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য জহুরুল ইসলাম নীলফামারী জেলায় পুলিশের (ডিএসবি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পৌর শহরের বিরামপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের কলেজ বাজার পেট্রল পাম্পে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
তথ্য নিয়ে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর পুলিশ সদস্যসহ দু'জন নিহত। একই মাসে ১৫ অক্টোবরে বিরামপুর পৌরশহরের মির্জাপুর পল্লীবিদ্যুৎ অফিসরে সামনে মাইক্রোবাস ইজিবাইকে ধাক্কা দিলে গ্যাব্রিয়েল মুরমু নামে একজন নিহত হন। ১৬ অক্টোবর দিওড় বটতলী মমতাজ ফিলি স্টেশনের সামনে কার্ভাড ভ্যানের ধাক্কায় মটর সাইকেল আরোহী শাফিন (১৮) নামে একস্কুলছাত্র নিহত হন। ২ নভেম্বর র্দূগাপুর গ্রামের বটতলায় দিনাজপুর টু গোবিন্দঞ্জগামী মহাসড়কের উপর অজ্ঞাত নামা মাইক্রোবাসের ধাক্কায় র্দূগাপুর গ্রামরে র্দূগা সরেন এর ছেলে নয়ন সরেন (২৫) নিহত হন। ১৭ ডিসেম্বর অঞ্চলিক মহাসড়কের চন্ডিপুর চক্ষু হাসপাতালের সামনে মটর সাইকেলের ধাক্কায় ইসলামপাড়ার মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে নাজমা বেগম নিহত হন। ১৯ ডিসেম্বর শিক্ষিকা স্ত্রীকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্বামী রিফাজ উদ্দিন মন্ডল নিহত হন। ২০ ডিসেম্ববর চাঁদপুর পেট্রোল পাম্পের দক্ষিণে কার্ভাট ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মৃত গফুর উদ্দিনের ছেলে আঃ সালাম (২৮) নিহত হন। ২২ ডিসেম্বর পৌরশহরের ঢাকামোড় যমুনা ব্যাংকের সামনে ১০ চাকা ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে উপজেলার কোচগ্রামের মৃত তাইজুল ইসলামের ছেলে তারেকুজ্জামান চৌধুরী (৩৯) নামে একজন নিহত হন। ২০২৪ সালের ২১ জানুয়ারি বছরের প্রথম দুর্ঘটনা ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালক ট্রাকের চাপায় মৃত্যু ঘটে দিনাজপুর সদর উপজেলার রবিউল ইসলাম।
বিরামপুর হাট (বাজার) করতে আসা গোলজার হোসেন বলেন, ভ্যানে করে হাটে এসেছি বিরামপুর ঢাকামোড়স্থ বঙ্গবন্ধু মোড়ালের সামনে ভ্যানচলক নামিয়ে দেয় সামনে যাবে না বলে। যানবহনের কারণে সামনে যেতে পারছি না। ২০ মিনিট পর রাস্তা পার হতে পেরিছি। এখানে ট্রাফিক পুলিশ নেই। এভাবে চলাচল করলে র্দুঘটনা ঘটতে পারে।
পথচারী শফিকুল বলেন,শহরে সব সময় আসতে হয়। এখানে এলে রাস্তা পারাপারে খুবই সমস্যায় পড়তে হয়। এখানে একটি ট্রাফিক পুলিশ প্রয়োজন।
স্কুল ছাত্র রবিউল ইসলাম বলেন, স্কুলে যাওয়ার সময় ঢাকামোড়ে কমবেশি প্রতিদিনই যানজটে পড়তে হয়। ট্রাফিক পুলিশ থাকলে হয়তো এমন যানজটে পড়তে হতো না।
বিরামপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার জানান, সড়ক-মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে নছিমন, ভটভটি ট্রাকটর ও ইজিবাইকসহ বেপেরোয়া গতিতে অবৈধ যানবাহন চলাচল করা । এটি বন্ধ করতে হবে। এটা না করতে পারলে দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে না।
তিনি আরো বলেন, মহাসড়কে অবৈধ যান বন্ধ করতে না পারলে দুর্ঘটনা কমানো যাবে না। থানা পুলিশ সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সাধ্যমতো চেষ্টা করছে।

















