চলছে বিশ্ব ইজতেমার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
২৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:৪৪ পিএম
ছবি- সংগৃহীত।
গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে ৫৭তম বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ইজতেমাকে সফল করতে চলছে প্রস্তুতির কাজ। ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে আয়োজকরা বলছেন, প্রায় ৫০ লাখ লোকের সমাগম হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে।
সরেজমিন ইজতেমা মাঠ ঘুরে দেখা যায়, টঙ্গীতে ১৬০ একর জায়গায় বিশাল সামিয়ানা টাঙানোর কাজ প্রায় শেষ। তুরাগ নদে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তৈরি করছেন পল্টুন ব্রিজ। যা দিয়ে সাময়িকভাবে মুসল্লিরা এপার থেকে ওপারে যাতায়াত করতে পারবেন। বিশাল ময়দানে জেলা অনুযায়ী খিত্তাভিত্তিক চলছে মাইক বাঁধা এবং বৈদ্যুতিক তার ও বাতি টাঙানোর কাজ।
এছাড়া গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ১২টি উৎপাদন নলকূপে ১২ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হবে। প্রায় ৮ হাজার অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে। ময়দানের চাহিদা মোতাবেক ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ ও ২৫টি ফগার মেশিনে মশক নিধনেরও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিবারের মতো নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। দেশি-বিদেশি মেহমানদের যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেই চেষ্টাও করে যাচ্ছেন মুসল্লিরা।
ইজতেমার মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য টঙ্গীর তুরাগ নদের উপরে ৬টি ভাসমান সেতু তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর ৫টি নির্মাণ করছে সেনাবাহিনী আর একটি তৈরি করছে বিআইডব্লিউটিএ।
মূল মঞ্চের কাছে গিয়ে দেখা গেছে, স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বেশ কিছু মুসল্লি মূল মঞ্চটি তৈরি করছেন। সু’উচ্চ এ মঞ্চটিতে দেশ বিদেশের বরেণ্য আলেমগণ বয়ান পেশ করবেন। আর সেসব বয়ান বিভিন্ন ভাষায় তরজমা করে প্রচার করা হবে এ মঞ্চ থেকেই।
আগামী ২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের বার্ষিক মহাসম্মেলন বিশ্ব ইজতেমা। আগত মুসল্লিরা জেলাওয়ারী খিত্তায় অবস্থান করবেন। প্রতি বছরের মতো এবারও উর্দু ভাষায় বয়ান করা হবে এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসল্লিদের সুবিধার্থে বয়ানের সঙ্গে বাংলা ও আরবি ভাষায় তরজমা করা হবে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, দু’পর্বের ইজতেমা সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। এজন্য বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি। আগামী ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। ৪ দিন বিরতি দিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে ৩ দিনের দ্বিতীয় পর্ব।

















