আমরা সরকার বা দেশ বিরোধী নয়- হেফাজত আমীর

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৯:৪৩ পিএম


আমরা সরকার বা দেশ বিরোধী নয়- হেফাজত আমীর

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।


কারাগারে যাব, গ্রেপ্তার হব, ফাঁসিতে ঝুলবো, তবুও সত্য কথা বলব, উগ্র হিন্দু ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে হবে, কাদিয়ানিকে কাফের ঘোষণা করতে হবে। হেফাজতে ইসলামের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন আমীরে হেফাজত, হাটহাজারী  মাদরাসার শায়খুল হাদীস ও শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। তিনি বলেন, আল্লামা মামুনুল হকের ছবিতে যারা প্রশ্রাব করেছে তাদের উপর লা'নত। আমরা বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসি, ভাস্কর্য যদিও আমার বাবার হয় সেটাকেও ভেঙ্গে ফেলে দেব।

 

শুক্রবার (২৭নভেম্বর)মাগরিবের পর হাটহাজারী পার্বতী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে বৃহত্তর চট্টলার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি ও সেবামূলক সংগঠন 'আল আমিন সংস্থা'র ব্যবস্থাপনায় শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ রহ., আল্লামা শাহ মুহাম্মাদ তৈয়ব রহ., ও আল্লামা ইদ্রীস রহ. এর জীবন, কর্ম ও অবদান শীর্ষক আলোচনা ও ঐতিহাসিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিল সমাপনী দিনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন। আল আমিন সংস্থার নেতৃবৃন্দ মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ'র সঞ্চালনায় শুক্রবার বাদ জুমা মাওলানা মুফতী জসীম উদ্দীনের উদ্বোধনী আলোচনার মাধ্যমে সমাপনী দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। তিনি আরো বলেন, আওয়ামীলীগ-বিএনপির মধ্যে কোন লড়াই নেই,শুক্রবারের জুমার নামাজে তারাও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে। আওয়ামিলীগ বিএনপি পরস্পরের মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন হয়,মুসলমান হিসেবে সকলেই ভাইভাই। কিন্তু আস্তিক আর নাস্তিক কখনো এক হতে পারে না। বিশ্বজুড়ে চলা আস্তিক আর নাস্তিকের এ লড়াইয়ে নাস্তিকদেরকে দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে।

 

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন মদীনার সনদে দেশ চলবে। প্রধানমন্ত্রীর এ কথার সাথে সহমত পোষণ করছি। আমরাও চাই মদীনার সনদে দেশ চলুক। এই দেশ আমেরিকার সনদে চলতে পারে না,রাশিয়ার সনদে পারে না,ভারতের সনদে চলতে পারে না,ফ্রান্সের সনদে চলতে পারে না। ৯০% মুসলিম অধ্যুষিত এই বাংলাদেশ মদীনার সনদেই চলবে। মদীনার সনদে দেশ চললে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে, সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে,সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে ওঠবে। এ সনদের আলোকেই পৃথিবীতে আদর্শ ইসলামি সমাজ ও আন্তর্জাতিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

 

সরকারের উদ্দেশ্যে আমীরে হেফাজত আল্লামা বাবুনগরী বলেন বলেন, আমরা আপনার দুশমন নই, আপনার আশপাশে ঘাপটি মেরে থাকা রাম-বাম আর নাস্তিক মুরতাদরাই আপনার প্রকৃত দুষমন। তারা আপনাকে ইসলামের বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে তৌহিদি জনতা ও আপনার মধ্যে দূরত্ব তৈরী করতে চায়। ওদেরকে চিহ্নিত করুন। হেফাজতে ইসলামের কোন ভূমিকা সরকারের বিরুদ্ধে নয়। আমরা সরকার বা দেশবিরোধী নই। ইসলাম, মুসলমান। দেশ ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী আমরা। আমরা বাতিল ও নাস্তিক মুরতাদ বিরোধী, কোন দল বা পার্টির বিরুদ্ধে নই। ইসলাম বিরোধী অপশক্তি, এবং রাসুলের দুষমন নাস্তিক মুরতাদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের ভূমিকা  ছিলো,আছে থাকবেই থাকবে।

 

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আরো বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কোন পার্টি বা দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে না। হেফাজতে ইসলাম আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল (সা.) এর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। হেফাজতে ইসলাম সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, ঈমান- আকিদা ভিত্তিক একটি  সংগঠন। মসজিদের ইমাম মুসল্লিগণ,মাদরাসা,স্কুল কলেজ,ভার্সিটির ধর্মপ্রাণ ছাত্র- শিক্ষক ও দেশের সকল পরহেজগার মুসলমান হেফাজতের কর্মী ও সদস্য। ফ্রান্স বিষয়ে তিনি বলেন,রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রাসূল সা. এর অবমাননা করে চরম অপরাধ করেছে ফ্রান্স।  

 

রাসূলের দূষমন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো যতক্ষণ পর্যন্ত বিশ্বমুসলিমের কাছে ক্ষমা না চাইবে তাদের পণ্য আমরা বর্জন করবো। তাদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। নবীপ্রেমিকের এই বাংলাদেশে ফ্রান্সের দূতাবাস থাকতে পারে না। নবীজি সা. এর অবমাননার প্রতিবাদ হিসেবে বাংলাদেশে ফ্রান্সের দূতাবাস বন্ধ করতে হবে। কুরআনের মাহফিল বন্ধ করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করা হচ্ছে।  দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করা হচ্ছে। সারা দেশে নির্বিঘ্নে ওয়াজ মাহফিলের পরিবেশে তৈরী করে দিতে হবে। ভবিষ্যতে  কুরআনের কোন মাহফিলের উপর হস্তক্ষেপ করা হলে এর পরিণতে শুভ হবে না। কুরআনের মাহফিল বন্ধ হলে তৌহিদি জনতা দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলতে বাধ্য হবে।

 

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ, কুশপুত্তলিকা দাহ করা,শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. কে রাজাকার ডাকার কড়া সমালোচনা করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, দেশের একজন শীর্ষ স্থানীয় আলেম মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে এসব অবমাননা সহ্য করা হবে না। অনতিবিলম্বে এসব ঘৃণ্য কর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে। একজন নায়বে নবী আলেমকে নিয়ে এমন ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড কখনো মেনে নেওয়া যায় না।

 

মাওলানা মামুনুল হককে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাহফিলে বাঁধা দেওয়ার প্রতিবাদে আজ বায়তুল মুকাররম চত্বরে তৌহিদি জনতার বিক্ষোভ মিছিলে লাঠিচার্জের তীব্র জানিয়ে আমীরে হেফাজত আল্লামা বাবুনগরী বলেন, তৌহিদি জনতার উপর এমন লাঠিচার্জ বড়ই দুঃখজনক। বিক্ষোভ মিছিল থেকে গ্রেফতারকৃতদের আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে মুক্তি না দিলে পরামর্শ সাপেক্ষে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কারো সাথে আমাদের শত্রæতা নেই। হক্কানি ওলামায়ে কেরাম যা বলেন একমাত্র ইসলামের জন্যই বলেন,দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব শান্তিশৃঙ্খলার জন্য বলেন। ইসলাম শান্তির ধর্ম,আমরা দেশে শান্তিশৃঙ্খলা চাই। ৯০% মুসলমানের এই দেশে যারা ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে চায় তাদের ব্যাপারে সরকারকে সজাগ ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন আমীরে হেফাজত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

 

আরো পড়ুন: মালয়েশিয়ায় হত্যার শিকার হ্যাপির লাশ সিরাজগঞ্জে পৌছে দাফন সম্পন্ন

 

আল আমিন সংস্থার সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেপুরী, মাওলানা নোমান ফয়জী, মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলাম, মাওলানা জাফর আহমদ এর ধারাবাহিক সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত তাফসীর মাহফিলে আরো আলোচনা করেন, মাওলানা মুফতী মুস্তাকুন্নবী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সিরাজি,মাওলানা ইয়াকুব ওসমানী, মাওলানা আব্দুচ্ছমি মাওলানা মুফতী রাশেদ, মাওলানা ইসমাঈল খান, মাওলানা আনিসুর রহমান প্রমুখ।

 

Ads